‘ফ্যাটি লিভার’ রোগ কী, কীভাবেই বা মিলবে এর থেকে রেহাই, জানুন
'ফ্যাটি লিভার’ এই কথাটির সঙ্গে বর্তমান সময়ে সকলেই মোটামুটি জড়িয়ে যাচ্ছেন। কারণ ফ্যাটি লিভার রোগটি এখন ঘরে ঘরে। প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বলা হয়, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ফ্যাটি লিভারের রোগের সৃষ্টি হয়।
যদিও এই রোগের লক্ষণগুলি আপনি বুঝে না উঠতে পারেন এবং অসুখকে এড়িয়ে যান তাহলে নানা রকম সমস্যা করতে পারেন আপনিও। এই রোগটিকে কখনোই কিন্তু হালকা ভাবে নেবেন না। লিভার নিজের মতন ঠিকঠাক কাজ করতে পারেন না তখনই নানান সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে বাঁধে নানান অসুখও।

কয় ধরনের ফ্যাটি লিভার হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার দু'ধরনের হয়। ফ্যাটি লিভার দুই প্রকার, অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার ও নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রথমটি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এবং দ্বিতীয়টি অ্যালকোহল ছাড়া অন্য অনেক কারণে হয়ে থাকে। বলা হয়, যে সকল ব্যক্তি বেশি পরিমাণে চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট খাবার বেশি খায় তাঁরা ফ্যাটি লিভারের রোগে আক্রান্ত হন। ডায়াবিটিস রোগে যারা আক্রান্ত হন তারাও এই রোগে আক্রান্ত হন বেশি।

লক্ষণ কী
যে সকল ব্যক্তি অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের রোগে আক্রান্ত হন তাদের শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে, কাজ করার ইচ্ছাও চলে যায়। বলা হয়, প্রচন্ড পরিমাণে মদ খাওয়ার কারণেও এই রোগে অনেকে আক্রান্ত হন।

অ্যালকোহল যুক্ত ফ্যাটি লিভার কী
যে সকল ব্যক্তি অ্যালকোহল যুক্ত ফ্যাটি লিভারের রোগে আক্রান্ত হন তাদের খিদে প্রচন্ড কমে আসে। তাই নয়, বারবার ঘুম পায়। শরীরের রক্ত কমতে থাকে । আবার অনেক সময় বমি হয়, আবার বমির সঙ্গেও রক্ত আসে অনেকের। তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় অনেক সময়।

নন অ্যালকোহলিক যুক্ত ফ্যাটি লিভার কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, নন অ্যালকোহলিক যুক্ত ফ্যাটি লিভার হয় কেন তা হয়তো অনেকেই জানেন না। এগুলি কিন্তু মূলত অ্যালকোহল অর্থাৎ মদ খাওয়ার কারণে নয়, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার কারণ নেই, আর এই কারণেই সৃষ্টি হয় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের সৃষ্টি হয়েছে।
যে সকল ব্যক্তির নন অ্যালকোহল ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের ওজন কমতে থাকে। তাঁদের শরীর প্রচন্ড ক্লান্ত এবং দুর্বল হয়ে যায়। পেটের ডান দিকে ব্যথা অনুভব হয়।

কী কী নিয়ন্ত্রণে রাখবেন
এই রোগ যদি শরীরে বেড়ে যায় তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিন, করুন চিকিৎসাও। যদি আপনি এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে সুগার, কোলস্টেরল, প্রেশার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। যে সকল ব্যক্তি খুব মোটা হন বা উচ্চ রক্ত চাপের শিকার হন সেই সকল ব্যক্তির ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাছাড়া যে সকল ব্যক্তি বেশি পরিমাণে ধূমপান করেন তাঁরা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হন।

কী খাবেন, আর কী খাবেন না
যদি আপনি ফ্যাটি লিভারের রোগে আক্রান্ত না হতে চান তাহলে ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন- তেল, মাখন, ঘি, বাইরের খাবার ইত্যাদি একদমই খাবেন না। এছাড়া বেশি মাত্রাই ফ্রাই করা খাবার একদম খাবেন না। যেমন- চিপস জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। বেশি করে খান মরশুমি ফল, শাক, সবজি।
ছবি সৌ:পিক্সেলস












Click it and Unblock the Notifications