Sourav Ganguly Birthday: ছদ্মবেশী সৌরভ, শিখ সেজে সাক্ষী থাকলেন বাবুঘাটে পাড়ার প্রতিমা নিরঞ্জনের
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম দুর্গাপুজো। শারদীয়া উৎসবে সামিল হয় ৮ থেকে ৮০ প্রত্যেক বাঙালি, ব্যতিক্রম নন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। যতই তিনি সেলিব্রেটি হোন বা ক্রিকেট আইকন। পুজোর সময় তিনি পাড়ারই ছেলে। বরিশা প্লেয়ার্স কর্ণারের পুজো পরিচিত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পুজো নামেই। ছোট থেকেই এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দাদা।
দুর্গাপুজোতে আর পাঁচজন পাড়ার বাসিন্দার মতই পুষ্পাঞ্জলি দেন ঠাকুরের আরতি দেখেন দাদা। বড়িশা প্লেয়ারস কর্ণারের পুজোয় ঠাকুর দেখার থেকেও বেশি ভিড় হয় দাদাকে দেখার।ক্রিকেটার জীবনে বা ভারত অধিনায়ক থাকাকালীন অনেক সময় পুজোতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে যে বছরগুলোতে থাকতেন চুটিয়ে উপভোগ করতে পাড়ার পুজো।

কিন্তু তাঁর নাম যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা এমন মাত্রায় পৌঁছায় যে নিরাপত্তার বাড়তি বন্দোবস্ত করতে হয় বীরেন রায় রোডের পুজোতে। একবার পুজোয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় শখ হয় প্রতিমা নিরঞ্জনের সাক্ষী থাকার। তখন তিনি ভারতীয় দলের অধিনায়ক। দশমীর সন্ধ্যায় বাবুঘাটে গঙ্গায় গেলে তাঁকে ঘিরে কি পরিমান উন্মাদনা তৈরি হবে তা ছিল সহজেই অনুমেয়। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে ছিল বিধি নিষেধ।
কিন্তু দাদা যখন একবার ঠিক করেছেন প্রতিমা নিরঞ্জনের সাক্ষী থাকবেন তখন সেটাই চূড়ান্ত। পরিকল্পনা করলেন ছদ্মবেশ ধরেই পাড়া ঠাকুরের শোভাযাত্রার সঙ্গে যাবেন বাবুঘাটের গঙ্গায়। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। সতীর্থ হরভজন সিংয়ের কথা মাথায় আসে মহারাজের।

পরিকল্পনা করেন পাঞ্জাবি সেজেই তিনি যাবেন বাবুঘাটে। যাতে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষ তাঁকে চিনতে না পারেন। দাদার পরিকল্পনা মতই স্ত্রী ডোনা জোগাড় করে দেন একজন মেকআপ আর্টিস্টকে। তিনি মহারাজকে পুরোপুরি শিখ মানুষের সাজে সাজিয়ে তোলেন। চাপ দাড়ি মাথায় পাগড়ি, হাতে বালা, দাদাকে দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি খাঁটি বাঙালি।
দাদা চেয়েছিলেন ঠাকুরের গাড়িতেই গঙ্গার ঘাটে পৌঁছতে। কিন্তু বাধ সাধে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য ভারত অধিনায়ককে অনুমতি দেওয়া হয়নি প্রতিমার সঙ্গে যাওয়ার। নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি করেই দশমীর সন্ধ্যায় বাবুরঘাটে পৌঁছান তৎকালীন ভারত অধিনায়ক।

ঘাটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা আধিকারিক সৌরভকে দেখে মুচকি হাসেন হয়তো চিনতেও পারেন। তখন মহরাজ তাঁকে তার এই ছদ্মবেশে কথা প্রকাশ করতে বারণ করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন দেখে বাড়ি ফিরে আসেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্রিকেট মাছের মতোই হিট দাদার নিরঞ্জন দেখার রণকৌশলও।












Click it and Unblock the Notifications