রঞ্জি সেমিফাইনালে ইন্দোরে বাংলার সামনে মধ্যপ্রদেশ, সাফল্যের রহস্য ও স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কী বললেন লক্ষ্মী ও মনোজ?
রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলা। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্দোরে খেলতে হবে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে। অতীত থেকে শিক্ষা ও ভালো স্মৃতি নিয়েই স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছেন লক্ষ্মীরতন ও মনোজ।
রঞ্জি সেমিফাইনাল বাংলা ঘরের মাঠেই খেলতে পারতো যদি না ওডিশার কাছে ইডেনে আকস্মিকভাবে পরাস্ত হতো। তবে যা হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে রঞ্জি ট্রফি জয়কেই পাখির চোখ করছে বাংলা। মনোজ তিওয়ারিদের সামনে আর দুটি হার্ডলস। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্দোরে সেমিফাইনালে বাংলার প্রতিপক্ষ মধ্যপ্রদেশ। রবিবার বাংলা রওনা দিচ্ছে ইন্দোরের উদ্দেশ্যে।

বাংলা রঞ্জি সেমিফাইনালে
আজ ইডেনে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলা ৯ উইকেটে হারায় ঝাড়খণ্ডকে। ধোনির রাজ্যের দলের দ্বিতীয় ইনিংস ২২১ রানে থামিয়ে দেওয়ার পর বাংলার জিততে দরকার ছিল ৬৭ রান। কাজী জুনেইদ সইফি প্রথম ইনিংসে ১ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রান করেন। যদিও অভিমন্যু ঈশ্বরন ৩১ বলে ২৮ ও সুদীপ ঘরামি ৩০ বলে ২৬ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে দেন বাংলাকে। আকাশ দীপ দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি উইকেট পান, ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে তিনিই হয়েছেন ম্যাচের সেরা। আকাশ ঘটক ৭.৫ ওভারে ১ মেডেন-সহ ২১ রানে নেন ৩ উইকেট। আকাশ রঞ্জি অভিষেকের পর থেকেই টিম ম্যানেজমেন্টকে ভরসা দিচ্ছেন। বাঙালি পেসারের উত্থান বাংলার অনূর্ধ্ব ২৫ দলে লক্ষ্মীরতন শুক্লার হাত ধরেই। আকাশের বিশেষ প্রশংসা করেছেন বাংলা কোচ।

আত্মবিশ্বাসী মনোজ
ম্যাচের শেষে বাংলার অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি বলেন, আমাদের লক্ষ্য রঞ্জি জেতা। আগে আমি, লক্ষ্মীদা (লক্ষ্মীরতন শুক্লা) থাকাকালীন বাংলা রানার-আপ হয়েছে। তবে এবার আমাদের জুটিটা ভালোই এগোচ্ছে। ভগবানের আশীর্বাদে ভালো কিছুরই সিগন্যাল পাচ্ছি। আমাদের মানসিকতা, চিন্তাভাবনার খুব মিল। লক্ষ্মীদার খেলে দেখেছি, তাঁর ইনটেনসিটি দেখে নিজেও খেলেছি। টিমের মধ্যে সেই বিষয়গুলিই আমরা ছড়িয়ে দিচ্ছি। আমাদের চিন্তাভাবনা, মাইন্ডসেট চ্যাম্পিয়ন হওয়ারই। তাই সামনে যে প্রতিপক্ষই থাক নিজেদের প্রস্তুতি যাতে সব বিভাগে ঠিক থাকে সেটাতেই ফোকাস থাকে।

ওপেনিংয়ে বদলের ইঙ্গিত
মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে শেষ ৫টি সাক্ষাতে বাংলা তিনটি ম্যাচ ড্র করেছে, দুটি হেরেছে। গত বছর রঞ্জি সেমিফাইনালে বাংলাকে ১৭৪ রানে হারিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ। মধ্যপ্রদেশের ৩৪১ রানের জবাবে বাংলার প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ৫৪ রানে। মনোজ তিওয়ারির ১০২ ও শাহবাজ আহমেদের ১১৬ রানের দৌলতেও বাংলা ২৭৩ রানে অল আউট হয়ে যায়। মনোজ সেই প্রসঙ্গে আজ বলেন, গতবার একটা সেশন খারাপ হওয়ায় পিছিয়ে যাই। তবে সেই শিক্ষা নিয়ে আর যাতে ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেটাই আমরা দেখব। এবার ব্যাটাররা সকলেই রানের মধ্যে রয়েছেন। দল যেভাবে খেলছে তাতে এমপি গাঁট হবে না। আমরা দুর্বলতার কথা বলছি না। বলছি উন্নতির ক্ষেত্র। কাজী ওপেন করতে নেমে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান পাননি। ওপেনিংয়ে এমন ব্যাটার চাই যিনি অভিমন্যু ঈশ্বরনের সঙ্গে বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারবেন। শেষের দুই বা একটি উইকেটে ৩০-৪০ রান বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটাও আটকাতে হবে। প্রতিপক্ষের স্ট্র্যাটেজির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থেকেই আমরা কম্বিনেশন চূড়ান্ত করব।

উত্তেজনা নেই শিবিরে
বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, অনেকটা পথ বাকি। ক্যাপ্টেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্লেয়ারদের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমাদের একই স্ট্র্যাটেজি। ড্রেসিংরুমের ভিতর ও বাইরে যাতে ভালো পরিবেশ থাকে। আগেও সেমিফাইনাল খেলেছি। তাই কারও কোনও উত্তেজনা নেই। যাঁরা এই টিমে নেই তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ। সবমিলিয়ে ভালো আবহ। সেমিফাইনালে আমরা ভালো করব, আশা রাখি। সবারই লক্ষ্য নিয়ে কোনও কনফিউসন নেই। শৃঙ্খলা বজায় রাখায় জোর দিচ্ছি। ড্রেসিংরুম ভালো থাকলে মাঠ ভালো থাকে। মাঠ মনোজ দেখছেন, ড্রেসিংরুম আমি। সঙ্গে ভগবান আছেন। অতীত নিয়ে ভাবছি না। অতীতের ভালো স্মৃতিগুলি নিয়েই আগামীর পরিকল্পনা করতে চান মনোজ।

মধ্যপ্রদেশ বাংলার পরবর্তী প্রতিপক্ষ
সেমিফাইনালে বাংলার প্রতিপক্ষ মধ্যপ্রদেশ। ইন্দোরে হনুমা বিহারীর অন্ধ্রপ্রদেশকে তারা হারিয়েছে ৫ উইকেটে। প্রথম ইনিংসে লিড ছিল অন্ধ্রের। ৩৭৯ রানের জবাবে মধ্যপ্রদেশ তুলেছিল ২২৮। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৩ রানে অন্ধ্রকে গুটিয়ে দেয় মধ্যপ্রদেশ। জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪৫। যশ দুবের ৫৮ ও রজত পাটীদারের ৫৫ রানের দৌলতে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ।

কর্নাটকও শেষ চারে
দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরাখণ্ডকে ইনিংস ও ২৮১ রানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে কর্নাটক। উত্তরাখণ্ড প্রথম ইনিংসে করেছিল ১১৬। কর্নাটক তোলে ৬০৬। শ্রেয়স গোপাল করেছিলেন অপরাজিত ১৬১। জবাবে ২০৯ রানে শেষ হয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। বিজয়কুমার ভিশাক ও শ্রেয়স গোপাল তিনটি করে উইকেট নেন। কর্নাটক খেলবে পাঞ্জাব ও সৌরাষ্ট্র ম্যাচে জয়ীদের বিরুদ্ধে। সৌরাষ্ট্রের ৩০৩ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে পাঞ্জাব করেছিল ৪৩১। সৌরাষ্ট্র দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৩৭৯। ২৫২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে পাঞ্জাবের স্কোর ২ উইকেটে ৫২।
-
চিপকে হার চেন্নাই সুপার কিংসের, সহজেই জিতল শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব কিংস -
বামফ্রন্টের ইস্তেহার প্রকাশ! বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, প্রতি পরিবারে স্থায়ী চাকরি সহ একাধিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা বিমান বসুর -
সীমান্তের ওপার থেকে এবার কলকাতায় হামলার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানি মন্ত্রী খোয়াজা আসিফের -
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: এনডিএ-র বিরাট জয়ের ইঙ্গিত নতুন জনমত সমীক্ষায় -
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ চরমে, গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলা, নিখোঁজ চালক -
অধীর চৌধুরীর প্রচারে উত্তেজনা বহরমপুরে, কংগ্রেস-তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ -
খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলীপ ঘোষের, সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী -
'বাংলাকে বৃদ্ধাশ্রম বানাতে দেব না', বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে উন্নয়নের ডাক লিয়েন্ডার পেজের -
শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় ৩৮ জনকে তলব পুলিশের -
ভোটারদের সুবিধার্থে রাজ্যজুড়ে ৪,৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের -
ইরান যুদ্ধের মাঝেই মাথায় হাত শাহবাজ শরিফের, এপ্রিলেই আমিরশাহীকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ শোধ দিচ্ছে পাকিস্তান -
ডেথ ওভারে অনবদ্য বোলিং করে গুজরাতের বিরুদ্ধে জয় পেল রাজস্থান, টেবল শীর্ষে পরাগ বাহিনী












Click it and Unblock the Notifications