সিপিএমের হারানো জমি ফেরাতে মাস্টারস্ট্রোক পার্টি কংগ্রেসে, টার্গেট তফশিলি ও আদিবাসী ভোট
সিপিএমের হারানো জমি ফেরাতে মাস্টারস্ট্রোক পার্টি কংগ্রেসে, টার্গেট তফশিলি ও আদিবাসী ভোট
একুশের নির্বাচনোত্তর পর্বে সিপিএম বাংলায় হারানো জমি ফেরানার লড়াই শুরু করেছে। সিপিএম চাইছে তাঁদের হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার করতে। একদিন যে সংখ্যালঘু ভোট, আদিবাসী ও তফশিলি ভোটে একাধিপত্য ছিল সিপিএমের, এবার সেই ভোট ফেরানোই পাখির চোখ করেছে সিপিএম। সিপিএম তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে অঙ্ক কষে।

সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের লক্ষ্যে সিপিএম
সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদে এসছে নতুন মুখ। সূর্যকান্ত মিশ্রের পরিবর্তে রাজ্য সম্পাদক হয়েছেন মহম্মদ সেলিম। এই নির্বাচন স্পষ্ট করে দেয়, সিপিএম সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর দিয়েছেষ এর আগে সাড় ৬০ দশকের ইতিহাসে দেখা যায়নি কোনও সংখ্যালঘুকে ওই পদে। তাই মহমম্দ সেলিমের রাজ্য সম্পাদক হওয়া একটা বিরল সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

তফশিলি ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে
সিপিএম শুধু সেখানেই থেমে নেই। সংখ্যালঘুরা ছাড়াও সিপিএমের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক ছিল তফশিলি ও আদিবাসী মহলে। সেই ভোটও ফেরাতে হবে। তবে বিজেপি ও তৃণমূলকে একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ জানানো যাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোতে বাংলা থেকে স্থান দেওয়া হল এমন দুই নেতাকে, যাঁদের অন্তর্ভুক্তি স্পষ্ট করে দেয় সিপিএমের লক্ষ্য।

পলিটব্যুরোতে রামচন্দ্র ডোমের অন্তর্ভুক্তি
সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিমান বসু। বয়সের ভারে তিনি সরে যাওয়ার পর তাঁর জায়গায় পলিটব্যুরোতে কে আসবেন বাংলা থেকে তা নিয়ে চর্চা চলছিল পার্টি কংগ্রেস শুরুর আগে থেকেই। অনেকে শ্রীদীপ ভট্টাচার্যকে এগিয়ে রেখেছিলেন এই পদে। কিন্ত শ্রীদীপ নন, সিপিএম পলিটব্যুরোতে বেছে নেওয়া হল রামচন্দ্র ডোমকে।

রামের অন্তর্ভুক্তিতে কী বার্তা দিতে চাইল সিপিএম
রামচন্দ্র ডোমকে পলিটব্যুরো সদস্য করে কী বার্তা দিতে চাইল সিপিএম, তা নিয়ে এখন পর্যালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রামচন্দ্র ডোম বীরভুমের নেতা। তিনি দীর্ঘদিন সাংসদ ছিলেন। তারপর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁর পলিটব্যুরোতে উত্তরণ স্বাভাবিকই। কিন্তু এর মধ্যে এক অঙ্কও।

আদিবাসীমহলে শক্ত জমি ফেরাতে চাইছে সিপিএম
রামচন্দ্র ডোমকে পলিটব্যুরোতে স্থান দেওয়া এবং দেবলীনা হেমব্রমকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনার পিছনে বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে। তাঁদের এই অন্তর্ভুক্তির পিছনে রয়েছে তফিশিলি ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর সুচিন্তিত পরিকল্পনা। কেননা একটা সময় তফশিলি ও আদিবাসী মহলে সিপিএমের জনভিত্তি ছিল বেশ শক্তিশালী। আবার সেই শক্ত জমি ফেরাতে চাইছে সিপিএম।

সিপিএম অঙ্ক কষছে হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে
সিপিএম বুঝে গিয়েছে, বাংলার একাংশ বিরোধী দল হিসেবে বিজেপিকে চাইছে না। তাই তারা ফরে সিপিএমের দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। যারা সিপিএম বা বামফ্রন্ট ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল, তারা বিজেপি থেকে সরে এসে হয় সিপিএমে ফিরছে, নতুবা তৃণমূলে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে এখন সিপিএমকে অঙ্ক কষতে হচ্ছে সেই হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে।

হারানো ভোটব্যাঙ্কের জন্য ঝাঁপাচ্ছে সিপিএম
সিপিএম চাইছে রামচন্দ্র ডোম ও দেবলীনা হেমব্রমের মতো নেতা-নেত্রীদের দিয়ে অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনতে। ২০০৮ সালের পর থেকে যে ভোট তাদের কাছে থেকে সরে যেতে শুরু করেছিল, এবার ২০২২-এ এসে সেই হারানো ভোটব্যাঙ্কের জন্য ঝাঁপাচ্ছে সিপিএম। সিপিএমের এই হারানো ভোট প্রথমে তৃণমূল, তারপর বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল, এখন সেই ভোটব্যাঙ্ক আবার নিজের পালে ফিরিয়ে আনাই চ্যালেঞ্জ সিপিএমের।












Click it and Unblock the Notifications