পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকা ও বিয়ের মাপকাঠি ঠিক কী? আদালতের রায়ে বড় ধাক্কা মামলাকারী পরিবারগুলির
কেউ প্রাপ্ত বয়স্কদের তাদের পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে বা তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী বিয়ে করতে বাধা দিতে পারে না। কারণ তা ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারের বিরোধী।
বিচারপতি জেজে মুনির এবং অরুণ কুমার সিং দেশওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ পারিবারিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করা এক দম্পতির আবেদনের সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছে। গত সাত জুনে রায়ে দম্পতি পালিয়ে যাওয়ার পরে আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর আত্মীয়ের দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলা বাতিল করেছে।

আদালত বলেছে, আবেদনকারীরা একে অপরকে বিয়ে না করলেও, কেউ একজন প্রাপ্ত বয়স্ককে তার পছন্দের কোথাও যেতে তার পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে, বা তার ইচ্ছা অনুযায়ী বিয়ে করতে বাধা দিতে পারে না।
আদালতের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ বছর বয়সী এক মহিলা বিচারকের সামনে বলেছিলেন, তাঁর আত্মীয়ের দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা এবং তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকায় তাঁকে খুনের হুমকিও দেয়া হয়। ওই মহিলা নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও আদালত ওই মহিলাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠাতে বিচারকের রায়ের সমালোচনা করেছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ককে এইভাবে অন্যের হেফাজতে পাাঠানো যাবে না কিংবা তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যাবে না বলে এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছে, বিচারক ওই মহিলাকে খুনের হুমকি দেওয়ার জন্য আত্মীয়ের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দিতে বাধ্য। হাইকোর্ট বলেছে, ওই মহিলার নিরাপত্তার জন্য বিচারকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এব্যাপারে হাইকোর্টের ব্যাখ্যা এই ধরনের বিষয়ে অনার কিলিং পরিচিত ঘটনা। হাইকোর্ট আরও বলেছে, কোনও নাগরিক ভিন্ন মত পোষণ করার জন্য অন্যকে হত্যা করতে পারে না। আর মানুষের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
ওই মহিলাকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়াও হাইকোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওই মহিলার কোনও ক্ষতি হলে পুলিশ অফিসারদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications