ফের ব্যাটে 'সৌরঝড়' সূর্যবংশীর, রাজস্থানের কাছে কুপোকাত কোহলির আরসিবি
আইপিএল ২০২৬-এর ১৬তম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-কে ছয় উইকেটে হারাল রাজস্থান রয়্যালস। গুয়াহাটির বরসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে রাজস্থানের জয়ের নায়ক ব্যাটিং সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী এবং উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেল। সূর্যবংশী ২৬ বলে ৭৮ রান এবং জুরেল ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।
রাজস্থান রয়্যালসের রান তাড়া করার শুরুতেই আরসিবি বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন বৈভব সূর্যবংশী। নির্ভীক শট খেলে তিনি সহজে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। ভুবনেশ্বর কুমারের বিরুদ্ধে একটি প্রায় ইয়র্কার ডেলিভারিকে চার মেরে তার তাণ্ডব শুরু হয়। এরপর জস হ্যাজেলউডের বিরুদ্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখেন, একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তার আগ্রাসী মনোভাব স্পষ্ট করে তোলেন। আরসিবি বোলাররা লাইন ও লেংথে পরিবর্তন আনলেও, সূর্যবংশী স্কোর করার রাস্তা খুঁজে পান।

অন্য প্রান্তে যশস্বী জয়সওয়াল (১৩) কিছুটা সমর্থন দিলেও দ্রুত আউট হন, তবে তাতে দলের গতির উপর তেমন প্রভাব পড়েনি। সূর্যবংশী দ্রুত ১৫ বলে অর্ধশতক হাঁকান, যা তার পূর্বের রেকর্ডকে ছুঁয়ে যায়। লং-অনের ওপর দিয়ে একটি শক্তিশালী শট এবং একটি টপ-এজ পুল শটে পরপর দুটি ছক্কা মেরে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। ফাস্ট এবং বাউন্সি ডেলিভারি উভয় ক্ষেত্রেই তার আধিপত্য আরসিবি-কে দিশাহারা করে তোলে।
সূর্যবংশীর সঙ্গে যোগ দিয়ে ধ্রুব জুরেলও অনায়াসে বাউন্ডারি মেরে চাপ বজায় রাখেন। রাজস্থান রয়্যালস পাওয়ার প্লে-তে রেকর্ড ৯৭/১ রান তোলে, যা তাদের আইপিএল ইতিহাসে সেরা শুরু। অভিনন্দন সিংয়ের ওভারগুলি বিশেষ ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। দলটি মধ্য ওভারগুলিতেও সেই গতি বজায় রাখে, মাত্র ৬.২ ওভারে ১০০ রান পার করে, যা তাদের আইপিএল ইতিহাসে দ্রুততম ১০০ রানের রেকর্ড।
ক্রুণাল পান্ডিয়ার বলে সূর্যবংশীর ২৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংসটি শেষ হয়। তরুণ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ডিপ মিড-উইকেটে বিরাট কোহলির হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন। এর পরের বলেই শিমরন হেথমায়ার শর্ট থার্ড ম্যানে হ্যাজেলউডের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-র জন্য শুরুটা ছিল নাটকীয়। জোফ্রা আর্চার প্রথম বলেই একটি ধারালো বাউন্সারে ফিল সল্টকে শূন্য রানে আউট করে দেন।
এরপর বিরাট কোহলি এবং দেবদত্ত পাড়িক্কল অবশ্য পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৭ বলে ৪৫ রানের একটি দ্রুত জুটি গড়লেও রাজস্থান রয়্যালস দারুণভাবে খেলায় ফেরে। জোফ্রা আর্চার পাড়িক্কলকে আউট করেন।
রবি বিষ্ণোই এরপর দ্রুত দুটি উইকেট নিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি প্রথমে বিরাট কোহলিকে বোল্ড করেন এবং পরে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে আউট করেন। শিমরন হেথমায়ারের অনবদ্য ফিল্ডিং আরসিবি-র সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। জিতেশ শর্মাও অল্প সময়ের মধ্যেই আউট হলে আরসিবি ৮.৪ ওভারে ৭৬/৫-এ পরিণত হয়।
রোমারিও শেফার্ড ২২ রানের সংক্ষিপ্ত পাল্টা আক্রমণ করে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে আউট হন। এরপর অভিষেক ম্যাচ খেলা ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন রজত পাটিদার। সতর্ক শুরু করার পর দ্রুত অর্ধশতক হাঁকান পাটিদার, যার মধ্যে ছিল কয়েকটি ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সন্দীপ শর্মার বলে আউট হন।
ভুবনেশ্বর কুমার এবং আইয়ারের (১৫ বলে ২৯) শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টায় আরসিবি তাদের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০১ রানের একটি ভালো স্কোর খাড়া করে।
এরপর মধ্য ওভারগুলিতে আরসিবি খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তারা বেশ কিছু টাইট ডেলিভারি দিয়ে রাজস্থান রয়্যালসের রানের গতি মন্থর করে চাপ সৃষ্টি করে। উইকেট শিকার এবং ডট বলের কারণে রাজস্থানের গতি কিছুটা কমে আসে।
এই সময়ে ক্রুনাল পান্ডিয়া বাউন্ডারি আটকিয়ে এবং প্রয়োজনীয় রান রেট প্রায় সাতের কাছাকাছি তুলে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে ধ্রুব জুরেল ৪৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন, যা টি২০তে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এই অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে রাজস্থান রয়্যালস দুই ওভার হাতে রেখেই ২০২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়।
মাঝের ওভারগুলিতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও, জুরেল এবং রবীন্দ্র জাদেজা ৫০ বলে ৬৮ রানের একটি বিচক্ষণ জুটি গড়েন। এই জুটিই নিশ্চিত করে যে, শেষদিকে আর কোনো বিপত্তি না ঘটে। রাজস্থান রয়্যালস শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।












Click it and Unblock the Notifications