মণিপুর হিংসায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু: সক্রিয় অমিত শাহ দফায় দফায় শান্তি বৈঠকে
মণিপুর জ্বলছে। হিংসার আগুনে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এই অবস্থায় এতদিন নিস্ক্রিয় থাকার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাঙ ইম্ফলে গিয়েছেন। সেখানে তিনি একাধিক বৈঠক করবেন। মণিপুরে শান্তি স্থাপনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কী কী ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা সিনিয়র নেতা ও আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে মণিপুরে পৌঁছন। তারপর তিনি মণিপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একাধিক বৈঠক করছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মণিপুরে গিয়েছেন চার দিনের দীর্ঘ সফর। প্রথম দিনেই তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা এবং গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান তপন ডেকাকে নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার চারদিনের মণিপুর সফরে ইম্ফলে আসার পরই উত্তর-পূর্বের রাজ্যে নতুন করে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এই বৈঠকে মণিপুরের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন তিনি। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেই ব্যাপারে পরিকল্পনা সারেন।
১ জুন পর্যন্ত মণিপুরে অবস্থান করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি কয়েক দফা নিরাপত্তা বৈঠক করবেন। মণিপুরে পুলিশ অফিসার-সহ পাঁচজন নিহত হওয়ার কারণে বিজেপির এক বিধায়কের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। রবিবার মণিপুর রাইফেলস এবং আইআরবি-র অস্ত্রাগার থেকে এক হাজারেরও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুঠ করা হয়েছে।

রাজ্যে সম্মিলিত কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী গত ৪৮ ঘন্টায় রাজ্যে ৩০টিরও বেশি সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিকে গুলি করেছে৷ খবেইসোইতে সপ্তম মণিপুর রাইফেলস, দেউলাহানে দ্বিতীয় মণিপুর রাইফেলস এবং থৌবালের তৃতীয় ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের অস্ত্রাগার থেকে জনতা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুঠ করেছে বলে খবরে প্রকাশ।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার কাদাংবন্দ এবং নিকটবর্তী সিংদা এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গি ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ চলছে। মণিপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা চলেছে। জঙ্গিরা শনিবার গভীর রাতে কাকচিং জেলার সুগনুর কাছে তিনটি গ্রামে ২০০টিরও বেশি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মণিপুরের কুকি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও মিজোরামের সিএসও-র একটি গোষ্ঠীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বৈঠকের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মণিপুরে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য গৃহীত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন, যা দুটি জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসাশ্র্য়ী সংঘর্ষের প্রত্যক্ষ করেছে। এরপর তিনি এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শাহ আশ্বাস দেন, সরকার রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেবে এবং সমস্ত দলগুলির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া ও ন্যায়বিচার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। শাহ ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করারও জোর দিয়েছেন, যাতে জনগণের দুর্ভোগ কম হয়।












Click it and Unblock the Notifications