Ranji Trophy: বাংলা ৮৫! হরিয়ানার কাছে লজ্জার হারে রঞ্জি থেকে বিদায় অনুষ্টুপদের
Ranji Trophy: সৈয়দ মুস্তাক আলি, বিজয় হাজারের পর এবার রঞ্জি ট্রফি থেকেও খালি হাতেই ফিরতে হলো বাংলাকে। সঙ্গী হলো চরম ব্যর্থতা।
আজ কল্যাণীতে তিন দিনেই শেষ হয়ে গেল বাংলা বনাম হরিয়ানা ম্যাচ। গ্রুপের শীর্ষে থাকা হরিয়ানার কাছে বাংলার হার ২৮৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংস শেষ মাত্র ৮৫ রানে।

হরিয়ানা যে উইকেটে দাপট সহকারে গতকাল আর আজ ব্যাটিং করল সেখানে বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ৮৫ রানেই। তাও ২১.৪ ওভারে। মজা করে তাই অনেকে বলছেন, বাংলার ক্রিকেটাররা বোধ হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটিটা মিস করতে চাইলেন না। সে কারণেই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আত্মসমর্পণ!
প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ গতকাল হাতছাড়া করেছিল বাংলা। হরিয়ানার ১৫৭ রানের জবাবে বাংলার প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৪০.২ ওভারে ১২৫ রানে। এরপর আজ হরিয়ানার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৯১.২ ওভারে ৩৩৬ রানে।
নিশান্ত সিন্ধু চারে নেমে ৯২ বলে ৮০ রান করেন। তিনে নামা হিমাংশু রানা করেন ১৩৭ বলে ৭২। সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ২৭.২ ওভারে ৫টি মেডেন-সহ ৯২ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট নেন। সুরজ প্রথম ইনিংসেও ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন।
মহম্মদ শামির ভাই মহম্মদ কাইফ এদিন ২টি মেডেন-সহ ১৭ ওভারে ৫৬ রান খরচ করে নিলেন তিন উইকেট। মুকেশ কুমারের ২৩ ওভারে তিনটি মেডেন, ৯৯ রান দিয়ে তিনি নেন ২টি উইকেট।
টার্গেট ছিল ৩৬৯ রানের। কিন্তু বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ৮৫ রানে। সপ্তম ওভারের শেষ বলে ১৯ রানে পড়ে প্রথম উইকেট। ১১.৩ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ২৯ রানে ৫ উইকেট। ২৪ রানে দ্বিতীয়, ২৬ রানে তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট পড়েছিল। ২৯ রানে পঞ্চম, ৪৬ রানে ষষ্ঠ ও সপ্তম, ৫৩ রানে অষ্টম ও ৬৫ রানে নবম উইকেট পড়ে।
ঋদ্ধিমান সাহা ৩০ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। অঙ্কিত চট্টোপাধ্যায় ওপেন করতে নেমে ৩২ বলে ২১ রান করেন। প্রদীপ্ত প্রামাণিক ১২ ও মুকেশ কুমার ১১ রান করেন। ঋত্ত্বিক চট্টোপাধ্যায় ৩, সুদীপ কুমার ঘরামি ০, অধিনায়ক অনুষ্টুপ মজুমদার ৩ রান করেন।
দশম ওভারের চতুর্থ বলে অঙ্কিত আউট হওয়ার পর নেমে প্রথম বলেই আউট হন অভিষেক পোড়েল (০)। সুরজ ০, রোহিত কুমার ১ ও মহম্মদ কাইফ করেন ৭। অনুজ ঠাকরাল প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নেন চার উইকেট, ৩২ রানের বিনিময়ে।
আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস দলে সুযোগ পাওয়া অংশুল কম্বোজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৯.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২টি মেডেন-সহ ৩৫ রান দিয়ে নিলেন চার উইকেট। অজিত চাহাল ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট দখল করেন।
বাংলাকে জিততে হলে রেকর্ড গড়ে জিততে হতো। কিন্তু যেভাবে কার্যত বিনা লড়াই করে অসহায় আত্মসমর্পণ করল বাংলার ব্যাটিং লাইন আপ তা হতাশাজনক। এবারেও শেষ হয়ে গেল রঞ্জি জয়ের আশা। বাংলার পরের ম্যাচ ৩০ জানুয়ারি থেকে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে, ইডেনে। সেই ম্যাচটি ঋদ্ধিমান সাহার বিদায়ী ম্যাচ।
রঞ্জি ট্রফিতে গ্রুপ সি-তে ৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হরিয়ানা। বাংলার ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট। কর্ণাটক রয়েছে আপাতত দুইয়ে। তাদের ৬ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট। তবে কর্ণাটককে কালই তিনে নামাবে কেরল। কেন না, মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে কেরল সাত রানের লিড নিয়েছিল। এরপর মধ্যপ্রদেশ ৯ উইকেটে ৩৬৯ তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছে। ফলে ম্যাচটি না হারলে কেরল তিন পয়েন্ট পাবে, তাতে তাদের পয়েন্ট হবে ২১।












Click it and Unblock the Notifications