Manipur Violence: হিংসার আগুনে ধ্বংস বাড়ি থেকে ফুটবল অ্যাকাডেমি, আতঙ্কে ভারতীয় দলের ফুটবলার
Manipur Violence: বিগত কয়েকমাস ধরেই হিংসার আগুনে জ্বলছে মণিপুর। দফায় দফায় গোষ্ঠী সংঘর্ষ, গুলির লড়াই আর স্বজন হারানোর কান্না উত্তর পূর্বের রাজ্যটির এটাই এখন চেনা দৃ্শ্য। ভয়ে, আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। বহু বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতোই হিংসার শিকার হয়েছেন ভারতীয় দলের ফুটবলার চিংলেনসানা সিংয়ের পরিবার।
রাজ্য জুড়ে চলা হিংসার আগুনে তাঁর বাড়ি থেকে শুরু করে নিজের হাতে তৈরি করা অ্যাকাডেমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। খেলার সূত্রে হায়দরাবাদে থাকেন মণিপুরী এই ফুটবলার। রাজ্যে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিবারকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় তাঁর।

মাসখানেক আগে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে উঠেই দুঃসংবাদটা পান চিংলেন। জানতে পেরেছিলেন মণিপুরের হিংসার আগুন তাঁর বাড়ি থেকে শুরু করে নিজের হাতে তৈরি করা অ্যাকাডেমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। অনেক কষ্ট করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর পরিবার কোনও মতে একটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয়।
বহু চেষ্টার পর ২৭ বছরের চিংলেনসানা তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই সময় বন্দুকের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন হায়দরাবাদ এফসি-র ফুটবলার। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন মা-বাবার কাছে যাবেন। একটুও দেরি করতে চাননি।

চিংলেনসানা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জনিয়েছেন, "আমার বাড়ি মণিপুরের চুরাচাঁদপুরে। মণিপুরের হিংসা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। চুরাচাঁদপুরে আমি একটা ফুটবল মাঠ ও অ্যাকাডেমি বানিয়েছিলাম, সেটাও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"
কিন্তু সেই সময় তাঁর বাবা-মা কেমন ছিলেন? চিংলেনসানা বলেন, "অ্যাকাডেমি বাঁচাতে না পারলেও, বাবা-মা ঠিকঠাক ছিলেন। এক পরিচিত ওঁদের রক্ষা করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যায়। আর একটু দেরি হলে আরও অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত।"
অনেক স্বপ্ন নিয়ে এবং স্থানীয় ফুটবলারদের সাহায্য করতে একটি মাঠ ও অ্যাকাডেমি বানিয়েছিলেন ভারতীয় দলের ফুটবলার। কিন্তু হিংসার ঘটনায় সব কিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় শুধু হতাশই নন একইসঙ্গে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ভারতীয় দলের এই ফুটবলার।

মণিপুরী ফুটবলারের কথায়, 'কেউ যদি পেশাদার ফুটবলার হতে চায়, তাকে সেই জায়গাটা করে দিতে চেয়েছিলাম। আগামী দিনে তারা হয়তো ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে পারত। দেশের সেরা ফুটবলার হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু এই ঘটনায় সব শেষ। আমার থেকে সব কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আমি চাইব নতুন করে শুরু করতে।'
তাঁর বাড়ি, গ্রাম, তরুণ ফুটবলারদের তৈরি করার স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধু পরিবার বেঁচে রয়েছে। হিংসা থামুক দ্রুত, শান্তি ফিরুক মণিপুরে, এটাই প্রার্থনা চিংলেনসানা সিংয়ের।












Click it and Unblock the Notifications