Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

শেফালি-দীপ্তিদের দ্যুতিতে ইতিহাস, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতল হরমনপ্রীতের ভারত

রোহিত শর্মারা পারেননি। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ফাইনালে হারতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। যদিও দেশের মাটিতে হওয়া ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ খেতাবের দখল নিয়ে ইতিহাস গড়ল হরমনপ্রীত কৌরের ভারত।

রোহিতরা ফাইনালে উঠেছিলেন সব ম্যাচ জিতে। হরমনপ্রীতের ভারত সেমিফাইনালে ওঠে চতুর্থ হয়ে। তবে পয়েন্ট তালিকার উপরে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া আর ফাইনালে প্রোটিয়াদের উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীত অ্যান্ড কোং।

পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথমবার ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল কপিল দেবের নেতৃত্বে। এর আগে, দুইবার ভারতের মেয়েরা ফাইনালে উঠেও ট্রফি অধরা থেকে গিয়েছিল। কিন্তু হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে প্রথমবার মহিলাদের বিশ্বকাপ জয় ভারতের। এই প্রথম ফাইনালে হাফ সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নিয়ে নজির গড়লেন দীপ্তি শর্মা, যাঁর উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে বাংলার ক্রিকেট।

বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় শুরু হয়েছিল ম্যাচ। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ১৭.৪ ওভারে ১০৪ রান। তখন মনে হচ্ছিল ভারতের রান তিনশো পেরিয়ে যাবে। যদিও ২৬ ওভারের পর থেকে ভারতের রান তোলার গতিতে রাশ টানে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ভারত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান তোলে। শেফালি ভার্মা সাতটি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৭৮ বলে ৮৭ রান করেন। দীপ্তি শর্মা ৫৮ বলে ৫৮ রান করেন, মেরেছেন তিনটি চার ও একটি ছয়। স্মৃতি মান্ধানা ৫৮ বলে ৪৫, জেমাইমা রডরিগেজ ৩৭ বলে ২৪, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ২৯ বলে ২০, আমনজ্যোৎ কৌর ১৪ বলে ১২, রিচা ঘোষ ২৪ বলে ৩৪ রান করেন। রিচা তিনটি চার ও ২টি ছয় মারেন। রাধা যাদব ৩ বলে ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। আয়াবঙ্গা খাকা তিনটি এবং ননকুলুলেকো ম্লাবা, নাদিন ডি ক্লার্ক ও ক্লোয়ে ট্রায়ন একটি করে উইকেট নেন।

জবাবে খেলতে নেমে ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে শতরান করে নজির গড়েও দলকে জেতাতে পারলেন না অধিনায়ক লরা উলভার্ট। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি করেছিলেন ১৬৯। রবিবার ১১টি চার ও ১টি ছয়ের সৌজন্যে তিনি করেন ৯৮ বলে ১০১।

তানজিম ব্রিটস ২৩, অ্যানেকে বশ ০, সুনে লুস ২৫, মারিজান কাপ ৪, সিনালো জাফতা ১৬, অ্যানেরি ডার্কসেন ৩৫, ট্রায়ন ৯, ডি ক্লার্ক ১৮, খাকা ১ রান করেন। ম্লাবা অপরাজিত থাকেন ০ রানে। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে লুসের উইকেট তুলে নিয়ে শেফালি যে ধাক্কা দেন, তা অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। পরে কাপের মূল্যবান উইকেটটিও তিনিই নেন।

দীপ্তি শর্মা ৯.৩ ওভারে ৩৯ রানে পাঁচ উইকেট নিলেন। শ্রী চরণীও প্রতিপক্ষকে ভালোরকম চাপে ফেলে ৯ ওভারে ৪৮ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট নেন। শেফালি ভার্মা প্রথমে বিশ্বকাপের দলে ছিলেন না। প্রতীকা রাওয়ালের চোটের কারণে দলে এসে বলেছিলেন, ভগবান ভালোর জন্যই আমাকে পাঠিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। তবে ফাইনালে তিনি দাপুটে অর্ধশতরানের পর বল হাতে দুই উইকেট তুলে নিলেন। তাঁর গোল্ডেন আর্ম ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা নিল। শেফালি ৭ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। রেণুকা সিং ৮ ওভারে ২৮, ক্রান্তি গৌড় তিন ওভারে ১৬, আমনজ্যোৎ কৌর ৪ ওভারে ৩৪, রাধা যাদব ৫ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি।

ভারত ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু রান বাঁচিয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি ক্যাচও পড়ে, যার বড় মাশুল দিতে হলো না নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সৌজন্যে। ডার্কসেনের ক্যাচ ফেলেছিলেন দীপ্তি। তাঁকে তিনিই আউট করেন। উলভার্টের উইকেট তুলে নেওয়ার পরেই ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও গ্রুপ পর্যায়ে নাদিন ডি ক্লার্ক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। এদিন অবশ্য পারলেন না। দীপ্তির বলে তাঁর ক্যাচ হরমনপ্রীতের হাতে জমা পড়তেই ভারতের মহিলা ক্রিকেটের সেরা দিন নিশ্চিত হয়ে গেল ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে। হরমনপ্রীতদের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, রোহিত শর্মারা।

ফাইনালে সেরার পুরস্কার পেলেন শেফালি। টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার জিতে নিলেন দীপ্তি, যিনি সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ২১৫ রান করার পাশাপাশি ২২টি উইকেটও নিয়েছেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+