ICC CWC 2023: সত্য বিকৃতকারী সংবাদমাধ্যমগুলির নিশানায় স্নেহাশিস! সিএবির অন্দরে ক্ষোভ, কড়া পদক্ষেপের দাবি
ICC CWC 2023: বিশ্বকাপে রবিবার ইডেনে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ। তার আগে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেভাবে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে কালিমালিপ্ত করল, তাতে ক্ষোভের আগুন সিএবির অন্দরে।
কলকাতা পুলিশ গতকালই নোটিশ পাঠিয়েছে সিএবিকে। টিকিট বিক্রিতে অস্বচ্ছতা, কালোবাজারির অভিযোগে ময়দান থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে আজ ডেকে পাঠানো হয় সিএবি ও টিকিট বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত পোর্টালের প্রতিনিধিকে।

গতকাল বিকেলের পর থেকেই এই বিষয়টি জানা গিয়েছিল। কিন্তু কোনও তরফেই কনফারমেশন মিলছিল না। কলকাতা পুলিশের তরফে বিবৃতি জারির পর সেই খবর দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। কিন্তু একাধিক টিভি চ্যানেল ও নিউজ পোর্টালে জড়িয়ে দেওয়া হয় স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম!
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পেনের সফরসঙ্গী হওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির রোষের মুখে পড়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সৌরভকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিলেও তা যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করেনি সংবাদমাধ্যমের একাংশ। সবার আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য তুলে ধরেছিল ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। অনেক দিন পরে সৌরভের বক্তব্য দেখায় বাকি মিডিয়া।
সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে। কেউ কারও সম্পর্কে বললে যাকে নিয়ে বলা হচ্ছে তার বক্তব্য তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব। ঠিক তেমনভাবেই কোনও তথ্য এলে তা যাচাই করে তবেই জনসমক্ষে আনা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তা সৌরভের ক্ষেত্রে হয়নি, একই ঘটনা স্নেহাশিসের ক্ষেত্রেও।
কলকাতা পুলিশের বিবৃতিতে কোথাও স্নেহাশিসের নাম বা সিএবি সভাপতি বলে উল্লেখ নেই। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্য়াচের টিকিট বিক্রি নিয়ে এফআইআরের প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল একজন প্রতিনিধিকে তদন্তে সহযোগিতার জন্য ময়দান থানায় তলব করা হয়েছে। তার অর্থ মোটেই এটা নয়, স্নেহাশিসকে ডাকা হয়েছে।
যদিও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয় স্নেহাশিসকে তলবের কথা। যা সত্যকে বিকৃত করা। বিশ্বকাপের মতো আসরে সংবাদমাধ্যমগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই স্নেহাশিসকে নিশানা করেছে বলে মনে করছেন সিএবির বিভিন্ন কমিটির একাধিক চেয়ারম্যান ও সদস্য। তাঁরা সংবাদমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলছেন মিডিয়া ম্য়ানেজারের ভূমিকায়।
বিভিন্ন সূত্রে সিএবিকে পুলিশের নোটিশ পাঠানোর খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা যাচাই করতে ফোন করা হলেও ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা-সহ একাধিক মিডিয়ার ফোন ধরেননি সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার। এমনকী যে সংবাদমাধ্যমগুলি স্নেহাশিসকে জড়িয়ে দিল অকারণে, তাদের ভুল শোধরানোর চেষ্টা বা বিবৃতি দেননি সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার। সিএবি কলঙ্কিত হওয়ার পিছনে ওই মিডিয়া ম্যানেজারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্নেহাশিসকে তলব করা হয়েছে বলে শিরোনামে তথ্য রেখে যে সংবাদমাধ্যম খবর করেছিল তার এক সাংবাদিক আইপিএলে প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাকে অভিযুক্ত। বিষয়টি জেনে সঙ্গে সঙ্গে সেবার পুলিশকে জানাননি সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার। কেন না, তখন তিনিই ছিলেন টিকিট বণ্টনের দায়িত্বে। তবে স্নেহাশিস জানতে পরেই পরের ম্যাচ থেকে সাংবাদিকদের টিকিট বণ্টনের সিস্টেম বদলে দেন।
এবারও অনেক প্রথিতযশা সংবাদমাধ্যমের নাম ম্যাচ কভার করার অনুমতি পায়নি। এই ঘটনাতেও সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য দিয়ে নকল চুলওয়ালা এক সাংবাদিক কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ঢাল হয়ে দাঁড়ান সিএবির অভিযুক্ত মিডিয়া ম্যানেজার। কোন স্বার্থে? উত্তর মেলেনি।
ওই সংবাদমাধ্যম গতকাল তথ্য যাচাই না করেই স্নেহাশিসের ছবি দিয়ে এক্সক্লুসিভ বলে খবর করে সিএবি সভাপতিকে তলব করার ব্যাপারে। কেন সিএবি মিডিয়া ম্যানেজার ভুল খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেও চুপ রইলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সিএবির অন্দরেই। কেউ বলছেন, প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডে আইনি পদক্ষেপ করলেই উচিত শিক্ষা পেতো অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যম।
ইচ্ছেমতো খবর যাতে সংবাদমাধ্যমগুলি পরিবেশন করার সাহস না পায় সে কারণে এবারের ঘটনায় অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলির কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির দায়িত্ব বুকমাইশোকে দিয়েছে আইসিসি ও বিসিসিআই। ফলে সিএবির কিছু করণীয় নেই বলেই পুলিশকে জানানো হবে বলে সূত্রের খবর।












Click it and Unblock the Notifications