পৃথিবীর বাইরে আছে জীবন! সম্প্রতি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে আশ্চর্যজনক তথ্য
পৃথিবীর বাইরে আছে জীবন! সম্প্রতি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে আশ্চর্যজনক তথ্য
পৃথিবীর বাইরেও আছে প্রাণের অস্তিত্ব। সম্প্রতি জাপানি গবেষকরা আবিষ্কার করেছে এমনই এক উপাদান, যা থেকে তাঁরা ধারণা করছেন, পৃথিবীর বাইরেও রয়েছে জীবন। জাপানি গবেষকদের এই আবিষ্কারে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় মিলল এমন বিষম বস্তু, যা থেকে গবেষকরা মনে করছে পৃথিবীর বাইরেও রয়েছে প্রাণ!

জীবনের মূল উপাদান আবিষ্কার
জাপানের গবেষরকরা প্রথমবারের মতো অ্যামিনো অ্যাসিড আবিষ্কার করেছেন। এই অ্যামিনো অ্যাসিড হল জীবনের মূল উপাদান, যা মহাকাশে উড়ন্ত একটি গ্রহাণুতে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি গবেষকদের। তাঁরা হ্যাবুসা ২ মিশনে গ্রহাণু রিযুগু থেকে পাওয়া এক নমুনায় ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড শনাক্ত করেছেন।

জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্রের খোঁজ
গ্রহাণুর নমুনা থেকে প্রাপ্ত অনুসন্ধানগুলি নিশ্চিত করে যে এতে কার্বন এবং জৈব পদার্থের চিহ্ন রয়েছে। জাপানি স্পেস এজেন্সি 'জাক্সা' কীভাবে সৌরজগৎ থেকে উপকরণগুলি পেল এবং পৃথিবীর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্র খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করল তার ব্যাখ্যাও করেছেন গবেষকরা।

জীবিত প্রাণীর জন্য অপরিহার্য অণু
অ্যামিনো অ্যাসিড হল এমন একটি অণু যা প্রোটিন গঠন করতে একত্রিত হয় এবং জীবন গঠনের সহায়ক হয়। এই অণুগুলি জীবিত প্রাণীর জন্য অপরিহার্য। কারণ তারা খাদ্য, বৃদ্ধি, শরীরের টিস্যুগুলি মেরামত করতে এবং অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক কার্য সম্পাদনে সহায়তা করে। এগুলি শরীরের শক্তির উৎস হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

২০টি আবিষ্কার সৌরজগতের সৃষ্টি থেকে
এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি এর আগে পৃথিবীতে পতিত গ্রহাণুগুলিতে শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রবেশের সময় হারিয়ে গিয়েছিল। তা পুড়ে যায় এবং প্লাজমা তৈরি করে। এই মূল উপাদানগুলির মধ্যে ২০টি আবিষ্কার সৌরজগতের সৃষ্টি থেকে জৈব উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করে৷

পৃথিবীতে জীবনের বীজের সম্ভাব্য উৎস
হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসায়োশি ইউরিমোটো বলেন, "রিযুগু উপাদান হল সৌরজগতের সবথেকে আদিম উপাদান, যা আমরা আগে গবেষণা করেছি। রিযুগু হল একটি সিআই কনড্রাইট গ্রহাণু, এক ধরনের পাথরযুক্ত কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহাণু, যার রাসায়নিক গঠনে সূর্যের সঙ্গে সবথেকে বেশি মিল পাওয়া যায়। এই গ্রহাণুগুলি জল এবং জৈব উপাদান সমৃদ্ধ, বিলিয়ন বছর আগে নবজাত পৃথিবীতে জীবনের বীজের সম্ভাব্য উৎস ছিল তা।

পৃথিবীতে কীভাবে গঠিত এবং বিবর্তিত
গ্রহাণুগুলি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু তা গ্রহের তুলনায় অনেক ছোট। সৌরজগতের প্রাচীনতম বস্তুগুলির মধ্যে একটি। তা পৃথিবীতে কীভাবে গঠিত এবং বিবর্তিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে। হ্যাবুসা ২ মিশনটি সৌরজগতের গ্রহগুলির উৎসের উত্তর খোঁজার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে চালু করা হয়েছিল।

মহাকাশের ইতিহাসে প্রথমবার আবিষ্কার
হ্যাবুসা-২ ২০১৪ সালে লঞ্চ করা হয়েছিল। এটি অত্যন্ত পাথুরে পৃষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও দুবার রিয়ুগুতে নেমেছিল এবং ২০১৮ সালের জুন মাসে সেখানে পৌঁছনোর দেড় বছর সময় সফলভাবে ডেটা এবং নমুনা সংগ্রহ করেছিল। ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে প্রথম টাচডাউনে, এটি পৃষ্ঠের ধূলিকণার নমুনা সংগ্রহ করেছিল। জুলাই মাসে এটি মহাকাশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রহাণু থেকে ভূগর্ভস্থ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একটি গর্তে অবতরণ করার পরে গ্রহাণুর পৃষ্ঠে বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ক্যাপসুলটি ড্রপ করার পরে মহাকাশে ফেরৎ
মহাকাশযানটি তারপরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার উপরে গ্রহাণু থেকে মাটি ধারণকারী ক্যাপসুলটি ফেলে দেশে ফিরে যাত্রা শুরু করে। যাইহোক, এটি ওই মিশনের শেষ অনুসন্ধান ছিল না। ক্যাপসুলটি ড্রপ করার পরে এটি মহাকাশে ফিরে এসেছে এবং ১০ বছর সময় লাগবে এমন একটি যাত্রায় ১৯৯৮কেওয়াই২৬ নামক আরেকটি দূরবর্তী ছোট গ্রহাণুর দিকে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications