সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে কর্নাটককে হারিয়ে শেষ আটে বাংলা, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল কারা?
সৈয়দ মুস্তাক আলি টি ২০ ট্রফিতে মুম্বইয়ের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলা। যদিও এলিট গ্রুপ বি থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ আটে গেল বাংলা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কর্নাটককে খেলতে হবে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল। ছিটকে গিয়েছে অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বাধীন মুম্বই। গুয়াহাটিতে বাংলা গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে হারিয়েছে কর্নাটককে। ১২ বল বাকি থাকতে জয় সাত উইকেটে।

এদিনের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্নাটক। বাংলার বোলারদের দাপটে মণীশ পাণ্ডের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী কর্নাটক ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি। প্রথম ওভারেই দুই ওপেনার ময়াঙ্ক আগরওয়াল (৪) ও দেবদত্ত পাড়িক্কল (০)-কে আউট করে প্রথম ধাক্কা দেন মুকেশ কুমার। ১ ওভারে ১১ রানে দুই উইকেট পড়ে যায় কর্নাটকের। এরপরের উইকেটের জন্য বাংলাকে অপেক্ষা করতে হয় দশম ওভার অবধি। দলের ৭২ রানের মাথায় ২৭ বলে ব্যক্তিগত ৩২ রান করে আউট হন অধিনায়ক মণীশ পাণ্ডে। ষোড়শ ওভারে পরপর দুই বলে সর্বাধিক ৪৪ রান করা করুণ নায়ার ও অনিরুদ্ধ যোশী (১২)-র উইকেট তুলে নেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ১০১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় কর্নাটক। বাংলার বোলারদের মধ্যে সফলতম মুকেশ কুমার ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন। প্রদীপ্ত ৩৩ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন। শাহবাজ আহমেদ ও আকাশ দীপ একটি করে উইকেট নেন। আরসিবিতে খেলা শাহবাজ ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন। আকাশ দীপ চার ওভারে দেন ১৯।

জবাবে খেলতে নেমে ১৮ ওভারে তিন উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলা। অধিনায়ক সুদীপ চট্টোপাধ্যায় প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে ৪ রানে কট অ্যান্ড বোল্ড হন। ঋত্ত্বিক চট্টোপাধ্যায় ১৮ ও ঋদ্ধিমান সাহা ২৭ রান করেন। ২৫ রানে ২ উইকেট পড়ার পর ঋদ্ধি ও অভিমন্যু ঈশ্বরন ৮৮ রান অবধি টেনে নিয়ে যান। ঋদ্ধি আউট হন দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে। এরপর কাইফ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ঈশ্বরন। ৪৯ বলে ৫১ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ম্যাচ শুরুর আগে মুম্বই জিতে যাওয়ায় পরের পর্যায়ে যেতে আমাদের জিততেই হতো। সেটা নিশ্চিত করতে আমরা সকলেই ফোকাসড ও দৃঢ়সংকল্প ছিলাম। আমরা ভালো খেলেছি, এই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চাই। আমাদের বোলাররা দারুণ বোলিং করছেন। প্রথম ওভারে মুকেশ দুই উইকেট তুলে নেওয়ায় শক্তিশালী কর্নাটকের উপর চাপ তৈরি সহজ হয়ে গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রদীপ্ত, শাহবাজ উইকেট তুলে নেওয়ায় রান তোলার গতির উপর রাশ টানা গিয়েছে। বোলারদের নেতৃত্বে দলগত সংহতিতেই নিশ্চিত হয়েছে এই জয়।

এদিনের ম্যাচের পর রাতেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত ভারতীয় 'এ' দলে সুযোগ পেয়েছেন অভিমন্যু ঈশ্বরন ও ঈশান পোড়েল। ২৩ তারিখ ব্লুম্ফনটিনে প্রথম ম্যাচ। ফলে তাঁদের নক আউট পর্বে পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। বাংলার হেড কোচ অরুণ লাল বলেন,বোলিংয়ের পাশাপাশি আমাদের ফিল্ডিং, ভালো ক্যাচ ধরতে পারে, আগ্রাসী ভাব বজায় রাখাও জয়ের ভিত গড়েছে। আমাদের দল এবার এমনই হয়েছে যে একজন ক্রিকেটারের পরিবর্ত হিসেবে কাউকে নামানো হলে তিনি ভালো খেলছেন, কারও মনে ক্ষোভও থাকছে না। ১১ জন ক্রিকেটার শুধু নন, এই সাফল্যে ২০ জন ক্রিকেটারেরই অবদান রয়েছে। প্রত্যেকের অবদান রয়েছে। এই বছরের জন্য প্রস্তুতি ভালো হয়েছিল। তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে পারফর্ম করছেন সেটাও ইতিবাচক দিক। চাপের মুখে গোটা দল ভালো খেলছে। কঠিন গ্রুপে, কঠিন পরিস্থিতিতেও যেভাবে বাংলা দল পারফর্ম করেছে তাতে সন্তুষ্ট অরুণের দাবি, সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলার ক্রিকেট।
কোয়ার্টার ফাইনালের সব ম্যাচ ১৮ নভেম্বর দিল্লিতে, প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হয়নি। ১৬ নভেম্বর তিনটি প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল হবে। মহারাষ্ট্র খেলবে বিদর্ভের বিরুদ্ধে, হিমাচল প্রদেশ কেরলের বিরুদ্ধে এবং কর্নাটক সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তারপরই চূড়ান্ত হবে বাংলার প্রতিপক্ষ। বাংলা ছাড়াও শেষ আটে গিয়েছে রাজস্থান, তামিলনাড়ু, গুজরাট ও হায়দরাবাদ। চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে গুজরাট খেলবে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। ২০ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল ও ২২ নভেম্বর ফাইনাল হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে।












Click it and Unblock the Notifications