ICC CWC 2023: বিশ্বকাপ আয়োজনে ডাহা ফেল স্নেহাশিস, সিএবি সভাপতিকে এনে মুখ পুড়ল সিএসজেসির
ICC CWC 2023: কথায় আছে লোকে ঠেকে শেখে। কিন্তু সে কথা খাটে না স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। ক্রিকেটার হিসেবে ভালো ছিলেন। কিন্তু প্রশাসক হয়ে কতটা ব্যর্থ, তা বোঝা যাচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিটি মুহূর্তে।
বাংলাদেশ থেকে যে সাংবাদিকরা এসেছেন তাঁরাও ক্ষুব্ধ সিএবির নানা অব্যবস্থায়। সে কারণেই তাঁরা কি এড়ালেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান? প্রশ্নটা রয়েই গেল।

কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাব আজ প্রথমে জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ কভার করা অনুমতিপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের স্মারক প্রদান করবে। পরে সেটা বলা হয় ভিনরাজ্য ও বিদেশি সাংবাদিকদের সংবর্ধিত করা হবে। এমনিতেও কলকাতায় প্রথিতযশা সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কভার করার অনুমোদন মেলেনি। অনেককে নিয়ে রয়েছে প্রশ্নও, যাঁরা সিএবি মিডিয়া ম্যানেজারের পেটোয়া বলে পরিচিত (সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতাও জানান)। বিসিসিআই সূত্রে খবর, সিএবির পাঠানো লিস্টকেই অনুমতি দিয়েছে আইসিসি।
কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের নাম জড়িয়ে নিয়েছিলেন সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার অরিন্দম বসু। পরে ভেন্যু মিডিয়া ম্যানেজার হয়েছেন এ সুব্রহ্মণ্যম, কুমারদা নামেই যিনি বেশি জনপ্রিয়। তিনি যখন মাঠে নেমেছেন তখন ম্যাচ হাতের বাইরে। স্বজনপোষণ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব দেখিয়ে মিডিয়া ম্যানেজার অরিন্দম সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ।
ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। তবুও ঔদ্ধত্য দেখিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে অন্যায় করলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। জগমোহন ডালমিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়ারা সিএবি সভাপতি থাকাকালীন সাংবাদিকদের সঙ্গে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন, স্নেহাশিস-জমানায় ও মিডিয়া ম্যানেজারের বদান্যতায় তা এখন অতীত।

আজ কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে মিডিয়া আউটরিচ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্নেহাশিস। অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মিনিট ৫০ পর শুরু হয়। কেন না, তখন মাত্র জনা সাতেক বাংলাদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক সিএবির ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কলকাতার পরিচিত সাংবাদিকদের কাছে।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে সে কারণেই কি তাঁরা এড়ালেন স্নেহাশিসকে? সিএবি সভাপতি এদিন বোঝাতে চান তিনি সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা দেখছেন না (বা পাত্তা দিতে চাইছেন না)! তাঁর নজরে কিছু বিষয় আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করছেন তিনি সিএবির ভাবমূর্তির কথা ভেবে। তবে ট্র্যাজেডি একটাই, সেই গঠনমূলক সমালোচনাও তাঁর ইচ্ছাকৃত বন্ধ করে রাখা চোখ খুলতে পারছে না।
সিএসজেসি সভাপতির সাফাই, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাংবাদিক সম্মেলন একই সময়ে পড়ে যাওয়ায় তাঁরা যথাসময়ে আসতে পারেননি। তবে মেনে নিয়েছেন স্নেহাশিস থাকাকালীন সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। স্নেহাশিস ও নানা অপকর্মে অভিযুক্ত মিডিয়া ম্যানেজার সিএসজেসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কিছু বাংলাদেশি সাংবাদিক সিএসজেসিতে যান।
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ছোট্ট একটি স্মারক দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন নিয়ে সিএসজেসির কর্মসমিতির সদস্যদের যথাসময়ে না জানানোর অভিযোগ উঠেছে। অনেকে হাজিরও ছিলেন না। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিন আড্ডা মারতে, খাওয়া-দাওয়া করার আহ্বানে সাড়া দেননি সিএসজেসির কর্মসমিতির সদস্য ও অনেক সংবাদমাধ্যমই।
সিএবির সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা বজায় রাখার ঐতিহ্যের কথা সিএসজেসির সভাপতি তুলে ধরলেও যেভাবে অকারণে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের গায়ে সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারের অপকর্মের কালি লাগছে তাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না ক্লাবের সদস্যরা। আজও অনুষ্ঠানের ফাঁকে সিএবির অভিযুক্ত মিডিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে একান্তে বৈঠক সারেন সিএসজেসি সভাপতি।
কলকাতার অনেক অ্যাক্রিডিটেড ক্রীড়া সাংবাদিক সিএসজেসির এই অনুষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে বয়কট করেছেন। অন্যায়ের শিকার হওয়া সাংবাদিকদের পাশে থাকতে ৩ নভেম্বর সিএসজেসিতে ডিনারও বয়কটের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাংবাদিকরা।












Click it and Unblock the Notifications