সত্যজিতের হাত ধরেই অভিনয় জগতে ‘মর্জিনা-আবদুল্লা’ খ্যাত দেবরাজের পথচলা শুরু
সাল ১৯৭০। বয়স তখন প্রায় ২০ ছুঁইছুঁই। লম্বা, ছিপছিপে চেহারা। মুখে হালকা দাঁড়ি। অপূর্ব সুন্দর মুখশ্রী। এক মাথা চুল। এমনই এক তরুণ অভিনেতার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল সত্যজিৎ রায়ের 'প্রতিদ্বন্দ্বী' ছবিতে। নাহ, এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাননি তিনি। তবে, পার্শ্বচরিত্রেও দর্শকের নজর কেড়েছিলেন এই অভিনেতা। কথা হচ্ছে অভিনেতা দেবরাজ রায়কে নিয়ে। যিনি একাধারে ছিলেন তুখর অভিনেতা আবার অন্যদিকে ছিলেন একজন সংবাদ পাঠকও। শ্রুতি নাটকেও তাঁর কণ্ঠের জুড়ি মেলা ভার।
মৃণাল সেনের 'কলকাতা ৭১'-এ দর্শকের নজর কেড়েছিলেন দেবরাজ রায়। এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭১ সালে। এরপর পরবর্তীকালে তরুণ মজুমদার, বিভূতি লাহা, তপন সিংহ সহ একাধিক দিকপাল পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। দিনেন গুপ্তা পরিচালিত 'মর্জিনা আবদুল্লা' ছবিতে দেবরাজ রায় অভিনীত হুসেনের চরিত্রটি আজও দর্শকের মনে দাগ কাটে। তাঁর লিপে মান্না দে-র গাওয়া গান দর্শকের মনের মণিকোঠায় আজও বিরাজমান।

'মর্জিনা আবদুল্লা' ছবির মুক্তির পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি দেবরাজ রায়কে। চলচ্চিত্র জগতে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র অভিনয় জগতে নিজেকে আটকে রাখেননি দেবরাজ রায়। তিনি দূরদর্শনে সংবাদ পাঠকের কাজও করেছেন, তেমনই তাঁর কণ্ঠে শোনা গিয়েছে বহু শ্রুতি নাটকও।
১৭ অক্টোবর তাঁর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে অভিনয় জগতে। বলাই বাহুল্য দেবরাজ রায়ের মতো এক অভিনেতার চলে যাওয়ার অর্থ বাংলা বিনোদন জগতের নক্ষত্র পতনের সমান। যদিও বহু দিন ধরেই তিনি লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন থেকে দূরে ছিলেন। অসুস্থতার কারণেই তাঁকে আর সিনেমায় দেখা যেত না। তবে তাঁর অভিনীত সিনেমা, নাটক এবং তাঁর সংবাদ পাঠ আজও দর্শককে মুগ্ধ করে তোলে। এভাবেই তিনি আজীবন অমর হয়ে থাকবেন প্রত্যেক দর্শকের মনের মণিকোঠায়।












Click it and Unblock the Notifications