প্রতিবেশী রাজ্যে কাজে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত বসিরহাটের সাত শ্রমিক
মৃত্যু যে কীভাবে আসে তা কেউ বলতে পারে না। রাস্তার পাশে গাড়ি রেখেই বিশ্রাম করছিলেন। কিন্তু হঠাত করে যে বড় ডাম্পার যে তাদের গাড়িতে ধাক্কা মারবে তা কল্পনাতেও তাঁরা ভাবতে পারেনি।
মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলার সাত শ্রমিকের। ওড়িশার জাজপুরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে। আর সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বসিরহাটের সাতজনের। মৃত্যুরা সবাই স্থানীয় মাটিয়া থানার ধান্যকুড়িয়া বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছানো মাত্র শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা গ্রাম।

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে প্রশাসনের আধিকারিকরা। এমনকি গিয়েছেন পুলিশের আধিকারিকরা। দেহ ফেরানোর তোড়জোর শুরু হয়েছে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে খবর, ওই গ্রামের সাতজনই কাজের সূত্রে ওড়িশায় গিয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে একসঙ্গে ওই সাত শ্রমিক একটি গাড়িতে করে প্রতিবেশী ওই রাজ্যের দিকে রওনা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সে রাজ্যের একটি পোলট্রি ফার্মে কাজের জন্যেই তাঁদের ওডিশাতে যাওয়া হয় বলে খবর। আর সেই যাওয়ার পথেই ওড়িশার জাজপুর জেলার ধর্মশালা থানার চণ্ডীপুরে জাতীয় সড়কে একটিও ডাম্পার তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে বলে খবর।
রাস্তার পাশেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে ওই সাত শ্রমিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িতেই ছিলেন ওই সাত শ্রমিক। ডাম্পারের আচমকা ধাক্কায় একেবারে দুমড়ে মুচড়ে যায় ওই গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই সাত শ্রমিকের। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এলাকার মানুষজন। তাঁরাই প্রথম উদ্ধারকাজে নামে বলে খবর।
এরপর ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় ধর্মশালার পুলিশ আধিকারিকরা। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারনা, ভোররাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই সাত শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ২৭ এর মধ্যে বলে জানা যাচ্ছে। মৃত্যু ওই সাতজনের নাম আমজাদ আলি সর্দার, জাহাঙ্গির সর্দার, করিম সর্দার, আমিরুল সর্দার, আরিফ সর্দার, টিঙ্কু সর্দার, সুরজ সর্দার বলে জানা যাচ্ছে। সুরজ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে খবর।
ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলার শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। মাঝে মধ্যেই মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। যদিও প্রশাসনের তরফে বারবার বাংলায় থেকে কাজের কথা বলা হয়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীও এই বিষয়ে আবেদন করেছেন বহুবার। কিন্তু পেটের খিদে কি সেই কথা শোনে! আর তাই বাড়তি রোজগারের আশায় ভিন রাজ্যে যায় গ্রামের ছেলেরা।
তবে সামনেই দোল। রঙের উতসব। আর সেই উতসবের আগে গোটা এলাকা একেবারে শশ্মানের স্তব্ধতা নেমে এসেছে।












Click it and Unblock the Notifications