Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শুনেছিলেন বহু কটাক্ষ, কিন্তু বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি ভুল ছিলেন না

বছর শেষের শেষ লগ্নে ভারতের রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ মনমোহন সিং। ২০০৪ থেকে ২০১৪, মোট ১০ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডঃ মনমোহন সিং। তবে তাঁর এই সময় সীমায় তাঁকে কম কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেমন? সেই পরীক্ষা তাঁকে দিতে হয়েছে আজীবন কাল। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়েও আবার প্রাক্তন হওয়ার পরও, বারে বারে পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন এই শান্ত স্বভাবের মানুষটি। তাই তো গতবছরও এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "আমার প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে আমার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই"।

২০১৪ সালে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষের দিকে, মনমোহন সিং বলেছিলেন, "ইতিহাস আমার কাছে মিডিয়ার চেয়ে বেশি দয়ালু হবে"। এটি এমন একটি সময়ে তিনি বলেছিলেন, যখন তিনি "দুর্বল প্রধানমন্ত্রী" আখ্যায়িত হওয়ার পর আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।

এই বছরের এপ্রিলে, ৯১ বছর বয়সী মনমোহন সিং সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। ৩৩ বছর রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এই মানুষটি। অথচ এবারও লোকসভা নির্বাচনের আগে, তাঁকে শুনতে হয়েছে "মৌনি বাবা" তকমা। আর সেটাও এসেছিল তৃতীয় মেয়াদে জয়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তারপরও নীরব নেতা পাল্টা কোনও জবাব দেননি।

কেননা তিনি মনে করতেন, ক্ষমতাসীন পক্ষ এবং বিরোধী দলের মধ্যে 'তিক্ততা' সম্পর্কন কখনোই গণতন্ত্রের জন্য "ভাল নয়"। তাই তিনি নিজে নম্র ব্যবহার রাখতেন এবং আশা করতেন বিপরীতে নম্র ব্যবহার পাবেন। কিন্তু বাস্তবিকে কোনও দিনই সেটা তিনি পাননি।

জনজীবনে এমন কিছু ব্যক্তিই বিষয়টি জানেন, যে মনমোহন সিং একমাত্র মানুষ যিনি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর থেকে শুরু করে অর্থ সচিব এবং ইউজিসি চেয়ারপার্সন পর্যন্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তিনি দেশের ফেডারেল সেট-আপ এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের গভীর ধারণার সাথে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানও হন।

এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে অধিষ্ঠিত থাকার পরে, ১৯৯১ সালে পিভি নরসিমহা রাও তাকে "টেকনোক্র্যাট" অর্থমন্ত্রী হিসাবে নিয়ে এসেছিলেন, যখন রাজীব গান্ধীর হত্যার প্রেক্ষিতে হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। এমনকি তার শপথ গ্রহণের আগে, রাও অর্থপ্রদানের একটি গুরুতর ভারসাম্য সংকটের মুখোমুখি হতে দেখেন দেশকে এবং ভারতকে ডিফল্টার হিসেবেও দেখতে পান। সেই সময় রাও কাঠামোগত সংস্কারের দিকে ভারতকে "লাইসেন্স কোটা রাজ" থেকে বের করে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মনমোহন সিং-এর কথাতেই। যার জেরে দেশ খারাপ সময় থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

এই সবই ২০০৪ সালে মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করে তোলে। আসলে সেই সময় প্রধানমন্ত্রী পদে বসার কথা ছিল সোনিয়া গান্ধীর। কিন্তু সোনিয়া গান্ধী সাধারণ নির্বাচনের পরে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে নির্বাচিত হন এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সন হিসাবেও নির্বাচিত হন। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই পদ ছেড়ে দেন মনমোহন সিং-এর জন্যে।

এরপর তাঁর মেয়াদের ১০ বছরে, বহুবার তাঁকে শুনতে হয়, যে সোনিয়া গান্ধী শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদটুকু ছেড়েছেন, আসলে প্রধানমন্ত্রী তিনিই। তাঁর অঙ্গুলীহেলনে চলেন নাকি মনমোহন সিং। এই নিয়ে বিরোধীদের কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি তাঁকে। তারপরও নিজের কাজ করে গিয়েছেন নিঃশব্দে। এমনকি তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় বেশ কয়েকবার পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিলেন - কিন্তু এগিয়ে গিয়ে তা করেননি।

ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের স্থপতি, দেশের একমাত্র শিখ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, মনমোহন সিং। অনেকে বলে থাকেন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল কারণ তিনি সোনিয়ার সেরা বাজি ছিলেন। তার কোনো ব্যক্তিগত কর্মসূচী ছিল না, তার নিজস্ব কোনো নির্বাচনী এলাকাও ছিল না। তাই তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে নাকি সোনিয়ার নিজেরও দাবার দাও দেওয়া ছিল।

আপাতত, এই সবই ইতিহাস। ইতিহাস চর্চা করা ছাড়া, আর কিছু করা যায়না। তবে 'দুর্ঘটনাজনিত প্রধানমন্ত্রী' যে তাঁর মেয়াদের ১০ বছরে দেশের আর্থিক কাঠামোকে বহুবার দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেটা মানেন পক্ষ-বিপক্ষ উভয়েই!

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+