মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা পুনর্দখলের পথে বিজেপি! কমলনাথের পদত্যাগে মসনদে ফের শিবরাজ
ফ্লোর টেস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই হার স্বীকার করে নিয়ে বিজেপির পথ আরও মসৃণ করে দিয়েছিলেন কমলনাথ। ফ্লোর টেস্টে হার নিশঅচিত জেনে আগেভাগেই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন কমলনাথ। আর এর সাথেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ১৫ মাসের বিরতির পর ফের মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখলে আসতে চলেছে শিবরাজ সিং চৌহানের।

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কগ্রেস ত্যাগ
মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের সূত্রপাত ঘটে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কগ্রেস ত্যাগে। সিন্ধিয়া দল ছাড়তেই তাঁর অনুগামী হিসাবে পরিচিত ২২ বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছিলেন। তবে সেই সব ইস্তফা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে টালবাহানা দেখা গিয়েছিল। তবে ২২ জনের মধ্যে ৬ জন বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণ করেছিলেন অধ্যক্ষ। বাকি ছিলেন ১৬। অবশ্য সুপ্রিম নির্দেশের চাপে সেই বাকি বিধায়কদের ইস্তফাও গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। আর এরপরই কংগ্রেসের সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়।

জ্যোতি বিদায়ে কংগ্রেস ছাড়ে ২২ বিধায়ক
বিজেপির পথে যে তিনি পা বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন। এদের সকলেরই পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি বলে মনে করা হচ্ছে।

নাড্ডার ছেলের বিয়েতে শিবরাজের চাল
জানা যায় হোলির কয়েকদিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য। সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেখানেই নাকি শিবরাজ সিং চৌহান মধ্যপ্রদেশের এই অস্থির অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবগ করেছিলেন। যার পর জ্যোতিরাদিত্যর বিজেপিমুখী হওয়ার রাস্তা আরও প্রসরিত হয়। পাশাপাশি কমলনাথের দিনও ঘনিয়ে আসতে থাকে।

আস্থা ভোট নিয়ে নাটক
এরপরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিজেপির ১০৬ জন বিধায়ক দাবি করেন যে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আস্থা ভোট করে নতুন সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হোক। এরপরই রাজ্যের রাজ্যপাল বিধানসভার অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন আস্থা ভোটের জন্য। তবে কোরনা ভাইরাসের কারণ দেখিয়ে তা দশ দিন পিছিয়ে দেয় কংগ্রেস। তবে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম নির্দেশে আস্থা ভোট এগিয়ে আনতে হয় তাদের। এই পরিস্থিতিতে ফ্লোর টেস্টের আগেই পদত্যাগ করেন কমলনাথ।

পদত্যাগ নিয়ে কী বললেন কমলনাথ
কমলনাথ বলেন, 'বিজেপি মধ্যপ্রদেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল ১৫ বছর। সেই জায়গা দাঁড়িয়ে আমি মাত্র ১৫ মাস সুযোগ পাই রাজ্যের জন্য কাজ করার। তবে এই ১৫ মাসেই সারা রাজ্য ও গোটা দেশ জানতে পেরে গিয়েছে বিজেপি কিরকম ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে। আমাদের সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই তারা আমাদের সরকার ফেলতে উদ্যত হয়েছিল।'












Click it and Unblock the Notifications