বিজেপির জনবিরোধী ভাবমূর্তির আঁচ নীতীশ শিবিরেও, বিহারবাসীর রায় কি তবে বিরোধী শিবিরেই?
বিজেপির জনবিরোধী ভাবমূর্তির আঁচ নীতীশ শিবিরেও, বিহারবাসীর রায় কি তবে বিরোধী শিবিরেই?
ইতিমধ্যেই বিহার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশনের। এমতাবস্থায় শেষ মহূর্তের নির্বাচনী প্রচারে ফাঁক রাখতে চাইছে না শাসক বিরোধী কোনও পক্ষই। এনডিএ শিবির বা শাসক শিবিরে আসন সমঝোতা নিয়ে বোঝাপড়ার অভাব দেখা দিলেও আসন্ন নির্বাচনে এনডিএ শিবিরে নীতীশ কুমার ছাড়া কোনও মুখই যে নেই তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন সকলে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেমন হতে পারে জেডিইউ-বিজেপি যৌথ লড়াই ?

কেমন ছিল ২০১৫ সালের বিধানসভা ভোটের রসায়ন ?
এদিকে এবারের নির্বাচন সংখ্যাগরিষ্ঠ লাভের ক্ষেত্রে শাসক বিরোধী কোনও পক্ষই যে বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না বারবার বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই জন্য বারবার ২০১৫ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের উপরেও জোর দিচ্ছেন তারা। যদিও সেই সময় জেডিইউ-আরজেডিকে একসাথে জোট বেঁধে ভোটে লড়তে দেখা গেলেও গত তিন বছর আগেই পাশার দান উল্টেছে। এমতাবস্থায় বিজেপির সাথে হাত মিলিয়েই ভোটে লড়তে চলেছে নীতিশ শিবির।

জেডিইউকে ভাবাচ্ছে চিরাগ কাঁটা
এদিকে ২০১০ সালেও একি সমীকরণ দেখা গিয়েছিল বিহারে। যদিও আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে এখন যে ভাবে চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপিকে চাপ সৃষ্টি করতে দেখা গেছে তখনই সেই সমস্যা এতটা তীব্রতর হয়নি। ২০১০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনই নিজেদের দখলে রেখেছিল বিজেপি-জেডিইউ জোট।

২০১০ সালে মোট আসনের ৮৫ শতাংশ গিয়েছিল বিজেপি-জেডিইউ জোটে
প্রসঙ্গত উল্লেখ ২০১০ সালে মোট আসনের ৮৫ শতাংশ বিজেপি-জেডিইউ জোটে গেলেও মোট ভোটের ৪০ শতাংশের কম এসেছিল তাদের ঝুলিতে। ১০২টি আসনের মধ্যে লড়াই করে ৯১টিতে জিতেছিল বিজেপি। একক লড়াইয়ে ওই আসন গুলির মধ্যে মোট ভোট পেয়েছিল ৩৯.৫ শতাংশ। সেখানে ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জেডিইউ জিতেছিল ১১৫টি আসন। ভোট পেয়েছিল ৩৮.৭৭ শতাংশ।

কেমন ছিল ২০০৪ সালের লোকসভা ও ২০০৫ সালের বিধানসভা ভোটের সমীকরণ ?
এদিকে প্রতি ভোটেই বড় ফ্যাক্টর হিসাবে উঠে এসেছে এলজেপি-কংগ্রেসও। এদিকে বিহারে মোট ভোটের প্রায় ১৭ শতাংশই দলিত ভোটার। এই বিশালাকার ভোটব্যঙ্কও এবারের ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এদিকে ২০০৪ সালের লোকসভা ও ২০০৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-এলজেপি যৌথ লড়াইয়ে এই দলিত ভোটের বড় অংশই যায় তাদের ঝুলিতে।

সংখ্যালঘু ও দলিত ভোটেও বড় ছাপ কংগ্রেসের
এদিকে এর আগেই একাধিক নির্বাচনেও লালুপ্রসাদের আরজেডির জোট সঙ্গী হিসাবে দেখা যায় কংগ্রেসকে। যদিও কোনও নির্বাচনেই তারা সব কটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনি। যদিও সংখ্যালঘু ও দলিত ভোটেও বড়সড় ছাপ ফেলে কংগ্রেস। একইভাবে মোট ভোটারের একটা বড় অংশের সমর্থন যায় সিপিআই ও সিপিআই(এম)-র দিকেও।

বিজেপির জনবিরোধী ভাবমূর্তির আঁচ নীতীশ শিবিরেও
এদিকে ২০১০ সালের ভোটে জেডিইউ-বিজেপির ভালো ফলের পিছনে নীতীশ কুমারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও লালুপ্রসাদের জন বিচ্ছন্নতাকেও দুষেছেন রাজনৈতিক মহল। কিন্তু তারপরে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল। বর্তমানে লালুপ্রসাদ জেলে থাকলেও বিজেপির জনবিরোধী ভাবমূর্তির আঁচ লেগেছে নীতীশের গায়েও। সিএএ, কৃষিবিলের হাত ধরে কালিমালিপ্ত হয়েছে জেডিপি-বিজেপি শাসক জোটও। এমতাবস্থায় বিহারের মানুষের রায় কোন দিকে যায় এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications