ফিফা বিশ্বকাপে টিকিট অ্যাপে বিভ্রাটে সমস্যা, ইরানের হারেও কেন খুশি ফুটবলপ্রেমীরা?
ফিফা বিশ্বকাপে এবার টিকিট অ্যাপের বিভ্রাট। যার জেরে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হলো ফুটবলভক্তদের। ইংল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে ম্যাচ দেখতে যে সমর্থকরা স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন, অ্যাপ বিভ্রাটের জেরে তাঁদের দর্শকাসনে গিয়ে বসতে দেরিও হয়। এদিনের ম্যাচ মাঠে বসে দেখলেন ইরানের প্রচুর মহিলা।
|
বিশ্বকাপে টিকিট বিভ্রাট
দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এদিনের ম্যাচটি ছিল স্থানীয় সময় বিকেল চারটে নাগাদ। তার ঘণ্টাখানেক আগে থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রচুর ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু ফিফার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে বিভ্রাটের জেরে বিশ্বকাপের ম্যাচ টিকিট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। টিকিট পেতে যে অনেকেরই যে সমস্যা হয়েছে এই বিভ্রাটের জেরে, সে কথা মেনেও নিয়েছে ফিফা। ফিফার যে অ্যাপ থেকে ফুটবলপ্রেমীরা টিকিট কেটেছিলেন, সেই সময় ই-মেলের ইনবক্সে যে মেল গিয়েছিল সেটি দেখাতে বলা হয় ফিফার তরফে। যাঁদের মেল খুলতে সমস্যা হচ্ছিল তাঁদের সহযোগিতা করে পরিস্থিতি সামাল দেয় স্টেডিয়ামের টিকিট রেজলিউশন পয়েন্ট।
|
ইরান থেকে মহিলারা কাতারে
ইরানে মহিলাদের স্টেডিয়ামে খেলা দেখার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে কারণে কাতারে পৌঁছে অনেকেই পাচ্ছেন মুক্তির স্বাদ। হিজাববিরোধী আন্দোলনের জেরে এই মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ ইরান। অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছেন। হিজাব খোলায় দুই অভিনেত্রী গ্রেফতারও হয়েছেন। এই আবহেও কাতারে ইরানের খেলা দেখতে প্রচুর মহিলা সমর্থক হাজির হয়েছেন। প্রথম দিনে অবশ্য তাঁদের হতাশই হতে হলো। ইংল্যান্ড এদিন ৬-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ইরানকে। দেশে চলতে থাকা আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ফুটবলাররা এদিন জাতীয় সংগীতের সময় গলা না মিলিয়ে প্রতিবাদীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
|
মুক্তির স্বাদ
২৭ বছরের মারিয়াম সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, আমি কোনওদিন মাঠে বসে ফুটবল খেলা দেখতে পারিনি। তাই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করিনি। মারিয়াম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তবে অন্য অনেকের মতেই দেশে শাসকদের রোষে পড়ার আশঙ্কায় পদবি জানাতে চাননি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হিজাব না পরার দায়ে গ্রেফতার হওয়া মাহসা আমিনির মরালিটি পুলিশের হেফাজতেই মৃত্যু হয়। পুলিশি অত্যাচারেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে ইরানে চলছে হিজাববিরোধী আন্দোলন। যদিও ইতিমধ্যেই চার শতাধিক আন্দোলনকারীও নিহত হয়েছেন।
|
সমর্থনে দ্বিধাবিভক্ত
মারিয়ামের মতো বিশ্বকাপ দেখতে কাতারে যাওয়া অনেকেই বলছেন, আমরা আশা রাখি হিজাব পরা বা না পরার বিষয়ে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে। সেটাই হবে প্রতিবাদকারীদের বড় জয়। তারপর ইরানের মহিলাদের স্টেডিয়ামে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক, সেটাই চাই। প্রতিবাদ-আন্দোলনে রাশ টানতে, জমায়েত এড়াতে ইরানে সমস্ত ফুটবল ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতারে বিশ্বকাপে ইরানের যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের টি শার্টে লেখা ছিল "Woman, Life, Freedom", কেউ আবার নিহত মহিলা আন্দোলনকারীদের নাম লেখা টি শার্ট পরেছিলেন। আমিনি নিহত হন ২২ বছর বয়সে, ম্যাচের ২২ মিনিটের মাথায় তাই অনেকে আমিনির নাম ধরে চেঁচিয়ে ওঠেন। ইরানকে সমর্থনের বিষয়েও অনেকেই দ্বিধাবিভক্ত। ইরানের রাস্তায় যাঁরা জীবন বিপন্ন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এবং মহিলাদের স্টেডিয়ামে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফিফা ইরানকে বিশ্বকাপে নামার অনুমতি না দিক, চেয়েছিলেন অনেকেই। তাই কয়েক মাস আগেই যাঁরা ইরানের জয় চাইতেন, তাঁরা চাইছেন সব ম্যাচেই ইরান হারুক। ইরানের ফুটবল দল এদিন জাতীয় সংগীত না গেয়ে প্রতিবাদকারীদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন। তাতে কিছুটা ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। ফলে ইরানের মহিলা ফুটবলপ্রেমীরাও চাইছেন, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াক তাঁদের দেশ।












Click it and Unblock the Notifications