আইপিএল মসৃণভাবে করতে টি ২০ বিশ্বকাপ আয়োজনে হঠাৎ ডার্ক হর্স এই দেশ
টি ২০ বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরছে এটা নিশ্চিত। করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি এবং করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কাই মূল কারণ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রেখেছে বিসিসিআই। আইসিসি চাইছে ওমানেও কিছু ম্যাচ হোক। তবে হঠাৎই ডার্ক হর্স হিসেবে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কার নাম।

ভাবনার নেপথ্যে
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে খেলা হয় তিনটি স্টেডিয়ামে। আবু ধাবি, শারজা ও দুবাইয়ে। আইপিএলের ৩১টি ম্যাচ ছাড়াও সেইসব স্টেডিয়ামে পাকিস্তান সুপার লিগ, পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বিভিন্ন খেলাও হবে। এই পরিস্থিতিতে তিনটি স্টেডিয়ামের পিচ কতটা বিশ্বকাপের উপযুক্ত রাখা যাবে সেটাই বড় ভাবনা। সম্প্রতি বিসিসিআইয়ের শীর্ষকর্তারা দুবাইয়ে গিয়ে এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড ও প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা সেরেছেন আইপিএল আয়োজন নিয়ে। এমনকী দেশে করোনা পরিস্থিতিতে টি ২০ বিশ্বকাপ আয়োজন যে সম্ভব নয় তা নিয়েও কথা হয়েছে।

বোর্ডের পরিকল্পনা
২৫ দিনে ৩১টি ম্যাচ। আটটি ডাবল হেডার। আইপিএলের ম্যাচগুলি নিয়ে মাথাব্যথার অন্ত নেই বিসিসিআইয়ের। আইসিসি ২৮ জুন অবধি বিসিসিআইকে সময় দিয়েছে টি ২০ বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে বিশ্বকাপ সরলে অক্টোবরের প্রথমেই স্টেডিয়াম তুলে দিতে হবে আইসিসিকে। পিচ-সহ পরিকাঠামোগত কারণে আইসিসি ইভেন্টের দিন পনেরো আগে আইসিসি-র হাতে স্টেডিয়াম তুলে দেওয়াই নিয়ম। ফলে ১০ অক্টোবর অবধি আইপিএল হলে সেটা কীভাবে সম্ভব হবে তা চিন্তার বিষয়। একটি কেন্দ্রে আইপিএলের অতগুলি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলেও বোর্ডের পরিকল্পনা রয়েছে, প্লে অফ-সহ শেষের দিকের কয়েকটি ম্যাচ দুবাইয়ে করার। ফলে আবু ধাবি ও শারজা আইসিসি-র হাতে যথাসময়ে তুলে দেওয়া হতে পারে। তাতে সরকারিভাবে না হলেও আইসিসি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে বলেও খবর। কেন না, ১৬ দলের বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন দেশের শিবির শুরু হবে। প্রস্তুতি ম্যাচও হওয়ার কথা। ফলে দুবাইয়ে আইপিএলের শেষের দিকে খেলাগুলি হলে ওমানে বিশ্বকাপের প্রথম দিকের ম্যাচগুলি আয়োজনেও কথাবার্তা চালাচ্ছে আইসিসি।

ডার্ক হর্স শ্রীলঙ্কা
এরই মধ্যে ডার্ক হর্স হিসেবে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছিল। এর আগে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনও করেছে শ্রীলঙ্কা। বিসিসিআই সূত্রের খবর, বোর্ডকর্তারা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন তাঁরা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে রাজি কিনা। শ্রীলঙ্কার নিভৃতবাস-বিধিও তেমন কঠোর নয়। শ্রীলঙ্কা রাজি হলে বিসিসিআইয়ের আইপিএল আয়োজন ও স্টেডিয়াম নিয়ে চিন্তা অনেকটাই কমবে। কেন না, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতেই রয়েছে তিনটি স্টেডিয়াম। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর থেকে স্টেডিয়ামের সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, পিচ নিয়ে বিতর্ক এড়ানোও সম্ভব হবে শ্রীলঙ্কায় টি ২০ বিশ্বকাপ করা গেলে। সম্প্রচারকারী সংস্থাও আয়োজক বিসিসিআইয়ের পাশে থাকবে বলেই আশা বোর্ডকর্তাদের।

শ্রীলঙ্কার পাশে বিসিসিআই
বোর্ডের প্রস্তাব শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ফেরাবে না বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল। কেন না, কোভিড পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কট কাটাতে বিসিসিআই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আশ্বাস দিয়ে রেখেছে। এমনিতেই আর্থিক হাল খারাপ থাকায় ক্রিকেটারদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো চালু করা হয়েছে তা নিয়ে ক্রিকেটারদের বিদ্রোহে প্রবল চাপে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। তবে বিশ্বকাপ কোথায় আয়োজন করা হবে তা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কর মকুব যাতে হয় তার জন্য চাপ দিচ্ছে আইসিসি। এই ব্যাপারটি সুনিশ্চিত করে আইসিসিকে এ মাসের মাঝামাঝি জানাতে হবে বিশ্বকাপের আয়োজক বিসিসিআইকে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বিসিসিআই কর্তারা।












Click it and Unblock the Notifications