নবাগত প্রফুল, শাকিবের বোলিং দাপট! রাজস্থানকে ৫৭ রানে হারাল হায়দরাবাদ
আইপিএল ২০২৬-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসকে ৫৭ রানে পরাজিত করেছে। অভিষেককারী প্রফুল হিঙ্গে এবং সাকিব হুসেনের অনবদ্য বোলিং পারফরম্যান্স এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এই ফলাফল সানরাইজার্সের চলমান মরসুমে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান রয়্যালস। জোফরা আর্চার ম্যাচের প্রথম বলেই অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে আউট করে রয়্যালসকে দারুণ শুরু এনে দেন। এরপর ইশান কিষাণ ও ট্র্যাভিস হেড হায়দরাবাদের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যদিও পরে ইশান কিষাণের বিদায়ের পর দলের স্কোর দাঁড়ায় ২১৮/৬।

ইশান কিষাণ ৩০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করে সানরাইজার্সের হয়ে একটি পরিণত ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ট্র্যাভিস হেড ও হেনরিখ ক্লাসেনের সাথে দলীয় স্কোর মজবুত করেন। শেষে নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং সলিল আরোরার কার্যকরী অবদানে সানরাইজার্স ২০ ওভারে ২১৮ রানের বিশাল লক্ষ্য খাড়া করে। নীতীশ রেড্ডি ১৮তম ওভারে ২৪ রান তুলে দলের মোট স্কোর ২২৯-এর কাছাকাছি নিয়ে যান।
২১৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের শুরুটা ছিল বিভীষিকাময়। অভিষেককারী প্রফুল হিঙ্গে নিজের প্রথম ওভারেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে রয়্যালসের টপ-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেন। জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল এবং রিয়ান পরাগকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন হিঙ্গে। ম্যাচের এই পর্যায়ে রাজস্থান মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায়।
এই বিপর্যয়ের পর ডোনোভান ফেরেইরা এবং রবীন্দ্র জাদেজা জুটি বাঁধেন এবং ১২৪ রানের একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তাদের এই জুটি রয়্যালসকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে এবং একসময় জয়ের ক্ষীণ আশা জাগিয়ে তোলে। ফেরেইরা মাত্র ৩১ বলে তাঁর অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যেখানে জাদেজা তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
তবে, সাকিব হুসেনের বোলিং আক্রমণে এই শক্তিশালী জুটি ভেঙে যায়। তিনি ফেরেইরার উইকেট নিয়ে সানরাইজার্সকে বড় ব্রেক থ্রু এনে দেন। এরপর দ্রুতই জাদেজার উইকেটও হারায় রয়্যালস, যা ম্যাচের ভাগ্য প্রায় সিল করে দেয়। শেষ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালস ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়, যার ফলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।
এই ম্যাচটি ছিল পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে থাকা রাজস্থান রয়্যালস এবং তলানিতে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যে। রাজস্থান চলতি মরশুমে টানা চারটি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে ছিল, যেখানে সানরাইজার্স চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল। এই বিশাল জয় সানরাইজার্সের মরসুমের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কিছুটা এগিয়ে ছিল। তারা রাজস্থানের বিরুদ্ধে ১২-৯ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং ২০২৪ সাল থেকে টানা ৪টি ম্যাচ জিতেছে। নিজ মাঠে হায়দরাবাদের রেকর্ডও ছিল ভালো, ৫-১। তবে রাজস্থান সাম্প্রতিক ফর্ম ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে ম্যাচ খেলতে এসেছিল, বিশেষ করে তাদের ওপেনিং জুটি বৈভব সূর্যবংশী এবং যশস্বী জয়সওয়ালের পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত।
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পিচ রিপোর্টে জানা গিয়েছিল যে, নতুন বলে কিছু সুইং এবং বাউন্স থাকতে পারে, তবে একবার ব্যাটসম্যানরা সেট হয়ে গেলে ব্যাট করা সহজ হবে। এদিনের ম্যাচেও তাই দেখা যায়, যেখানে প্রথমে ব্যাট করে সানরাইজার্স বিশাল স্কোর গড়ে তোলে। তবে রাজস্থান সেই রান তাড়া না করতে পেরে ম্যাচ হেরে গেল।












Click it and Unblock the Notifications