প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতেই প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল রামলালার বিগ্রহে, নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল অযোধ্যায়
ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল রাম মন্দিরের রামলালার মূর্তিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়েই সেই ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের সমাপ্তি হল। গোটা দেশ সাক্ষী থাকল সেই মাহেন্দ্র ক্ষণের। অযোধ্যায় নতুন যুগের সূচনা হল।
অভিজিৎ মুহূর্তে ৮৬ সেকেন্ডের মধ্য রামলালার মূর্তিতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। দ্বাদশীর দিনে শুভক্ষণে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১১ দিন ধরে তার জন্য কঠোর ব্রত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

একেবারে ঘড়ি ধরে হয়েছে সব অনুষ্ঠান। অযোধ্যার মন্দিরে পা রাখার আগে তিনি রামজন্মভূমি চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করেন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন অযোধ্যায়। তারপরে একে একে সব অনুষ্ঠান নিপুনভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রাণপ্রতিষ্ঠার যজ মান হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গর্ভগৃহে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করেন। হাতে ছিল একটি রুপোর চাঁদোয়া।
তারপরে মন্দিরের ভেতরে মোহন ভাগবতকে সঙ্গে নিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। চক্ষুদানের সংকল্প করেন প্রধানমন্ত্রী। তাপরে পদ্মফুল দিয়ে রামলালার পায়ে পুস্পার্ঘ দেন তিনি। সেসময় হেলিকপ্টারে করে রাম মন্দিরের উপরে ফুলের বৃষ্টি করা হয়। অযোধ্যায় রামলালা বালক বেশে পুজিত হবেন। পুস্পার্ঘ্য দেওয়ার পর সংকল্প করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপরে পদ্মফুল দিয়ে পুস্পাঞ্জলি দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর সঙ্গে পুস্পাঞ্জলি দেন মোহন ভাগবত, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, এবং উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় রাম লালার বিগ্রহে। সেই সঙ্গে মন্দিরের বাইরে রামনাম হচ্ছিল। সঙ্গে ভজন গাওয়াও চলছিল। পুস্পাঞ্জিলর পর কর্পুরের আরতি করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সঙ্গে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতও আরতি করেন।
এরপর তিনি ফল উৎসর্গ করেন রামলালাকে। তারপরে পঞ্চ প্রদীপে রামলালার আরতি করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কাঁসর ঘণ্টা সহযোগে রামলালার আরতি করেন তিনি।প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় আবেগে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোনার গয়না সোনার মুকুটে ৫ বছরের রামলালাকে সাজানো হয়েছিল রাজার বেশে। মাথায় হিরের তিলক। কালো পাথরের তৈরি রামলালার মূর্তির সামনেই রাখা হয়েছে অযোধ্যার পুরনো রামলালার মূর্তি। যে মূর্তিটিকে গত ৭২ বছর ধরে পুজো করা হয়েছে। গতকাল রাতে সেই মূর্তিটিকেও মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার কালো পাথরের বিগ্রহের সামনে বসানো হয়। সেটাতেই নিত্য পুজো করা হবে। যাতে ভক্তরা রামলালার দর্শন দূর থেকে পান সেকারণেই বড় কালো পাথরের মূর্তি বসানো হয়েছে মন্দিরের গর্ভগৃহে।
রামলালার হাতে রয়েছে সোনার তীর-ধনুক। ঠিক ঘড়ি ধরে দুপুর ১টার সময় সম্পন্ন হয় পুজোর যাবতীয় আচার। সোনার পাতে মোড়া গর্ভগৃহের বেদি। তার উপরে অধিষ্ঠান করছেন রামলালা। রাঘব রূপে পুজিত তিনি। ৫ বছরের বালক। মূর্তিটি তৈরি করেছেন কর্নাটকের মাইসোরের শিল্পী। ৩০০০-র বেশি উপহার এসেছে রামলালার জন্য গর্ভগৃহের দরজাও সোনার পাতে মোড়া। এমনকী মন্দিরের ৪২টি দরজা সোনার পাত দিয়ে মোড়া রয়েছে। অযোধ্যায় আজ থেকে ফের রাম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হল।












Click it and Unblock the Notifications