টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতা নিয়ে সৌরভের বিসিসিআইকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক রবি শাস্ত্রী
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি ২০ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে ভারত। নামিবিয়া ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী চ্যানেলে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটালেন ভারতের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। বিদায়-মুহূর্তে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে কাঠগড়ায় তুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিসিসিআইকে। ভরত অরুণ, জসপ্রীত বুমরাহদের মতকেই সমর্থন করে শাস্ত্রী বলেছেন, আইপিএল ও টি ২০ বিশ্বকাপের মধ্যে বিশ্রাম পেলে তা ক্রিকেটারদের পক্ষে সুবিধাজনক হতো। যদিও ক্লান্তির কারণে ক্রিকেটাররা সেরাটা দিতে পারেননি, শাস্ত্রীর এই বক্তব্য সমর্থন করেননি ভিভিএস লক্ষ্মণ।

ক্লান্তির কারণেই ব্যর্থতা
জসপ্রীত বুমরাহর কথায় উঠে এসেছিল জৈব সুরক্ষা বলয়ে টানা ৬ মাস ধরে থাকার ক্লান্তির কথা। গতকাল বোলিং কোচ ভরত অরুণ বলেছিলেন, আইপিএল ও টি ২০ বিশ্বকাপের মধ্যে ছোটো বিরতি পেলেও তা দলের পক্ষে ভালো হতো। এই বিষয়গুলিকে ভালোভাবে নিচ্ছিলেন না বিসিসিআই কর্তারা। তবে শাস্ত্রী আগুনে আবারও ঘৃতাহুতি দিলেন। এমনিতেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে রবি শাস্ত্রীর যে সুসম্পর্ক নেই তা বারেবারেই দেখা গিয়েছে। এদিন শেষ অ্যাসাইনমেন্টের আগে বোর্ডের বসদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে নয়া বিতর্কের জন্ম দিলেন শাস্ত্রী। তবে এটাও ঠিক, শাস্ত্রী যে ক্লান্তির কথা বললেন এবং উল্লেখ করলেন এটা তাঁর অজুহাত দেওয়া নয়, তার পিছনে যুক্তিও রয়েছে।

পাল্টা যুক্তি বোর্ডের
টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতার জন্য আইপিএলের দিকে আঙুল উঠেছে। অনেকেই বলেছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজ ও টি ২০ বিশ্বকাপের মধ্যে আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি আয়োজনের কোনও যুক্তি ছিল না। কোষাগার ভরাতেই তড়িঘড়ি আইপিএল আয়োজন করেছে বিসিসিআই। মাথায় রাখা হয়নি ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা। বোর্ডকর্তারা এখনও প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও পাল্টা যুক্তি খাড়া করে বলছেন, কাউকে আইপিএল খেলতে জোর করা হয়নি। যদি বিরাট, বুমরাহরা বিশ্বকাপকেই গুরুত্ব দিতেন, তাহলে তাঁরা তো আইপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়ে মাসখানেকের বিশ্রাম নিতেই পারতেন।
|
শাস্ত্রীর বিস্ফোরণ
আজ রবি শাস্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, টি ২০ বিশ্বকাপ থেকে কী শিক্ষা নিয়ে ফিরবেন? শাস্ত্রী বলেন, অবশ্যই বিশ্রাম জরুরি ছিল। আমি নিজে মানসিকভাবে ক্লান্ত, আমার বয়সে সেটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ক্রিকেটাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। এতে সবচেয়ে যেটা সমস্যা হয় তা বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে, যখন চাপ চলে আসে। ক্লান্তি থাকলে ওই ম্যাচগুলির জন্য প্রস্তুতিতে খামতি লক্ষ্য করা যায়, যতটা তৈরি থাকা দরকার সেটা হয় না। আইপিএল ও টি ২০ বিশ্বকাপের মধ্যে বড় গ্যাপ বা বিরতি পাওয়া গেলে ভালো হতো। ছয় মাস ধরে টানা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা কঠিন ব্যাপার। তবে কোনও অজুহাত দিতে চাইছি না। জিততে গেলে কোনও ম্যাচ হারতেও হয়। এখানে এক্স-ফ্যাক্টর না থাকায় আমরা জেতার চেষ্টা প্রত্যাশিতভাবে করতে পারিনি। যদিও শাস্ত্রীর বক্তব্যে সহমত পোষণ করেননি ভিভিএস লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, ভারতীয় দলে যাঁরা সুযোগ পান তাঁদের সব ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করাই কাম্য। আগামী বছর টি ২০ বিশ্বকাপের আগে ভারতের ঠাসা ক্রীড়াসূচি দেখে উগ্বিগ্ন সুনীল গাভাসকরও।
|
দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে অন্য উচ্চতায় ভারত!
এদিকে, ভারতীয় দলে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর কোচ হয়ে এসেছিলেন রবি শাস্ত্রী। এই সফরকে দারুণ উপভোগ করেছেন বলে জানিয়ে শাস্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই বলেছিলাম আমি এমন কিছু করতে চাই যাতে ফারাক স্পষ্ট হয়। গত পাঁচ বছরে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক বাধা অতিক্রম করেছেন, সব ফরম্যাটে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ভালো পারফর্ম করেছেন। এই দল তাই ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা দলগুলির মধ্যেই থাকবে। টেস্টে বিভিন্ন দেশে গিয়ে তাদের হারিয়ে আসা, একদিনের আন্তর্জাতিক বা টি ২০ আন্তর্জাতিকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে জিতে ফেরা, এগুলিকেই সেরা সাফল্য বলে মনে করেন শাস্ত্রী। তাঁর ধারণা, রাহুল দ্রাবিড় যে মাপের ক্রিকেটার, যেভাবে নিজে খেলেছেন তাতে তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়েই ভারতকে কোচ হিসেবে আরও উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে পারবেন। বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বের প্রশংসার পাশাপাশি তাঁকে টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম দূত হিসেবেও অভিহিত করেছেন ভারতের বিদায়ী হে়ড কোচ।












Click it and Unblock the Notifications