ঘরের মাঠে ফের লজ্জার হার রোনাল্ডোদের! ইপিএল ডার্বিতে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কাছে পরাস্ত ম্যান ইউ
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে এনে চমক দিয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। হৃতগৌরব ফেরার আশা করতে শুরু করেছিলেন ম্যান ইউ ভক্তরা। কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছে ম্যান ইউ। আক্রমণভাগে রোনাল্ডোকে বল বাড়ানোর লোকের যেমন অভাব তেমনই দুর্বল ডিফেন্স। সবমিলিয়ে টানা পরাজয়ে চাপ বাড়ছে ম্যান ইউ ম্যানেজার ওলে গানার সলশেয়ারের উপর।

দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইপিএলে ঘরের মাঠে পরাজিত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। লিভারপুলের কাছে হারতে হয়েছিল ০-৫ গোলে। আর এদিন পড়শি সিটির কাছে ০-২ গোলে পরাজয় সেই যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিল। এই ম্যাচের আগে ম্যান ইউ ম্যানেজার বলেছিলেন, ম্যাঞ্চেস্টারের বড় দল এখনও ইউনাইটেডই। কিন্তু খেতাব দখলের লড়াই-ই হোক বা বল দখলের আধিপত্য, পাস বাড়ানো, সব কিছুর নিরিখেই গুয়ার্দিওলার সিটির সমকক্ষই নয় এখন ম্যান ইউ। সমর্থকরাও তাই সলশেয়ারকে বিদ্রুপ করতে পিছপা হচ্ছেন না। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ঐতিহ্যের সঙ্গে যা বেশ বেমানান।

এদিন শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে থাকে ম্যান সিটি। প্রথম ১৫ মিনিটে প্রায় ৭৩ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিল গুয়ার্দিওলার দল। সাত মিনিটে ক্যান্সেলোর ক্রস থেকে আত্মঘাতী গোল করে বসেন এরিক বেইলি। দাভিদ দে হেয়ার অনবদ্য কিছু সেভ ম্যান সিটিকে গোলমুখ খুলতে দেয়নি। কিন্তু ৪৫ মিনিটে বার্নান্দো সিলভার গোলের সুবাদে বিরতিতেই সিটি এগিয়ে গিয়েছিল ২-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ ম্যান ইউ। তারই মধ্যে দাভিদ দে হেয়ার সেভ আর ভাগ্য সদয় থাকায় পরাজয়ের ব্যবধান আর বাড়েনি। ফিল ফডেনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সারা ম্যাচে ম্যান সিটি ৬৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। এতেই বোঝা যায় কতটা দাপট নিয়ে খেলেছে তারা।

এই পরাজয়ের পর ওলে গানার সলশেয়ারকে সরানোর দাবিও জোরালো হতে শুরু করেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও নির্বিষ দেখিয়েছে, সতীর্থরা তাঁকে বল সরবরাহ করতে না পারায়। ম্যান সিটির আক্রমণের সামনে রীতিমতো কাঁপুনি ধরেছিল ম্যান ইউ ডিফেন্সে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ম্যানেজমেন্ট না বদলালে ম্যান ইউ-র ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভবই নয়। রোনাল্ডো নিজেও বোধ হয় ম্যান ইউ-র দুর্বল রক্ষণ দেখে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য আক্ষেপ করছেন। তিনি যদি ম্যান সিটিতে যেতেন তাহলে এই ম্যাচে তো গোল করতে পারতেনই, গোল করার জন্য হা-হুতাশ করতে হতো না। ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ইপিএলের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিটি, চেলসির পরেই। পাঁচে রয়েছে ম্যান ইউ, ১১ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে। লিভারপুলের পর সিটির কাছে পরাজয়ে বাকি ম্যাচে জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গিয়েছে ম্যান ইউ সমর্থকদের কাছে।












Click it and Unblock the Notifications