দিল্লি পুরসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, ৬৭ জন প্রার্থী তুলে নিলেন মনোনয়ন
দিল্লি পুরসভা নির্বাচনে ৬৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলে নিলেন,
দিল্লির পুরসভা নির্বাচনের মনোয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে ৬৫ জন প্রার্থী নিজেদের নাম তুলে নিয়েছে। ১৯ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল। ৪ ডিসেম্বর দিল্লির পুরসভা নির্বাচন হবে। দিল্লি পুরসভা নির্বাচনে ১৩৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গিয়েছে।

মনোনয়ন প্রত্যাহার ৬৭ জন প্রার্থীর
দিল্লির রাজ্য নির্বাচন কমিশনর তরফে জানানো হয়েছে, ৫৫ জন নির্দল প্রার্থী ও বিএসপির ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলে নিয়েছে। ৬৭টি জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৪ জন পুরুষ প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে ১৩৪৯ জন প্রার্থী দিল্লির পুরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারমধ্যে ৭০৯ জন মহিলা রয়েছেন। দিল্লির পুরসভা নির্বাচনে, বিজেপি, কংগ্রেস ও আপের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। দিল্লি পুরসভার মোট ২৫০টি ওয়ার্ড রয়েছে। দিল্লি পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল ৭ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে।

কেজরিওয়ালের প্রতিশ্রুতি
দিল্লির পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি আপ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েছে। আপ সরকারের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে। এই নির্বাচন আপ ও বিজেপির জন্য যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লির পুরসভা নির্বাচনে হেরে গেলে তার প্রভাব আপ সরকারের ওপর পড়বে। কারণ পুরসভার জয় দিল্লির সরকারকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। একদিকে যখন বিজেপি আপ সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ করেছে, ঠিক সেই সময় আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীকে ১০টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীকে শহরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নত রাস্তা, শেষ ল্যান্ডফিল সাইট এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি পুরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

দিল্লি সরকারের ক্ষমতা সীমিত
দিল্লি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল। এখানে দিল্লি সরকারের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। মূলত দিল্লির ক্ষমতা তিন ভাগে বিভক্ত। দিল্লি সরকারের নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ এবং জল সংক্রান্ত একাধিক দফতর রয়েছে। ইন-শৃঙ্খলা, জমি এবং আমলাতন্ত্র সবই দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মূলত কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। দিল্লির পৌরসভা স্যানিটাইজেশন, বর্জ্য নিষ্পত্তি, বিল্ডিং, রাস্তা এবং অন্যান্য দফতরের দায়িত্বে রয়েছে।

দিল্লি পুরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব
আপ যদিন দিল্লি পুরসভার দায়িত্ব পায়, সেক্ষেত্রে দিল্লি সরকারের পাশাপাশি পুরসভার অধীনে থাকা একাধিক দফতর আপের অধীনে চলে যাবে। এরফলে আপ দিল্লির অর্ধেক ক্ষমতার অধিকারী হবে। অন্যদিকে, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, সেক্ষেত্রে লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়ন্ত্রাধীন দফতরের পাশাপাশি পুরসভার দফতরগুলো বিজেপির হাতে চলে যাবে। ২০১৭ সালের দিল্লির পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছে। বর্তমানে আপের হাতে দিল্লির এক তৃতীয়াংশ ক্ষমতা রয়েছে। বিজেপির হাতে দুই তৃতীয়াংশ ক্ষমতা রয়েছে। দিল্লি পুরসভা বিজেপি ও আপ উভয়ের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications