মুম্বই মাদক কাণ্ডের তদন্তে ত্রুটি, বিপথগামী, অভিযোগ তুলল দিল্লি এনসিবি
মুম্বই মাদক কাণ্ডের তদন্তে ত্রুটি, বিপথগামী, অভিযোগ তুলল দিল্লি এনসিবি
মুম্বই মাদক কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বভার সম্প্রতি দেওয়া হয়েছে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর দিল্লির টিমকে। তারা তদন্তভার হাতে নিয়েই এই মামলায় বড় ধরনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। এই মামলা সম্পর্কে অবগত এক এনসিবি সূত্র জানিয়েছে যে মাদক কাণ্ডে শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান গ্রেফতার হয়েছিলেন সেই সময় তদন্তকারী অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ে নিয়মিত তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত ছিলেন।

তদন্তে দিল্লি এনসিবি টিম
এনসিবি জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়েকে মুম্বই ইউনিটের ছ'টি মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলি দিল্লির এনসিবি টিমকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এনসিবি আধিকারিকরা শুধুমাত্র আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং ক্রুজে থাকা অন্য যাত্রীদের চলে যাওয়ার জন্য বলেছিল। দিল্লির এনসিবি সূত্রের খবর, তদন্তকারী আধিকারিক ওয়াংখেড়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে দিল্লির এনসিবি টিম। ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে তদন্ত বিপথে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে যে দিল্লি টিমের তদন্তের সময় হেফাজতে থাকার সময় আরিয়ান খানের নিরাপত্তা বড়সড় সমস্যা হতে পারে এজেন্সির কাছে।

সমীর ওয়াংখেড়েকে সরানো হল মুম্বই মাদক কাণ্ড থেকে
মুম্বই মাদক মামলায় আরিয়ান খান গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গে সমীর ওয়াংখেড়ের ওপর এই কাণ্ডের এক সাক্ষী তোলাবাজির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স তদন্ত বসানো হয়েছে। এক হলফনামায় এই মামলার অন্যতম সাক্ষী প্রভাকর সইল ওয়াংখেড়ে সহ কিছু এনসিবি আধিকারিকদের ২৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যাতে আরিয়ান খানকে অব্যাহতি দেওয়া যায় এই মামলা থেকে। একাধিক ব্যক্তিগত ও চাকরি-সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ওয়াংখেড়েকে মুম্বই জোন ডিরেক্টরের পদ থেকে সরানো হয়নি। ইতিমধ্যেই নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়েকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরিয়ান খান মাদক মামলা থেকে। কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে শুক্রবার জানানো হয়েছে, ক্রুজ ড্রাগস পার্টি মামলার তদন্তকারী দলের অংশ থাকছেন না বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই দুঁদে অফিসার। তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চালাচ্ছে এনসিবি। এর মাঝেই দিল্লিতে এনসিবির সদর দফতর থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আরিয়ান-সহ মোট পাঁচটি হাইপ্রোফাইল মাদক-মামলা এবার সেন্ট্রাল ইউনিটের হাতে সঁপে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী মুম্বই মাদক মামলা তদন্ত শুরু করেছে দিল্লির এনসিবি।

বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন
জানা গিয়েছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, যারা এই ছয় মামলার স্থানান্তরের জিম্মায় রয়েছে। আগামী রবিবারই মুম্বই এসে পৌঁছাবে সেই টিম। কী কারণে এই সিদ্ধান্ত? এনসিবি সূত্র বলছে 'এই ছ'টি মামলার সঙ্গে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব জড়িয়ে রয়েছে এবং এই মামলাগুলিতে একাধিক রাজ্যের যোগ রয়েছে তাই এই কেসগুলি সেন্ট্রাল ইউনিটের হাতে থাকাই বাঞ্ছনীয়'।

নবাব মালিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা
অপরদিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিকের নামেই মানহানির মামলা দায়ের করলেন এনসিবি আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ের বাবা ধ্যানদেব কাচরুজি ওয়াংখেড়ে। প্রতিদিনই ছেলের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অভিযোগ। তোলাবাজি, ঘুষের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরিয়ান খান মাদক কাণ্ড সহ ছয়টি হাই-প্রোফাইল মামলা থেকে। শনিবার বম্বে হাইকোর্টে তিনি এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাল দায়ের করেন। এই বিষয়ে সমীর ওয়াংখেড়ের আইনজীবী আরশাদ শেখ জানান, নবাব মালিক বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওয়াংখেড়ে ও তাঁর পরিবারের উপর ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পরিবারের সকলকে জালিয়াতও বলেছেন নবাব মালিক। নিত্যদিনের এই আক্রমণের কারণে ওয়াংখেড়ে পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব পড়ছে। তাই সমীর ওয়াংখেড়ের বাবা এবার এই পদক্ষেপ করলেন।












Click it and Unblock the Notifications