SA vs IND: পিঁপড়ে থেকে মৌমাছি, সাপ থেকে শূকর যখন ক্রিকেট ম্যাচ বন্ধ থাকার কারণ! জানুন বিস্তারিত
SA vs IND: সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে পাখা গজানো পিঁপড়েদের উৎপাতে মিনিট ২০ বন্ধ ছিল খেলা। জায়ান্ট স্ক্রিনেও লেখা ছিল, ম্যাচ সাময়িক বন্ধের কারণ Flying Ants।
পোকার উৎপাতের মধ্যেই অর্শদীপ সিং প্রথম ওভার করেন। কিন্তু উড়ন্ত পিঁপড়েদের দাপট এতটাই ছিল যে আম্পায়াররা ম্যাচ সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এই ধরনের পোকার উৎপাত সুপারস্পোর্ট পার্কে নতুন নয়। ২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল মিনিট ১২ বন্ধ ছিল এই Flying Ants-এর দাপটে। ১৯৯০ সালে অরুণডেলে চার্ড ক্রিকেট ক্লাব ও স্যাম্পফোর্ডের মধ্যে ম্যাচ এই পোকার দাপটেই বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ।
Weird reasons of an international match getting delayed in South Africa:
— Johns (@JohnyBravo183) November 13, 2024
2024: Flying ants (vs IND)
2017: Bees attack (vs SL)
2017: Halal food not available (vs BAN)#SAvsIND pic.twitter.com/5f70XjISMH
২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ডারহামে শ্রীলঙ্কা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল মাঠে মৌমাছি ঢুকে পড়ায়। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক চলাকালীন মাঠে ৬৫ মিনিট ধরে চলেছিল মৌমাছির দাপট।
মৌমাছি তাড়ানোর কোনও বুদ্ধিই খাটেনি। শেষ অবধি একজন পেশাদারকে ডাকা হয়। তিনি ওয়ান্ডারার্সে মৌচাক নিয়ে ঢুকে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৌমাছিদের বাগে আনেন। শুরু হয় খেলা।
Flying ants ❌
— Hemaang (@JrSehgal) November 14, 2024
Helicopter ✅ 🦗 pic.twitter.com/pzqbOkZ1v6
কাউন্টি বা ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ বন্ধ থেকেছে সূর্যের আলোর কারণে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও। নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ছিল শিখর ধাওয়ানের। এই পরিস্থিতিতে খেলা অসম্ভব ছিল। ফলে কিছুক্ষণের জন্য ম্যাচ বন্ধ থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার শন জর্জ বলেছিলেন, ১৫ বছরের আম্পায়ারিং কেরিয়ারে এমনটা আগে দেখিনি।
ভারত-নিউজিল্যান্ড ওডিআইয়ের আগে ২০১৭ সালে পুণের পিচে এক সাংবাদিক হেঁটে স্টিং অপারেশন করায় বিতর্ক হয়েছিল। ওই বছরই দিল্লির রঞ্জি ম্যাচ ছিল উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে। এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পিচের উপর উঠে পড়ায় খেলা বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। পিচের ক্ষতি না হওয়ায় পরে খেলা চালানো হয়।
Today #INDvsSA match was stopped briefly for "flying ants".
— Dr.Nellai (@nellaiseemai) November 14, 2024
Do you remember any such weird incidents for stoppage?
Let me start with the "sandstorm". Match was stopped briefly when Tendulkar batting gloriously. He came back and conquered Australia.
He single handedly put India in… pic.twitter.com/4iwWRscHFg
২০১৭ সালেই ব্লুম্ফনটিনে বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ দলের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কেটারারের ভুলে লাঞ্চ হয়েছিল ১০ মিনিট দেরিতে। বাংলাদেশ দলের খাবারের মেনু ছাপানোর ভুলেই বিভ্রান্তি। খাবার আসতে দেরি হয়েছিল ঘণ্টা দেড়েক।
১৯৫৭ সালে গ্লুচেস্টারে ডার্বিশায়ারের কাউন্টি ম্যাচ চলাকালীন হেজহগ ঢুকে পড়ায় ম্যাচ বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। গায়ে কাঁটা ভর্তি প্রাণীটিকে উইকেটকিপার জর্ড ডকেস মাঠের বাইরে রেখে আসেন, হাতে গ্লাভস থাকায় অসুবিধা হয়নি।
২০২২ সালে গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ চলাকালীন মাঠের মধ্যে সাপ ঢুকে পড়েছিল। ছোট গর্ত থেকে সাপটি বেরিয়েছিল। নজরে আসে ওয়েন পার্নেলের। ২০১৩ সালে কলম্বোয় ইংল্যান্ডের ট্যুর ম্যাচ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল মাঠে গোখরো সাপ ঢুকে পড়ায়। ২০০৯ সালে সিডনিতে একটি অনূর্ধ্ব ১৭ ম্যাচ মিনিট ২০ বন্ধ ছিল মাঠে সাপের উৎপাতে।
First time I’ve seen play stopped because of flying ants #INDvSA #Cricket pic.twitter.com/XFFN2KgVwm
— The Drunken Copywriter (@G_S_Meredith) November 13, 2024
১৯৮২ সালে সিডনিতে অ্যাশেজ চলাকালীন মাঠে ঢুকে পড়েছিল একটি শূকর। তার একদিকে লেখা ছিল বোথাম, অপর দিকে এডি। ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম ও এডি হেমিংসকে খোঁচা দিতেই কোনও দর্শক শূকরটিকে ছেড়ে দেন।
১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে লর্ডসে আর্মি ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ম্যাচ চলাকালীন আশঙ্কা করা হয়েছিল জার্মানির বোমা উড়ে এসে মাঠে পড়তে পারে। ক্রিকেটারদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়। ফ্লাইং বম্বের আশঙ্কায় ক্রিকেটাররা মাঠের মধ্যে শুয়ে পড়েন। তবে তেমন কিছু ঘটেনি।
১৯৫৭ সালে ক্যান্টারবেরিতে হ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে কেন্টের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ এবং ১৯৬২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট ইঁদুরের কারণে কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। ১৯৮০ সালে বিসিসিআইয়ের গোল্ডেন জুবিলি উদযাপনে মুম্বইয়ে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের রেস্ট ডে এগিয়ে আনা হয়েছিল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের কারণে।
তুষারপাতের কারণেও অনেক সময় খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ২০০৭ সালে ওভালে সারের ম্যাচ ছিল লিডস/ব্র্যাডফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। এক ব্যক্তি সিগারেটের মতো পোশাক পরে মাঠে এসেছিলেন। ওভালে ধূমপান না করার বার্তা দিতে। তিনি এমন জায়গায় ছিলেন যে, ব্যাটার বোলারের পিছনেই তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন। ঘোষক বলেন, সিগারেট অনুগ্রহ করে বসে যান!
১৯৮১-৮২ মরশুমে দিল্লিতে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা দেরিতে শুরু হয়েছিল। কারণ, আম্পায়াররা যেখানে ম্যাচ বল রেখেছিলেন তার চাবি পাওয়া যাচ্ছিল না। ২০০৯ সালে লর্ডসে মিডলসেক্স ও গ্ল্যামারগনের মধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা দেরিতে শুরু হয় বেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে।
২০১৭-১৮ মরশুমে শেফিল্ড শিল্ডের খেলা চলছিল। কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে ১৮ রান দরকার তখন নিউ সাউথ ওয়েলসের। ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে বেজে ওঠে ফায়ার অ্যালার্ম। খেলা বন্ধ থাকে আধ ঘণ্টা। পরে জানা যায়, নাথান লিয়ঁ টোস্ট পুড়িয়ে ফেলতেই বিপত্তি।
২০০৭ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ার বনাম কেন্ট ম্যাচেও বেজে ওঠে ফায়ার অ্যালার্ম। ম্যাচ সাময়িক বন্ধ রেখে দর্শকদের বের করে দেওয়া হয় গ্যালারি থেকে। দমকলের ২টি ইঞ্জিনও পৌঁছয়। পরে জানা যায়, রান্নাঘরে গ্রেভি পুড়ে গিয়েই বিপত্তি।












Click it and Unblock the Notifications