শিখর ধাওয়ান প্রকাশ্যে আনলেন ভারতীয় দলের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন! ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে পারে দুটি বিশ্বরেকর্ড
আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ। শিখর ধাওয়ানের নেতৃত্বাধীন দলে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, হার্দিক পাণ্ডিয়া, জসপ্রীত বুমরাহ, ঋষভ পন্থ, ভুবনেশ্বর কুমার, মহম্মদ শামি বিশ্রামে। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না রবীন্দ্র জাদেজা। অনিশ্চিত সিরিজেও। তবু ভালো ফলের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শিখর ধাওয়ান।

সিরিজ জয়ের বিশ্বরেকর্ড
ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে দুটি বিশ্বরেকর্ডও গড়তে চলেছে। ২০০৭ থেকে ২০২২ সাল অবধি ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টানা ১১টি একদিনের সিরিজ জিতেছে। ভারত ছাড়া এমন নজির রয়েছে একমাত্র পাকিস্তানের। পাকিস্তান জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টানা ১১টি একদিনের সিরিজে জয়লাভ করেছে। ফলে এবার ক্যারিবিয়ান সফরে ভারত নিকোলাস পুরাণের দলকে হারালেই এককভাবে গড়বে টানা একদিনের সিরিজ জয়ের নয়া বিশ্বরেকর্ড। ২০০৬ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আর কখনও একদিনের সিরিজ হারেনি ভারত।

অপর নজির আজ?
আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সুবিধা করতে না পারলেও বিগত কয়েক বছর ধরেই দাপট নিয়েই সে দেশে খেলে টিম ইন্ডিয়া। ক্যারিবিয়ান সফরে ভারত ২৭টির মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করেছে। একদিনের ম্যাচে পারস্পরিক দ্বৈরথে ১৩৬টির মধ্যে ভারতের জয়ের সংখ্যা ৬৭। ২০০৭ থেকে ধরলে দেশের বাইরে কোনও একটি স্টেডিয়ামে জয়-পরাজয়ের অনুপাতের নিরিখে আফগানিস্তানকে পিছনে ফেলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারে ভারত। ভারত জিম্বাবোয়ের হারারেতে ১১টি ম্যাচে ৯টিতে জিতেছে, হেরেছে ২টিতে, জয়-পরাজয়ের অনুপাত বা রেশিও ৪.৫। একই নজির আফগানিস্তানের রয়েছে হারারেতেই। ভারত পোর্ট অব স্পেনে ১২টি খেলেছে, ৯টিতে জয়, ২টিতে পরাজয়, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। এখানেও রেশিও সেই ৪.৫। আজ জিতলেই সেটিকে বাড়িয়ে নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে ভারত। আবার যেখানে একদিনের সিরিজ খেলা হবে সেখানে ২০০৮ সালের পর কোনও একদিনের আন্তর্জাতিক জেতেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
|
শ্রীলঙ্কার নজির স্পর্শ
এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে সাত অধিনায়ক নামিয়ে আজ শ্রীলঙ্কার রেকর্ড স্পর্শ করবে ভারত। চলতি বছর ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও জসপ্রীত বুমরাহ। আজ টস করতে যাবেন শিখর ধাওয়ান। তিনি তরুণদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। স্কিল নিয়ে বিশেষ কোনও পরামর্শ দিচ্ছেন না। তবে কেমন মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামতে হবে সে বিষয়েই টিপস দিচ্ছেন। শিখর নিজে ইংল্যান্ড সফরে রান পাননি। টি ২০ দলে জায়গা পান না। একদিনের সিরিজেই শুধু সুযোগ পাচ্ছেন। তার উপর এই দলে রয়েছেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, ঈশান কিষাণ, সঞ্জু স্যামসন, শুভমান গিলের মতো ওপেনার। তবে তাতে অস্বস্তি নেই বলেই দাবি শিখরের। তাঁর কথায়, মানুষ অনেক কথা বলবেন। আমার কাজ পারফর্ম করে যাওয়া। সব কথায় কান দিলে এই জায়গায় থাকতাম না। নিজের খেলা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি অভিজ্ঞতার নিরিখে। কোথায় উন্নতি প্রয়োজন সেটাও নিজেই ঠিক করতে পারি। ফলে একেবারেই উদ্বিগ্ন নই।
পজিটিভ ড্রেসিংরুম
গত বছর ভারত শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিল। তখনও অধিনায়ক ছিলেন শিখর ধাওয়ান, কোচ রাহুল দ্রাবিড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পা রেখে নিজের ইনস্টাগ্রাম রিলে দ্রাবিড়কেও রেখেছেন শিখর। দুজনের বোঝাপড়া, পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ়। দলের মধ্যে পজিটিভ এনার্জি বজায় রাখতে চান শিখর। নিজেদের মধ্যে খেলা, মজা সব চলে। শিখরের কথায়, আগে আমরা টিম ডিনারে যেতাম। এখন রিল বানাই। এতে সকলেই খুশি। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখলে সাফল্যের দরজা খোলা সম্ভব এই তত্ত্বেই বিশ্বাসী গব্বর। নিজের প্রতি এবং দলের প্রতি বিশ্বাস নিয়েই স্বাভাবিক খেলা খেলতে মুখিয়ে শিখর।












Click it and Unblock the Notifications