Emiliano Martinez: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কলকাতায় এসে উচ্ছ্বসিত, বিশ্বকাপ জিতেই 'বাজপাখি'র পায়ে নতুন ট্যাটু
Emiliano Martinez: আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এখন কলকাতায়। কাল ও বুধবার তাঁর বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে শহরে। বাংলাদেশ হয়ে আজ বিকেলেই কলকাতায় পৌঁছেছেন মার্তিনেজ।
আজ বাংলাদেশে তিনি দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। দমদম বিমানবন্দরে মার্তিনেজকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস।

মার্তিনেজ কলকাতায় এসে পৌঁছতেই তাঁকে সবুজ-মেরুন উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয় মোহনবাগানের তরফে। ক্লাব সচিব দেবাশিস দত্ত উপস্থিত ছিলেন। মার্তিনেজকে দেখার জন্য বিমানবন্দরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন মার্তিনেজ।
তিনি বলেন, ভারতে আসার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর কলকাতায় এসে খুবই উত্তেজিত। খুবই ভালো লাগছে। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাইপাসের ধারের একটি হোটেলে। সেই হোটেল থেকেই ঢিল ছোড়া দূরত্বে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে তাহাদের কথা অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের নানা কাহিনি শোনাবেন মার্তিনেজ।

মার্তিনেজকে এই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এরপর বিকেলে তিনি হাজির হবেন মোহনবাগান মাঠে। কলকাতা পুলিশের ফ্রেন্ডশিপ কাপে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির থাকবেন। এ ছাড়া মোহনবাগানের কর্মসমিতির সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হবেন। মোহনবাগান ক্লাবে গেট উদ্বোধন করবেন মার্তিনেজ। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে মোহনবাগান রত্ন স্মারক।
তবে সকালে নিয়ম মেনে জিম করবেন মার্তিনেজ, সে কথা ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্তকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন মার্তিনেজের ম্য়ানেজার। কলকাতার একটি নামকরা রেস্তরাঁর বাঙালি পদ তৈরি রাখা হয়েছে মার্তিনেজের জন্য। তিনি সেই সব খাবারের স্বাদ যাচাই করে দেখতে পারেন।
মার্তিনেজ বুধবার যাবেন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে। মন্ত্রী সুজিত বোসের উদ্যোগে সেখানে দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি বসানো রয়েছে। তাতে মালা দিতে পারেন মার্তিনেজ। সেখান থেকে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের ক্লাব সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন মার্তিনেজ। স্পনসরদের আরও কিছু ইভেন্ট রয়েছে।

বাংলাদেশে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন মার্তিনেজ। বাংলাদেশে যে আর্জেন্তিনার প্রচুর ভক্ত রয়েছেন সে কথা জানতেন আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী দলের গোলকিপার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় সময় বেলা ২টোয় দেখা করেন মার্তিনেজ। দুজনের কিছুক্ষণ কথাও হয়। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জার্সি উপহার দেন মার্তিনেজ।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা অবশ্য মার্তিনেজের দর্শন পাননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হননি মার্তিনেজ। যে সংস্থা মার্তিনেজের বাংলাদেশের সফর নিশ্চিত করেছিল তাদের অফিসে বাছাই করা কিছু মানুষজন মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা করা, ছবি তোলা, অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ পান। বাংলাদেশ পৌঁছে বাজপাখি শব্দটি রপ্ত করেছেন মার্তিনেজ।
তাঁর ক্ষিপ্রতা দেখে বাংলাদেশে তাঁকে ভক্তরা বাজপাখি বলেন জেনে খুশি হন মার্তিনেজ। তাঁকে পাটের তৈরি নৌকা, বঙ্গবন্ধুর বই ও বাজপাখির স্মারক উপহার দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরফি মোর্তাজাও পুত্র-কন্যাদের নিয়ে গিয়ে মার্তিনেজেক সঙ্গে সাক্ষাৎ সারেন। তাঁর সন্তানরা মার্তিনেজের সঙ্গে ছবি তুলে, অটোগ্রাফ নিয়ে খুব খুশি। বাংলাদেশেই মার্তিনেজ দেখান তাঁর পায়ে আঁকা বিশ্বকাপের ট্যাটু। কোলো মুয়ানির শট পায়ের যে জায়গা দিয়ে রুখে আর্জেন্তিনার বিশ্বজয় নিশ্চিত করেছিলেন, ট্যাটুটি আঁকিয়েছেন সেখানেই।












Click it and Unblock the Notifications