আইপিএল নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ধাক্কা! কামিন্স, ওয়ার্নার, রাবাডা-সহ একঝাঁক তারকাকে নিয়ে সংশয়
আইপিএলের নিলাম বেঙ্গালুরুতে শনি ও রবিবার। তার আগে প্রত্যাশিতভাবেই ধাক্কা খেল ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। নিলামে কোন ক্রিকেটারদের পাওয়া যাবে তা নিয়ে কেউই নিশ্চিত নয়। তবু সব দলই কয়েকজন ক্রিকেটারকে দলের চাহিদা অনুযায়ী টার্গেট করেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। তবে বিসিসিআইয়ের তরফে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জানিয়ে দেওয়া হলো, পাঁচটি দেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলের প্রথম থেকে পাওয়া যাবে না।

অনিশ্চয়তা বিদেশিদের নিয়ে
আইপিএল এবার ১০ দলের। তাই টুর্নামেন্ট শুরুর দিন এগিয়ে এনেছে বিসিসিআই। শুরু হবে ২৭ মার্চ। কিন্তু তখন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকারা এসে পৌঁছাতে পারবেন না। ইংল্যান্ড ৮ মার্চ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন টেস্টের সিরিজ খেলবে, যা শেষ হওয়ার কথা ২৮ মার্চ। ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের যে সদস্যরা যাঁরা আইপিএল খেলবেন তাঁদের এক জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে আরেক জৈব সুরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সমস্যা না থাকলেও বাধ্যতামূলক নিভৃতবাসে থাকতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের বেশিরভাগই খেলেন সাদা বলের ক্রিকেটে এবং আইপিএলে। তাঁদেরও একই সমস্যা। ফলে জনি বেয়ারস্টো, জেসন হোল্ডারদের নিয়ে চিন্তা থাকছেই।

তারকারা নেই পুরো আইপিএলে
অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার তারকারাও আইপিএলের শুরুর দিকে থাকতে পারবেন না। ১০ দিন থেকে শুরু করে ২ সপ্তাহ অবধি এই ক্রিকেটাররা আইপিএল মিস করতে পারেন। প্যাট কামিন্স, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ-সমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়া দল পাকিস্তান সফরে থাকবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। তারপর ভারতে এসে নিভৃতবাস কাটিয়ে নামতে নামতে কয়েকটি ম্যাচ হয়ে যাবে। কাগিসো রাবাডা, মার্কো জানসেন, আনরিখ নরকিয়ার মতো ক্রিকেটারদেরও সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে যা শেষ হচ্ছে ১১ এপ্রিল। ফলে প্রোটিয়াদেরও প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি ম্যাচে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যদি না ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটারদের আইপিএল খেলার জন্য বিশেষ ছাড় দেয়।

বোর্ডের তরফে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বার্তা
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে বোর্ডের তরফে পাঠানো ই-মেলে জানানো হয়েছে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিসিসিআইকে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার যে ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে লাল ও সাদা বলের সিরিজ দুটোতেই থাকবেন তাঁরা ৬ এপ্রিলের আগে আইপিএল খেলতে আসতে পারবেন না। এখানেই শেষ নয়। মার্চের ৩১ তারিখ থেকে রয়েছে শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনাল। সেটিতে যাঁরা খেলবেন সেই ক্রিকেটাররাও ৫ এপ্রিল আইপিএল খেলার জন্য ছাড়া পাবেন। আইপিএলের পর অস্ট্রেলিয়ার শ্রীলঙ্কা সফরও রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে আইপিএলকে ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশের মঞ্চ মনে করলেও দেশের খেলা ছেড়ে আইপিএল খেলার অনুমতি একেবারেই দেবে না। আইপিএল খেলতে এলেও শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দিতে ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গাদের নক আউট পর্বে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকছে বাংলাদেশ সফর থাকায়।

ভাবনায় নানা সমীকরণ
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেনি। তবে সেই দলে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারদের টেস্ট সিরিজ না খেলে আইপিএলে অংশ নিতে যে ছাড়া হবে না সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডিন এলগার। মার্চের ১৮ থেকে ২৩ তারিখ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলবে বাংলাদেশ। মার্চের ৩০ তারিখ থেকে ১১ এপ্রিল অবধি টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজের জন্য শাকিব আল হাসান আইপিএলের প্রথম থেকে খেলতে পারবেন কিনা জানানো না হলেও শাকিব যে মে মাসের ৮ থেকে ২৩ তারিখ অবধি থাকতে পারবেন না সেটা জানানো হয়েছে। এই সময় বাংলাদেশ দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলবে। এমনও হতে পারে শাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে একদিনের সিরিজে খেললেও টেস্টে খেলবেন না। তবে দেশের মাটিতে খেলবেন। মুস্তাফিজুর রহমান অবশ্য টেস্ট খেলেন না। লিটন দাস, তাস্কিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম যদি আইপিএলে দল পান তাহবে তাঁরা বেশিরভাগ সময়টাই আইপিএল দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। এইসব পরিস্থিতি দেখেই দল গঠন করতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের।












Click it and Unblock the Notifications