আইপিএলে বেটিংয়ে পাক-যোগ! তদন্তে সিবিআই, কোন সালের ম্যাচগুলি সন্দেহের তালিকায়?
আইপিএলের লিগ পর্ব শেষের দিকে এগোচ্ছে। তারই মধ্যে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তান থেকে আসা নির্দেশ অনুযায়ী আইপিএল বেটিংয়ে যুক্ত কয়েকজন মিলে ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০১৯ সালের আইপিএলই এবার আতসকাঁচের তলায়।

আইপিএল বেটিংয়ে পাক যোগ
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়েই তদন্ত শুরু হয়েছে। এফআইআরে উল্লেখ, সিবিআইয়ের কাছে তথ্য এসেছিল যে, কয়েকজন মিলে ক্রিকেট বেটিংয়ের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তান থেকে আসা ইনপুটের ভিত্তিতে তারা আইপিএলের ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারও করেছে। ইতিমধ্যেই দুটি মামলা শুরু হয়েছে। প্রথম এফআইআরে অভিযুক্তদের জাল নথির ভিত্তিতে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তিনজনের নাম এফআইআরে
প্রথম এফআইআরে অভিযুক্তদের একজন দিল্লির রোহিণীর বাসিন্দা, নাম দিলীপ কুমার। বাকি দুজন হায়দরাবাদের, এই অভিযুক্তদের নাম গুররাম বাসু ও গুররাম সতীশ। তাদের নাম রয়েছে প্রথম এফআইআরে। দ্বিতীয় এফআইআরে নাম রয়েছে সজ্জন সিং, প্রভু লাল মীনা, রাম অবতার ও অমিত কুমার শর্মা। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মীও এই চক্রে জড়িত। তারা ২০১০ সাল থেকে বেটিং চালাচ্ছিল এবং দ্বিতীয় মামলাটির ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রথম এফআইআরে উল্লেখ, ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া বেটিং নেটওয়ার্কটি আইপিএলের ম্যাচের ফল প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষকে বেটিংয়ে প্রলুব্ধ করে প্রতারণাও করেছে। এফআইআরে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ভারতের সাধারণ মানুষের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা রাখা হতো এইসব অ্যাকাউন্টগুলিতে। এমনকী বেটিং চক্রে যুক্ত থাকা বিদেশিদের কাছেও সেই অর্থের অনেকটা অংশ পাঠানো হয়েছে। হাওয়ালা যোগের মাধ্যমেই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে সিবিআই।

চাঞ্চল্যকর তথ্য
বেটিং নেটওয়ার্ক যারা চালাচ্ছিল তারা জাল পরিচয়পত্র ও কেওয়াইসি ডকুমেন্ট ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (mule accounts) খুলেছিল। কোন ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা এ কাজে তাদের সহায়তা করেছিল তাও চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, যেসব পরিচয়পত্র জমা দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছে তাতে একজনেরই নানারকম জন্ম তারিখের উল্লেখ দেখা গিয়েছে। ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা যুক্ত না থাকলে এই অ্যাকাউন্টগুলি খোলা সম্ভবই নয়।
(প্রতীকী ছবি)

দেশজুড়ে তদন্ত
দিলীপ কুমার, গুররাম সিংদের আর্থিক লেনদেনে বেশ কিছু অসঙ্গতিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এই দুজন তাদের সহযোগীদের সঙ্গে পাকিস্তানি ফোন নম্বরে সন্দেহভাজন জনৈক ওয়াকাস মালিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতো বলে জানা যাচ্ছে। দিলীপ কুমারের অবৈধ অ্যাকাউন্টেই ২০১৩ সালের পর থেকে ভারতীয় মুদ্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা জমা পড়ে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। দিল্লি, যোধপুর, জয়পুর, হায়দরাবাদ-সহ দেশজুড়ে শুরু হওয়া তদন্তের জাল এবার কোনদিকে বিস্তার লাভ করে সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও।












Click it and Unblock the Notifications