সৌরভ ভারতীয় দলে কোন বিষয়টি সমর্থন করছেন না? ক্রিকেটারদের বিশ্রাম নেওয়ার প্রবণতাতেও অসন্তুষ্ট?
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন গতকাল। তিনি এখন লন্ডনেই রয়েছেন। মধ্যরাতে লন্ডন আই, টেমস ব্রিজ থেকে শুরু করে নিজের ফ্ল্যাটে তুমুল নাচতে দেখা গিয়েছে বিসিসিআই সভাপতিকে। সকাল থেকে দিনভর ভেসে গিয়েছেন অনুরাগীদের শুভেচ্ছার বন্যায়। সিএবির তরফে তাঁকে পুষ্পস্তবক দেন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। বিকেলেও স্ত্রী ডোনা ও কন্যা সানার উপস্থিতিতে কেক কেটেছেন। এরই ফাঁকে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ খুলেছেন ক্রিকেটের নানা বিষয়ে।

সাত অধিনায়ক নিয়ে
চলতি বছর ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও জসপ্রীত বুমরাহকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে একদিনের সিরিজের নেতা বেছে নেওয়া হয়েছে শিখর ধাওয়ানকে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সাতজনকে অধিনায়ক করার ভাবনাকে অবশ্য সমর্থন করেননি সৌরভ। তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে ৭ জনকে অধিনায়ক করার আইডিয়াকে আমি সমর্থন করি না।

বিশেষ পরিস্থিতিতেই
যদিও সৌরভ বলেন, বিভিন্ন সিরিজে আলাদা আলাদা অধিনায়ক রাখতে হচ্ছে বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েই। রোহিতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি চোট পেয়ে যান। ফলে সাদা বলের সিরিজে রাহুলকে নেতৃত্ব দিতে হয় একদিনের সিরিজে। আবার দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের আগে লোকেশ রাহুল চোট পান। ইংল্যান্ডে রোহিত প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার ফাঁকেই করোনা আক্রান্ত হন। ফলে এই পরিস্থিতির জন্য কাউকেই দায়ী করা যায় না।

ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে
সৌরভ আরও বলেন, ক্রীড়াসূচির কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেটারদের বিশ্রামও দিতে হচ্ছে। তার মধ্যে চোট-আঘাতের সমস্যাও থাকছে। সে কারণেই জরুরি হয়ে পড়ে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট। হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে তাই বাধ্য হয়েই প্রতি সিরিজে নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে দল নামাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তো আগাম আঁচ করাও সম্ভব নয়। তবে ক্রিকেটারদের মাঝেমধ্যেই বিশ্রাম নেওয়ার প্রবণতাকেও সৌরভ যে সমর্থন করছেন না তা তাঁর কথায় পরিষ্কার। তিনি বলেন, আমার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করে এসেছি যে, যত বেশি ক্রিকেট খেলা যাবে তত ভালো। নিজের ফিটনেস ক্রমাগত বাড়ানোর ক্ষেত্রেও খেলা চালিয়ে যাওয়া ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গেম টাইম জরুরি, যত বেশি খেলা যাবে তত একজন ক্রিকেটার শারীরিকভাবেও অনেক শক্তিশালী হতে পারেন।

আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়েনি
সৌরভের কথায়, ২০০৮ সাল থেকে আইপিএল শুরু হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখা যাবে আমরা যত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি এখনও ভারতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। আমরা প্রচুর একদিনের সিরিজ খেলেছি। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা একই রয়েছে। সৌরভ আশাবাদী, আইপিএলে দলের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের পুল আরও বড় হবে। আইপিএলে দেখা গিয়েছে আমাদের দেশে প্রতিভাবান ক্রিকেটার কত রয়েছেন। এখন একইসঙ্গে সাদা ও লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের দুটি শক্তিশালী দলকেই মাঠে নামানো যাচ্ছে ভালো মানের ক্রিকেটার থাকায়।
(ছবি- ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়)












Click it and Unblock the Notifications