দিল্লি ও ঋষিকেশ এইমস-এ চিকিৎসার খরচে ব্যাপক তফাৎ, কেন এত ব্যয়বহুল ঋষিকেশ এইমস
দিল্লি এইমস-এর তুলনায় ঋষিকেশ এইমস-এ কয়েকগুণ বেশি খরচ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই তফাৎ প্রায় ১৫ গুন পর্যন্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই একটি নির্দেশিকার জারি করে ঋষিকেশ এইমসের এই দাম ঠিক করে
দিল্লি এইমস-এর তুলনায় ঋষিকেশ এইমস-এ কয়েকগুণ বেশি খরচ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই তফাৎ প্রায় ১৫ গুণ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কেন্দ্রের কোনও নির্দেশিকা মেনে নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই একটি নির্দেশিকার জারি করে ঋষিকেশ এইমসের এই দাম ঠিক করেছে বলে অভিযোগ। এদিকে খরচের তারতম্যের এই প্রতিবাদে গত ৩রা নভেম্বর থেকে অনশনে বসেছেন দিল্লির এক সমাজকর্মী।

দিল্লি ও ঋষিকেশ এইমসের মধ্যে খরচের তফাৎ ধরা পড়েছে নানা বিষয়ে। যেমন দিল্লি এইমস-এ নর্মাল ডেলিভারি হয় বিনা খরচে, আর জেনারেল ওয়ার্ড বিনামূল্যে ও প্রাইভেট ওয়ার্ডে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। কিন্তু ঋষিকেশে সেই খরচাই গিয়ে দাঁড়ায় ৭৫০০ টাকায়। একইরকমভাবে দিল্লিতে প্রাইভেট ওয়ার্ডে হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচ যেখানে মাত্র ৮ হাজার টাকা, সেখানেই ঋষিকেশে হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে দিতে হবে ৯৯ হাজার টাকা। ক্যানসারের রেডিওথেরাপির খরচ দিল্লিতে যেখানে ৩ হাজার টাকা, সেটাই ঋষিকেশ এইমস-ে বেড়ে দাঁড়ায়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। একটি বায়োপসি করতে দিল্লি এইমস-এ মাত্র ২৫০ টাকা লাগে, ঋষিকেশ এইমস-এ গেলে সেটাই হয়ে যাচ্ছে ৫১০০ টাকা।

সূত্রের খবর গত ৩রা অক্টোবর, ঋষিকেশ এইমস কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রায় সমস্ত কিছুরই মূল্যবৃদ্ধি ঘটায়। শুধুমাত্র অ্যাডমিশন ফি ও চিকিৎসকের কনসালটেশন চার্জ একই রাখা হয়েছে। দিল্লি এইমস-এ জায়গা না পেয়ে, উত্তরপ্রদেশ ও এনসিআর এলাকার বহু রোগীই ঋষিকেশ এইমস-এ আসেন। কিন্তু সম্প্রতি এই মৃল্যবৃদ্ধির জেরে রোগী আসা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে।
দুই এইমস-এর মধ্যে খরচের এক তারতম্য়ের প্রতিবাদ গত ৩রা নভেম্বর থেকে অনশনে বসেছেন দিল্লির এক সমাজকর্মী প্রবীণ সিং। তাঁর অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সুবিধে করে দিতেই ঋষিকেশ এইমস এই ধরনের কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্রের ফিনান্স কমিটির কোনও অনুমোদন ছাড়াই ঋষিকেশ এইমস কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে চিকিৎসার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এবিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও নির্দেশিকাও নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ঋষিকেশ এইমস-এর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হরিশ থাপিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা বলা হয়েছে, আগামী মার্চ মাস থেকেই নতুন চালু হওয়া ৬টি এইমস কেন্দ্রের প্রোজেক্ট ইউনিটের কোনও সাহায্য পাবে না। এই এইমসগুলিকে স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের ব্যয়ভার বহন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এবার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করা হবে। সেকারণেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এবিষয়ে রবিবারই একটি বৈঠকে ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন হরিশ থাপিয়াল।












Click it and Unblock the Notifications