ICC World Cup 2023: বিশ্বকাপের বড় ম্যাচগুলি ইডেনে এনে বাজিমাত স্নেহাশিসের, জয় শাহকে ধন্যবাদ সিএবি সভাপতির
ICC World Cup 2023: ক্রিকেটার হিসেবে অদম্য মানসিকতা দেখিয়ে বাংলাকে রঞ্জি জেতাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। প্রশাসক হিসেবেও ম্যাজিক দেখাতে শুরু করলেন সকলের প্রিয় 'রাজ'দা।
ইডেনে এবার বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচ হবে। তার মধ্যে রয়েছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ। রয়েছে সেমিফাইনাল। এ ছাড়াও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও কোয়ালিফায়ার দলের খেলা হবে ক্রিকেটের নন্দনকাননে।

শেষ ল্যাপে বাঘা বাঘা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে টেক্কা দিয়ে সেমিফাইনাল ম্যাচ পেয়েছে সিএবি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপেও যা হয়নি। ১৯৯৬ সালে শেষবার ইডেনে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হয়েছিল। তারপর হবে এবার। ভাইফোঁটার ঠিক পরের দিন। এ ছাড়া কালীপুজোর দিন রয়েছে ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথ।
লক্ষ্মীপুজোর দিন ইডেনে রয়েছে বাংলাদেশ বনাম কোয়ালিফায়ার-১-এর খেলা। কালীপুজোর দিন ম্যাচ আয়োজন কোনও সমস্যা নয় বলে দাবি করলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এবারই আমরা ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ আয়োজন করেছিলাম। তখন গঙ্গাসাগর মেলা ছিল। কিন্তু দর্শকঠাসা ইডেনে সাফল্যের সঙ্গেই ম্যাচটি হয়েছিল।

সেই ম্যাচের সময় পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়া যাবে কিনা সংশয় ছিল। কিন্তু স্নেহাশিসরা কলকাতা পুলিশকে বোঝাতে সক্ষম হন অনেকদিন পর এই ম্যাচ পাওয়া গিয়েছে। ইডেনে তা না করা গেলে অন্য রাজ্যে চলে যাবে। শেষ অবধি গঙ্গাসাগর মেলার আবহেও ইডেনে হয়েছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই আত্মবিশ্বাসই এবার সিএবির সম্বল।
স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নানা জায়গায় নানা খবর দেখছিলাম। বলা হচ্ছিল, ইডেন জিম্বাবোয়ে-সহ ছোট দলগুলির ম্যাচ পাবে। আমি কোনও মন্তব্য করিনি। গত চার মাস ধরে ভালো ম্যাচ আনার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল চলাকালীন জয় শাহের সঙ্গে কথা হয়েছিল স্নেহাশিসের।

ইডেনে প্রেস বক্স, মিডিয়া সেন্টার, কর্পোরেট বক্সের সংস্কারের পর ঝাঁ চকচকে ছবি দেখিয়ে বিশ্বকাপের জন্য ইডেনের সংস্কার সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা বিসিসিআই সচিবকে জানান স্নেহাশিস। সিএবি সভাপতিকে তখনই ভালো ম্যাচ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন জয়। তিনি বুঝেছিলেন, দেশের অন্যতম সেরা মাঠ বিশ্বকাপের আগে আরও উন্নততর হবে।
স্নেহাশিস বলেন, ভারত, পাকিস্তানের মতো ম্যাচ আয়োজন বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা প্রস্তুত। আগেও ইডেনে ভারত-পাক ম্যাচ হয়েছে। ইডেনে আইপিএলের ম্যাচগুলিতেও স্টেডিয়াম ভর্তি ছিল। আমরা সেরা মাঠের পুরস্কারও পেয়েছি ওয়াংখেড়ের সঙ্গে। ইডেনের পিচও বরাবরই ভালো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, কলকাতা পুলিশ সিএবি সব সময় সহযোগিতা করে বলেও জানান স্নেহাশিস।
পাকিস্তানও প্রথম থেকে যে শহরগুলির নাম পছন্দের তালিকায় রেখেছিল তার মধ্যে ছিল কলকাতা। পিসিবির ইডেন-প্রেমের প্রসঙ্গে স্নেহাশিস বলেন, পাকিস্তান কেন ইডেনকে পছন্দ করেছে জানা নেই, তবে এখানকার পরিবেশ সকলেরই ভালো লাগে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশি দলগুলিও এখানে খেলতে পছন্দ করে। ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল ইডেনে হলেও তা সফলভাবে আয়োজনে আত্মবিশ্বাসী স্নেহাশিস।
২০১৬ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের সময় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন সিএবি সভাপতি। এবার বিশ্বকাপ যখন হবে তখন সিএবির মসনদে সৌরভেরই দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। প্রশাসক হিসেবে যা এক নয়া দৃষ্টান্ত হতে চলেছে। টিকিটের দাম সাধারণের নাগালে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন স্নেহাশিস।












Click it and Unblock the Notifications