বিজেপির নজরে জনজাতি ভোট, ‘জোড়া ফলা’কে সামলে কঠিন লড়াই জিততে তৈরি রণকৌশল
বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি টি্প্রামোথার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের নাম মুখেও আনেননি। আদিবাসী ভোটকে টার্গেট বিজেপির।
বিজেপির জোটসঙ্গী আইপিএফটির ভোটে থাবা বসিয়ে ত্রিপুরায় জনজাতি এলাকার জখল এখন নিয়ে নিয়েছে টিপ্রামোথা। বিজেপিও তাই চেয়েছিল টিপ্রামোথার সঙ্গে জোট করে ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে জিততে। কিন্তু সেই জোট আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুরো জোটসঙ্গীকে নিয়েই যুদ্ধে নেমেছে গেরুয়া শিবির।

জনজাতি এলাকার ভোট পেতে টার্গেট
এই অবস্থায় বিজেপি টার্গেট করছে জনজাতি ভোটকে। জনজাতি ভোটকে নিজেদের পালে টানতে তাঁরা হাতিয়ার করছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এসে বলে যান জনজাতি এলাকায় আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে। আর অমিত শাহও প্রচারে এসে জনজাতি এলাকার ভোট পেতে নিশানা করেন টিপ্রামোথাকে।

বিজেপির মূলত লড়াই টিপ্রামোথার সঙ্গে
বিজেপি এবার ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পাহাড়ি জনজাতি এলাকাকে। এখানে তাদের মূলত লড়াই টিপ্রামোথার সঙ্গে। টিপ্রামোথাকে হারাতে বিজেপি পাহাড়ি এলাকার প্রচারে অমিত শাহ ছাড়াও নরেন্দ্রো মোদীকেও আনছে। সোমবার অমিত শাহ প্রচার করে যাওয়ার পর মঙ্গলবার রোড শো করতে আসছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

একদিকে বাম-কংগ্রেস, অন্যদিকে টিপ্রামোথা
বিজেপি এবার ত্রিপুরায় প্রবল চাপে রয়েছে। একদিকে বাম-কংগ্রেস জোট, অন্যদিকে টিপ্রামোথার সঙ্গে তাদের লড়াই। সমতলে বাম-কংগ্রেস তাদের লড়াই দিতে প্রস্তুত। আর পাহাড়ি এলাকায় বিজেপিতে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে টিপ্রামোথা। ফলে জোড়া ফলায় বিজেপির হাঁসফাঁস অবস্থা। এই অবস্থা থেকে বেরোতে বিজেপি বাধ্য হয়েছে ছোট্ট ত্রিপুরা দখল করলে মোদী বা শাহের মতো হেভিওয়েটদেরও প্রচারে নিয়ে আসতে।

বিজেপির ডোর টু ডোর প্রচারে জোর
শুধু বড় বড় জনসভা নয়, রোড শোও নয়, বিজেপি চাইছে বেশি করে জনজাতি এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছতে। এবার ত্রিপুরা দখল করতে জনজাতি ভোট যে তাদের কাছে মস্তবড় ফ্যাক্টর হবে, তা বুঝে গিয়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছতে চাইচে তারা। বিজেপি বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে এসে ডোর টু ডোর প্রচারে যাবেন।

আদিবাসী ভোটকে টার্গেট করেছে বিজেপি
ত্রিপুরায় ভোট প্রচারে এসে জেপি নাড্ডা আদিবাসী তাস খেলে গিয়েছেন। তিনি জানান, আজ আমাদের কাছে গর্বের বিষয় য়ে আমাদের রাষ্ট্রপতির নাম দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেছেন, ৭০ বছর ধরে আদিবাসীদের কথা কেউ ভাবেনি, ভেবেছে একমতা্র বিজেপি। তাই আমাদের ৮ জন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে করা হয়েছি। এমনকী বাজে আদিবাসী সমাজের জন্য বরাদ্দও ৪ গুণ বাড়ানো হয়েছে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের লড়াইয়ে বিজেপির সুবিধা
ত্রিপুরায় ভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিজেপি। সেইমতো জেপি নাড্ডা, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথরা সভা করেছেন, সভা করতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এবার ত্রিপুরায় প্রেস্টিজ ফাইটে বিজেপি জিততে চাইছে যে কোনও প্রকারে। অমিত শাহ সোমবার এসে বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি টি্প্রামোথার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের নাম মুখেও আনেননি। ত্রিপুরায় এবার ৬০টির মধ্যে ২৮টি আসনে লড়ছে তৃণমূল। তৃণমূল ত্রিপুরায় লড়াই করায় বিজেপির সুবিধা হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications