সৌরভের জন্মদিনেই ত্রিপুরা পেল ঋদ্ধিমান সাহাকে, নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কী বললেন পাপালি?
ঋদ্ধিমান সাহা গত শনিবারই সিএবি থেকে নিয়েছিলেন নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। তারপর ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যায় তিনি ত্রিপুরার হয়েই খেলবেন। আজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনেই বাংলার আরেক গর্ব ঋদ্ধিমান সাহাকে নিয়ে বড় ঘোষণা করল ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। আগরতলায় সাংবাদিক বৈঠকে ঋদ্ধিমানকে জনসমক্ষে আনল টিসিএ।

ঋদ্ধিমান ত্রিপুরায়
টিসিএ-র যুগ্ম সচিব কিশোর দাস বললেন, আমরা ঋদ্ধিমানের মতো ক্রিকেটারকে পেয়ে খুবই খুশি। তিনি আগামী মরশুমে ত্রিপুরার হয়ে খেলবেন বলে চুক্তিপত্রে সইসাবুদ সেরেছেন। তাঁর ত্রিপুরার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত রাজ্যের ক্রিকেট পরিকাঠামোর বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে বলেই আশাবাদী টিসিএ। কিশোর দাস বলেন, ঋদ্ধিমান সাহার মতো একজন বাঙালি ক্রিকেটার আমাদের রাজ্যের হয়ে খেলবেন। এটা ত্রিপুরাবাসীর কাছেও খুব ভালো খবর।

প্লেয়ার কাম মেন্টর
ঋদ্ধিমান সাহা ত্রিপুরা দলের প্লেয়ার কাম মেন্টর হিসেবে যুক্ত থাকবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিশোর দাস জানিয়েছেন, ঋদ্ধিমান অন্য দলে খেললে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ পেতেই পারতেন। কিন্তু আমাদের ছোট রাজ্য। সে কথা মাথায় রেখেই ঋদ্ধিমানকে আমরা খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। ঋদ্ধিমান ৩০ লক্ষ টাকায় খেলার জন্য রাজি হয়েছেন। তবে ঋদ্ধিমান ও কিশোর দাস দুজনেই বলেন, অর্থের সঙ্গে পারফরম্যান্সের কোনও যোগ নেই বা প্রভাব পড়বে না। কিশোর দাসের আশা, মা ত্রিপুরেশ্বরীর ভূমিতে খেলেই ঋদ্ধিমান জাতীয় দলে কামব্যাক করতে পারবেন। জাতীয় দলে ডাক পেলে আমরা তাঁকে খেলার জন্য ছেড়ে দেব, সেটাও চুক্তিতে রয়েছে। ত্রিপুরার ক্রিকেটারদের আইপিএলে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারেও ঋদ্ধি প্রোমোট করবেন বলে জানিয়েছে টিসিএ।

নতুন চ্যালেঞ্জ
ঋদ্ধিমান বলেন, আমি সব সময়ই যে দলের হয়েই খেলি না কেন সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। রাহুল দ্রাবিড় আমাকে বলেছিলেন, ভারতীয় দলে আমাকে দরকার নেই। কিন্তু তাঁকে বলেছিলাম, খেলা ভালোবেসেই আমার খেলা শুরু। যতদিন খেলার প্রতি ভালোবাসা থাকবে তা চালিয়ে যাব। আমাকে টিসিএ যে দায়িত্ব দিয়েছে তাতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নেব। আগামাকীল ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা হবে। কী কী হলে ভালো হয় সেটা নিয়েও টিসিএ-র সঙ্গে কথা হয়েছে। বাংলায় আমরা যখন খেলা শুরু করি, তার তুলনায় এখন অনেক উন্নত মানের পরিকাঠামো। ত্রিপুরাতেও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছি। এখানেও অনেক উন্নতি হয়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ত্রিপুরা যথেষ্ট সমীহযোগ্য দল। রঞ্জিতেও যাতে ভালো পারফরম্যান্স করা যায় সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাব।

সম্মান পেয়েছি
ঋদ্ধিমান আরও বলেন, ত্রিপুরায় খেলার আরও একটা বড় কারণ এখানকার ক্রিকেট সংস্থার সকলে আমার প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করেছেন। যেটা বাংলা ছেড়ে আসার সময় পাইনি। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে আমি সব সময় পছন্দ করি। ছোটবেলা থেকেই বেশিরভাগ লোক যে দলকে সমর্থন করতেন আমি করতাম না। আমি অন্য দলকে সমর্থন করতাম, মনে হতো তারা অবহেলিত। ত্রিপুরা অবহেলিত নয়। প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। সকলে মিলে চেষ্টা করলে ভালো কিছু করা সম্ভব। সাফল্যের আশাও করতে হবে।

সৌরভকে নিয়ে
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনেই ত্রিপুরার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হলো ঋদ্ধিমানের। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ঋদ্ধি বলেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভালো মানুষ সকলেই জানেন। আমার নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। চাইব তিনি সুস্থ ও ভালো থাকুন। কাল ত্রিপুরার ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে যেতে পারেন পাপালি। তারপর ফিরে আসবেন কলকাতায়। ঋদ্ধিমান জাতীয় দলে খেললেও যে লো প্রোফাইল বজায় রাখেন, সেই মাটির মানুষ ধরনটিই মন জয় করে নিয়েছে ত্রিপুরার। বাংলায় কী হয়েছে তা ভুলে ঋদ্ধি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাইছেন।
(ছবি- ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন)












Click it and Unblock the Notifications