আফগানিস্তানের উত্থান চমকেছিল বিশ্বকে! তালিবান শাসন কি ক্রিকেট আঁকড়ে বাঁচতে দেবে রশিদ-নবিদের?

আফগানিস্তান এখন তালিবানদের দখলে। অনেক দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আপাতত আফগানিস্তানকে মিত্রপক্ষ ভাবছে না। বৈদেশিক সম্পর্কের প্রভাব পড়তে চলেছে সে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি চিন্তা ক্রিকেট নিয়ে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিইও হামিদ শিনওয়ারি বলেছেন, তালিবানরা ক্রিকেটকে ভালোবেসে সমর্থন করায় এবং আমাদের কাজে হস্তক্ষেপ না করায় তালিবান সরকারের আমলেও ক্রিকেট চলবে আপন গতিতেই।

তালিবান শাসন শুরু

তালিবান শাসন শুরু

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে চার লক্ষের বেশি নাগরিকের। তালিবানি ফতোয়া, অত্যাচারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠা দেশবাসী যখন গণতন্ত্র আর মুক্তির স্বাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, তখনই ২০০১ সালের অক্টোবরে নাটকীয় পট পরিবর্তনের সূচনা হয় আফগানিস্তানে। আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হানার প্রধান অভিযুক্ত ওসামা বিন লাদেনকে আফগানিস্তান আশ্রয় দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাদেনকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালে তা নাকচ করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে রাখা তালিবানরা। আফগানিস্তান থেকেই আল কায়েদার যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনা করছিল লাদেন। এরপরই তালিবানদের ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাতে সমর্থন জুগিয়েছিলেন সিংহভাগ আফগান নাগরিক। প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন এবং পরে তারা নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে একজোট হতেই তালিবানরা পিছু হঠতে শুরু করে। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হয় তালিবানরা। হামিদ কারজাইয়ের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী প্রশাসন পথ চলা শুরু করে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ফলে আফগানিস্তানে শিশুমৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি, দু-বেলা খাবার পেতেন না দেশের মানুষ, সবমিলিয়ে পরিকাঠামো ধ্বংসপ্রায় হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় কারজাইয়ের নেতৃত্বেই ঘুরে দাঁড়াতে থাকে আফগানিস্তান। তারই মধ্যে পাকিস্তানে গিয়ে শক্তিবৃদ্ধির পরিকল্পনা চালাতে থাকে তালিবানরা। নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েও তালিবানদের সম্পূর্ণভাবে বিনাশ করা সম্ভব হয়নি।

দেশের নাম বদল!

দেশের নাম বদল!

২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতে রাষ্ট্রপতি হন আশরাফ গনি। ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে আইএসএএফ কমব্যাট অপারেশনে যবনিকা টেনে ২৮ ডিসেম্বর দেশের নিরাপত্তার ভার ন্যস্ত করা হয় আফগান সরকারের উপর। যদিও আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকে ন্যাটো বাহিনী। ২০১৫ সালে জানা যায় ২০০১ সাল থেকে যুদ্ধে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে লাদেনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১৪ এপ্রিল ন্যাটো জানায়, ১ মে থেকে ন্যাটো সেনাদের তুলে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। ন্যাটোর এই ঘোষণার পর থেকেই ফের সক্রিয় হয় তালিবানরা। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করার ছয় মাসের মধ্যেই আফগান সরকারের পতন হবে। যদিও তার আগেই আফগানিস্তানের দখল নিয়ে ফেলেছে তালিবানরা। আফগানিস্তানের নাম বদলে দেওয়ারও ঘোষণা হয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন রাষ্ট্রপতি নিজেই। আফগান নাগরিকরা যে কোনওভাবে দেশ ছা়ড়তে মরিয়া।

ক্রিকেটের চমকপ্রদ উত্থান

ক্রিকেটের চমকপ্রদ উত্থান

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানেই ফুল ফুটতে শুরু করেছিল ক্রীড়াক্ষেত্রে। গণতান্ত্রিক আবহে বিশেষ করে ক্রিকেটের উত্থান ছিল চমকপ্রদ। আফগানিস্তানে ফের তালিবান-শাসন শুরু হতেই মিত্রপক্ষ তকমা দিতে রাজি নয় অনেক দেশ। স্বীকৃতির অভাব প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে দেশের ক্রিকেট বোর্ড, খেলোয়াড়দের। নারী স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু উন্নয়ন থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন। অনেকে প্রাণ দিচ্ছেন। ফের অশান্ত আফগানিস্তান। দেশের ক্রীড়া আইকন ক্রিকেটার রশিদ খানের পরিবার আটকে রয়েছে আফগানিস্তানে। আরও অনেকেরই দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়। তবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিইও জানিয়েছেন, রশিদ, মহম্মদ নবি ও মুজিব জারদান ইংল্যান্ডে দ্য হান্ড্রেডে খেলছেন। তাঁদের পরিবার সুরক্ষিত হচ্ছে। কাবুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন স্বাভাবিকের পথে। বোর্ডের অফিস কাল খুলবে। তালিবানদের জমানাতেই ক্রিকেট বিকশিত হয়েছে। জাতীয় দলের শিবিরও চলবে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার কথা আফগানিস্তানের।

রশিদরা যে পারফর্মার!

রশিদরা যে পারফর্মার!

তারই মধ্যে পারফর্মারদের যেমন পারফর্ম করে যেতে হয় সেটাই করতে হচ্ছে রশিদ খানদের। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শুধু শান্তির আর্জি জানিয়ে টুইট করা ছা়ড়া আর কী-ই বা করার! ছয় বছরের টি ২০ কেরিয়ার। ১৩টি দলের হয়ে খেলেছেন রশিদ খান। ২৩ জন অধিনায়কের নেতৃত্বে। ৬৪টি মাঠে। তারই মধ্যে গতকাল ম্যাঞ্চেস্টার অরিজিন্যালসের হয়ে দ্য হান্ড্রেডে ২০ বলে ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন রশিদ। তাঁর দেশে যা চলেছে তার মধ্যেও এমন পারফরম্যান্স চমকে দিয়েছে কেভিন পিটারসেনের মতো প্রাক্তনদের। অনেকের মনে পড়ে যায়, মেরা নাম জোকার ছবির সেই নিদারুণ দৃশ্যের কথাও। পারফর্মারদের যে থেমে থাকা যায় না, থাকতে নেই! রশিদরা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আইডল হিসেবে অনুপ্রাণিত করছিলেন বহু প্রতিভাকে। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল সেই প্রক্রিয়াকে যে কার্যত শেষ করে দিয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ক্রিকেটে আইসিসি-র স্বীকৃতি পাওয়ার এক যুগের মধ্যেই টি ২০ ক্রমতালিকায় বোলারদের মধ্যে তিনে রশিদ খান, পাঁচে মুজিব উর রহমান। অল রাউন্ডারদের তালিকায় দীর্ঘদিন এক নম্বরে থেকে দুইয়ে নেমে এসেছেন মহম্মদ নবি। কিন্তু সকলেই এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে পড়ে গেলেন দেশের পরিস্থিতির জন্য। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নির্ভর করবে ক্রিকেট বা অন্য খেলাধুলোর স্বীকৃতি। ২০০০ সালের মতো তালিবানরা ক্রিকেট নিয়ে আপত্তি না করলেও আফগানিস্তান ক্রিকেট দল আর ক্রিকেটবিশ্বে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়েই দেখা দিয়েছে সংশয়। দেশের মানুষ যখন প্রাণ বাঁচাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন, সব কিছু ছারখার, সেখানে ক্রিকেট, খেলাধুলোর আগ্রহও যে ফিরে গেল কয়েক দশক পিছনে। আগে তো জীবন!

নিষিদ্ধ থেকে মূলস্রোতে

নিষিদ্ধ থেকে মূলস্রোতে

ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে আফগানিস্তানে ক্রিকেটের চল। পাকিস্তানে রিফিউজি ক্যাম্পে থাকাকালীন আফগানিস্তান শরণার্থীরা ক্রিকেট খেলতেন, পরে তাঁরা দেশে ফিরে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যান। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ অবধি তালিবান শাসনে অন্য খেলাধুলোর সঙ্গে ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তালিবানরা। তবে ২০০০ সালে তালিবান শাসকরা একমাত্র ক্রিকেট খেলাকেই ছাড় দেয়। নির্বাচিত আফগানিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশন আইসিসির অ্যাফিলিয়েট মেম্বারশিপ পায় ২০০১ সালে। আফগানদের খেলায় পাকিস্তানের প্রভাব ছিল, বিশেষ করে ভালো স্পিনার ও পেসারের সন্ধান মিলতে শুরু করে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে যুক্ত হয় ২০০৩ সালে। ২০১৭ সালের ২২ জুন লন্ডনে আইসিসি মিটিংয়ে পূর্ণ সদস্য হয়ে টেস্ট খেলার মর্যাদা মেলে। তার আগে ২০১৩ সালের ২৭ জুন আফগানিস্তান অ্যাসোসিয়েট মেম্বার হয়েছিল আইসিসি-র। আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচ প্রথম খেলে ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে। এরপর ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচও খেলে ভারতেই, সেই টেস্টেই প্রথম জয়ের স্বাদ পায় আফগানিস্তান। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সফরে টেস্ট জেতার পর ওই বছরই লখনউয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচে নামেন আফগানরা। সেটিতে অবশ্য টেস্টে দ্বিতীয় পরাজয়ের সাক্ষী থাকতে হয়, প্রথম টেস্ট ভারতের কাছে হারার পর। চলতি বছর জিম্বাবোয়ে সফরে টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র রাখে আফগানিস্তান। এই সিরিজে আফগানিস্তানের হয়ে ২০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন হাশমাতুল্লাহ শাহিদি।

উদ্যোগ ছিল তালিবানদের

উদ্যোগ ছিল তালিবানদের

প্রথমদিকে ক্রিকেট খেলাকে অনুমতি না দিলেও ২০০০ সালে তালিবান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ জানায় আইসিসিতে আফগানিস্তানের ক্রিকেট খেলার স্বীকৃতির আবেদনকে সমর্থন জানাতে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সাল অবধি পাকিস্তানের পেশোয়ার ও রাওয়ালপিণ্ডিতে খেলতেও যায় আফগানিস্তান দল। ২০০৪ সালে খেলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ট্রফি, সেবার ষষ্ঠ স্থানে ছিল আফগানিস্তান। আইসিসি ট্রফি খেলার যোগ্যতা অর্জনের এই প্রতিযোগিতায় আফগানরা চমক দেখিয়েছিলেন মালয়েশিয়াকে হারিয়ে। এশিয়ার বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে খেলে অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে আফগানিস্তান। ২০০৬ সালে বাহরিনে মিডল ইস্ট কাপে রানার্স-আপ হওয়ার পাশাপাশি মুম্বইয়ে এমসিসি একাদশকে হারিয়েছিল আফগানিস্তান, সেই ম্যাচে মাইক গ্যাটিং শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে এসেক্স, গ্ল্যামারগন ও লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে সাতটি ম্যাচের ৬টিতেই জেতে আফগানিস্তান। সে বছর এসিসি ট্রফিতে নেপালকে প্লে-অফে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রথম ট্রফি জয়, ফাইনাল টাই হওয়ায় এসিসি টি ২০ কাপ ভাগ করে নিতে হয়েছিল ওমানের সঙ্গে। সেখান থেকে ক্রমাগত উত্থানের সাক্ষী থেকে টি ২০ আন্তর্জাতিকের দলগুলির ক্রমতালিকায় এখন বিশ্বের নবম স্থানে আফগানিস্তান। দখলে রয়েছে একটি বিশ্বরেকর্ড। টি ২০ আন্তর্জাতিকে ২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন উইকেটে ২৭৮ তুলেছিল আফগানিস্তান। যা এখনও অবধি সর্বোচ্চ।

স্বীকৃতিলাভ ও অগ্রগমন

স্বীকৃতিলাভ ও অগ্রগমন

২০১১ সালে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও যোগ্যতা অর্জন ম্যাচ খেলার আগে একদিনের আন্তর্জাতিক খেলার স্বীকৃতি লাভ করেছিল আফগানিস্তান। ২০০৯ সাল থেকে একদিনের আন্তর্জাতিক ও টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলতে থাকে আফগানিস্তান। ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড টি ২০ কোয়ালিফায়ার জিতে ওই বছরই প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ খেলে। ২০১০, ২০১২ ও ২০১৪ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিলেও ২০১৬ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে সুপার টেন অবধি খেলেছিল আফগানিস্তান। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তান খেলেছে ২০১৫ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে মহম্মদ নবি ও গুলাবদিন নায়েবের নেতৃত্বে। এবারের টি ২০ বিশ্বকাপেও আফগানিস্তান রয়েছে সুপার টুয়েলভে। তবে আফগানিস্তানের দখল ফের তালিবানরা নেওয়ায় রশিদ খানদের জন্য কী অপেক্ষা করে রয়েছে তা বলবে সময়ই।

সাফল্যে নজির

সাফল্যে নজির

একদিনের আন্তর্জাতিকে আারল্যান্ডকে ১৬ বার, জিম্বাবোয়েকে ১৫ বার, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনবার এবং শ্রীলঙ্কাকে একবার হারিয়েছে আফগানিস্তান। একদিনের আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে ক্যারিবিয়ান সফরে গিয়ে ১৮ রানের বিনিময়ে সাত উইকেট নিয়েছিলেন রশিদ খান। টি ২০ আন্তর্জাতিকে বাংলাদেশকে চারবার, আয়ারল্যান্ডকে ১৪ বার, জিম্বাবোয়েকে ১১ বার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনবার হারিয়েছে আফগানিস্তান। একদিনের আন্তর্জাতিকে ১৪০টি ও টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৯৩টি উইকেটের মালিক রশিদ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হয়ে টি ২০ প্রতিযোগিতা খেলে থাকেন। দ্য হান্ড্রেডে তিনি বর্তমানে যুগ্ম সর্বাধিক উইকেটশিকারীও। আইপিএলে খেলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে।

পাশে বিসিসিআই

পাশে বিসিসিআই

নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো না থাকায় আফগানিস্তান নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারেনি। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। টি ২০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলেছে শারজায়। এরপর আফগানিস্তান জাতীয় দলের হোম গ্রাউন্ড শারজা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে গ্রেটার নয়ডার শহিদ বিজয় সিং পাঠিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স হয়েছিল রশিদ খান, মহম্মদ নবিদের হোম গ্রাউন্ড। এরপর টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর সেখান থেকে আফগানিস্তানের ক্রিকেট দল অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য বেছে নিয়েছিল দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সুপারিশ মেনে লখনউয়ের ভারতরত্ন শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে আফগানিস্তানকে হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয় বিসিসিআই। আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও আফগানরা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছেন আয়োজক দেশ হিসেবে। বিশ্ব ক্রিকেটে চমকপ্রদ উত্থান, ভারতের সহযোগিতা, সব কিছু সত্ত্বেও আফগানিস্তান ক্রিকেট এখন কোন দিকে যায় সেদিকেই সকলের নজর। বিশেষ করে টি ২০ বিশ্বকাপ যেখানে দুই মাস আর আইপিএল মাসখানেক দূরে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+