জানুয়ারি শেষে বাড়তে পারে দৈনিক সংক্রমণ, ওয়ার্ক ফ্রম হোম সহ নয়া নির্দেশিকা জারি দিল্লিতে
জানুয়ারি শেষে বাড়তে পারে দৈনিক সংক্রমণ
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত ক্রমেই বেড়ে চলেছে। একাধিক রাজ্যে তৃতীয় ওয়েভের জেরে দৈনিক সংক্রমণ যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার ওপর আবার ওমিক্রনের চোখ রাঙানি। দেশের মধ্যে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের করোনা কেস ঘুম উড়িয়েছে কেন্দ্রের। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ এক সূত্র জানিয়েছে যে জানুয়ারির শেষের দিকে দিল্লিতে দৈনিক করোনা কেস ৫৮ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামগ্রিক লকডাউনের পথে না গিয়েও ক্রমশ কড়াকড়ির পথে হাঁটছে অরবিন্দ কেজরিবালের দিল্লি সরকার

প্রসঙ্গত, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জেরে দিল্লিতে উচ্চ সংক্রমণ দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এমনকী গত বছর এপ্রিল–মে মাসে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জেরে যে বিধ্বংসী দ্বিতীয় ওয়েভ এসেছিল তার চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে সংক্রমণ। সূত্রের খবর, করোনা কেস ঠেকাতে দিল্লি–এনসিআর এলাকায় ধীরে ধীরে বিধি–নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যার মধ্যে সপ্তাহ শেষে জাতীয় রাজধানীতে হওয়া কার্ফুর সময়ে মেট্রো ও বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লির হাসপাতালগুলিতে ভর্তি ৭৫ শতাংশ কোভিড রোগী ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত এবং গত সপ্তাহে হাসপাতালগুলিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। তবে এঁদের মধ্যে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভারের সমস্যা সহ একাধিক রোগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর (ডিডিএমএ) মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর অফিসগুলিতে নতুন করে বিধি–নিষেধ আরোপ করেছে। মঙ্গলবার ডিডিএমএ–এর প্রকাশিত নির্দেশে বলা হয়েছে যে নতুন কোভিড নিয়মানুযায়ী সব বেসরকারি অফিসের কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন (ওয়ার্ক ফ্রম হোম)। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার অফিসগুলিকে এই বিধি–নিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ডিডিএমএ শহরের সব রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার সুবিধার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং করোনা ভাইরাস কেসের তীব্রতার দিকে নজর দিয়ে পানশালাগুলিও বন্ধ রাখতে বলেছে। বলা হয়েছিল, খাবার কিনে তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খেতে হবে। চালু থাকবে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা। তবে এখনও সামগ্রিক লকডাউন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে দিল্লিতে বাড়তে থাকা করোনা কেস চিন্তা বাড়াচ্ছে তবে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার দ্বিতীয় ওয়েভের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছে যে ওমিক্রনের ফলে যে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে তাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত বোঝার সৃষ্টি হবে পরবর্তী কালে।
সোমবার রাজধানী দিল্লিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজারের বেশি। যা রবিবারের তুলনায় কিছুটা কম। সোমবার রাজধানীতে সংক্রমণের হার ছিল ২৫ শতাংশ। যা গত ৫ মে-র পর সর্বোচ্চ। একদিনে দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এই পরিস্থিতিতে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না দিল্লি সরকার।












Click it and Unblock the Notifications