Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

সিএবির কলঙ্কিত কর্তা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য! অভিযোগ জমার ধারা কতটা ঠুনকো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?

আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সাসপেনশনের মুখে পড়েছেন যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস। যত সময় যাচ্ছে তাঁর সম্পর্কে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা সত্যি হলে ওম্বুডসম্যানের দরবারেও নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করতে পারবেন না দেবব্রত দাস।

সাসপেন্ড হয়ে ইডেন ছাড়়ার সময় দেবব্রত দাস বলে গিয়েছিলেন, ২৩ অগাস্ট ওম্বুডসম্যানের সঙ্গে দেখা করবেন। যদিও গতকাল তিনি ইডেনে আসেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ দাবি করেন, বকেয়া টাকার পুরোটাও নাকি দেবব্রতকে মেটাতে হবে না। তবে সূত্রের খবর, তেমন কিছুই নয়। পুরো টাকাই মেটাতে হবে। এমনকী হাজির হতে হবে ওম্বুডসম্যানের শুনানিতে। কেন না, সাসপেনশনের কথা ওম্বুডসম্যানকে জানিয়েছে অ্যাপেক্স কাউন্সিল।

সিএবির অন্দরে কান পাতলে জানা যাচ্ছে, ক্রিকেটার সৌম্যদীপ মণ্ডলের বাবার থেকে তিন কোটি টাকা নিয়েছেন দেবব্রত। সিএবির প্রাক্তন সভাপতি বা কর্তাদের মূল্যবান উপহার দিতে কাড়ি কাড়ি টাকা তুলেছেন সিএবির অপসারিত যুগ্ম সচিব। কালীঘাট ক্লাবের জনৈক সমীরণ বা মুর্শিদাবাদের জনৈক মিলনের থেকে ৫ লাখ, টাউনে খেলানোর নামে গীত পুরীর বাবার থেকে ৮০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন দেবব্রত। সিএবি অনুমোদিত ক্লাব করিয়ে টুর্নামেন্টে খেলানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদিত্য আকাদেমির থেকে ৫ লাখ টাকা, অমিত গুপ্তর থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। ধর্মেন্দ্র সিংয়ের থেকে ৪ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে আর ফেরানোর নামগন্ধ করেননি দেবব্রত। ভবানীপুরের এক চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারকে তিনি প্রস্তাব দিয়ে জোরাজুরি করেন টাউনে খেললে বাংলা দলে সুযোগ করে দেবেন! এভাবেই পদের অপব্যবহার করে তিনি আর্থিক কেলেঙ্কারি চালিয়ে গিয়েছেন।

সিএবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বললেন, "সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের উপর দেবব্রতর কেন এত রাগ? তার কারণ হলো যাদের খেলানোর নাম করে দেবব্রত দাস টাকা নিয়েছেন তাদের বাংলা দলে ঢোকাতে পারেননি সিএবি সভাপতির নাম স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলে। চাপ দিয়েও লাভ হয়নি। রাজদা দুর্ভেদ্য থাকাতেই দেবব্রত দাস বিপাকে পড়ে যান। তাতেই রাগ। অবশ্য এখন বাঁচতে দেবব্রত দাস ময়দানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বলছেন, রিজাইন করে দেব। কিন্তু কেসটা উইথড্র হোক। দেবব্রত দাসের দিদি উকিল। তিনিও হাইকোর্টের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। যাতে সভাপতিকে অনুরোধ করে কোনওভাবে মামলাটা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়।"

এর মধ্যে আবার অবতীর্ণ হয়েছেন মহাদেব চক্রবর্তী। যিনি ১৪ অগাস্ট অ্যাপেক্সের বৈঠকে ঢুকতে পারেননি। সঠিক তথ্য না দিয়ে যে পুলিশের প্রাক্তন কর্তার বিরুদ্ধে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিএবির সংবিধানে বলা রয়েছে, স্পোর্টস কোটায় চাকরি পাওয়া সরকারি কর্মচারীই একমাত্র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হতে পারেন। আর সেখানেই গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ মহাদেবের ক্ষেত্রে। সেই তিনিই আবার সুব্রত ওরফে বাবলু সাহার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলে সিএবির ওম্বুডসম্যান ও এথিক্স অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগ, সিএবির ফিনান্স সাব কমিটির এই সদস্যের হোটেলে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিল মিটিয়েছে সিএবি।

বিষয়টিকে সুব্রত সাহা গুরুত্ব দেননি। বলেছেন, দরকার হলে যথোপযুক্ত জায়গায় উত্তর দেব। এজিএমের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ সব করা হচ্ছে। আর এরপরই সিএবির একাংশ থেকে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসছে। কেউ কেউ তো বলেই দিচ্ছেন, যিনি নিজেই অভিযুক্ত তাঁর অভিযোগ নিয়ে আর কী বা বলি! ২০২১ সালে যে হোটেলে সিএবিতে বিভিন্ন কাজে আসা জেলার লোকেরা থাকেন সেই হোটেলের কর্ণধারের কথা মনে পড়ল সিএবির এজিএমের আগে? অভিযোগকারী তো পুলিশের কর্তা ছিলেন। কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেওয়ার পর (এখন চুক্তিভিত্তিক কর্মী বলে খবর) জানতে পারলেন? তাছাড়া তিনি অ্যাপেক্স মেম্বার থেকেও এত বছরে এ সব সামনে আনেননি কেন?

মহাদেব কেন আরও বিষয় সামনে আনতে লজ্জা পাচ্ছেন, কোন বাধ্যবাধকতায় সেই প্রশ্নও উঠছে। সিএবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বললেন, সত্যসন্ধী ক্লাবের খোকা বা রুণুদের নিয়েও কিছু লেখা হোক। বছর ১৫ ধরে সিএবিতে তাঁদের গাড়ি চলছে। মিলন সমিতির অশোক দাস আবার দেবব্রত দাসের ভায়রাভাই। তাঁর কোম্পানির গাড়িও তো সিএবিতে চলছে বছরের পর বছর। সিএবির স্টেডিয়াম কমিটির মেম্বার বিবেক ডালমিয়া কিংবা ফ্লাডলাইটের ইনচার্জরা কোথা থেকে প্রতি মাসে বেতন পান সে খবরটাও সামনে এনে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তোলা হবে না?

সূত্রের খবর, ওম্বুডসম্যানের কাছে টিকিট বণ্টন ও ইডেন চত্ত্বরে বিল্ডিংয়ের বিষয়ে কিছু নথি জমা দিয়েছে ন্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাব। এরপর এ নিয়ে শুনানি হবে। বিশ্বকাপের আগে টিকিট না পেয়ে লাইফ মেম্বারদের অভিযোগ ছিল, এনসিসিকে দেওয়া হলে তাঁরা কেন টিকিট পাবেন না? এ বিষয়ে সিএবির সঙ্গে এনসিসির চুক্তির নথি চেয়ে পাঠান ওম্বুডসম্যান। গত বছর সেনাবাহিনীর তরফে ইডেনের লিজ বাড়ানোর সময় জট পাকে একটি বিল্ডিং নিয়ে। সেনার দাবি ছিল, তাদের অনুমতি না নিয়েই ওই বিল্ডিংটি হয়েছে। ময়দান চত্ত্বর যেহেতু সেনার আওতায়, ফলে যে কোনও নির্মাণের জন্য অনুমতি নিতে হয়। জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালে সিএবির টাকা খরচ করেই ওই বিল্ডিং বানায় এনসিসি। এ বাড়ি তৈরির বিষয়ে অনুমোদনের নথিও চেয়ে পাঠান ওম্বুডসম্যান। এনসিসি যা নথি জমা দিয়েছে তাতে চুক্তি সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই বলেই সূত্রের খবর।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+