কংগ্রেসের আরও দৈন্যদশা! ৫ মাসে ৫ নেতার পদত্যাগ মিশন ২৪-এর আগে অশনি সংকেত
কংগ্রেসের আরও দৈন্যদশা! ৫ মাসে ৫ নেতার পদত্যাগ মিশন ২৪-এর আগে অশনি সংকেত
কংগ্রেসের দৈন্যদশা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। যত লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের ডাকসাইটে নেতারা পদত্যাগ করছেন, কেউ যাচ্ছেন বিজেপিতে, কেউ বিরোধী অন্য কোনও দলে। কংগ্রেস নেতাদের এই পদত্যাগে আখেরে লাভ হচ্ছে বিজেপিরই। আর কংগ্রেস ক্রমেই নেমে যাচ্ছে তলানিতে।

সিঁদুরে মেঘও দেখতে শুরু করেছে কংগ্রেস
মিশন ২০২৪-এ পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স গ্রুপ তৈরি করেছে কংগ্রেসে। কংগ্রেস চাইছে ঘুরে দাঁড়াতে। তাই ভোদাভেদ ভুলে সকলে নিয়ে তাঁরা কমিটি তৈরি করেছে মিশন ২৪-এ লড়াইয়ের জন্য। সেই কমিটিতে আবার শামিল করা হয়েছে ভোট কৌশলী সুনীল কানুগোলুকে। আটঘাট বেঁধে তাঁরা ময়দানে নামতে চলেছে এবার। কিন্তু একের পর এক বরিষ্ঠ নেতা যেভাবে দল ছাড়ছেন তাতে সিঁদুরে মেঘও দেখতে শুরু করেছে কংগ্রেস।

সংগঠন ধরে রাখার কোনও প্রচেষ্টা নেই কংগ্রেসের
কংগ্রেসে ৫ মাসে ৫ নেতা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘাঁটি গেড়েছে বিজেপিতে। আবার অনেকে অন্য দলেও যোগ দিয়েছেন। এই প্রবণতায় অশনি সংকেত দেখছে রাজনৈতিক মহল। এখনও পর্যন্ত এই প্রবণতা রুখতে কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রচেষ্টা চালানো হয়নি। লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করা হলেও সংগঠন ধরে রাখার কোনও প্রয়াস চোখে পড়ছে না আদৌ।

১৯-এ মুখ থুবড়ে পড়ার পর উঠতে পারেনি রাহুল বাহিনী
২০১৪-র নির্বাচন বিজেপির কাছে হারের পর ২০১৯-এ ফের মুখ থুবড়ে পড়ে রাহুল বাহিনী। তারপর রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। সওয়াল করেন গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে সভাপতি করতে। কিন্তু কংগ্রেস গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে এখনও পর্যন্ত সভাপতি পদে বসাতে পারেন। অন্তর্বর্তীকালীল সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী।

কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কপিল সিব্বল
এরই মধ্যে কংগ্রেসে তৈরি হয়েছে বিরুদ্ধে গোষ্ঠী। মূলত গান্ধীমুক্ত কংগ্রেস গড়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু কংগ্রেস নেতা জি-২৩ গঠন করেন। সেই জি-২৩ গোষ্ঠীর মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের বরিষ্ঠ বহু নেতা। গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বল, মণীশ তিওয়ারি-সহ অনেকেই। বিদ্রোহী এই নেতারা কংগ্রেসে থেকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প নিয়েছিলেন। সেখানেও ভাঙন ধরল, কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কপিল সিব্বলের মতো বরিষ্ঠ নেতা তথা দোর্দন্ডপ্রতাপ আইনজীবী।

বিভাজন আর দলত্যাগের প্রবণতায় ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেস
শুধু বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যেই নয়, কংগ্রেসের শাসক গোষ্ঠীর নেতাদের অনেকেও দল ছেড়ে বিজেপির দিকে পা বাড়িয়েছেন। ফলে কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু হয়ে চলেছে। ২৪-এর ভোটের আগে যখন সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার দরকার, তখন বিভাজন আর দলত্যাগের প্রবণতা দেখা গিয়েছে কংগ্রেসে। ফলে লড়াই থেকে ক্রমশ ছিটকে যাচ্ছে কংগ্রেস।

বুমেরাং হতে পারে মিশন ২৪-এ কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ
প্রায় দু-বছর ধরে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী কপিল সিব্বল। তিনি কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স গ্রুপ তৈরির পর হঠাৎ করেই দল ছাড়লেন। রাজ্যসভার টিকিট নিয়ে যোগ দিলেন সমাজবাদী পার্টিতে। কংগ্রেসে ভাঙনের ধারা বজায় রইল কপিলের দলত্যাগে। এই প্রবণতায় বুমেরাং হতে পারে মিশন ২৪-এ কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ।

কপিল সিব্বললের আগে যাঁরা দল ছেড়েছেন সম্প্রতি
কপিল সিব্বল কংগ্রেসের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী জি-২৩'র অন্যতম মুখ ছিলেন। শুধু তিনিই নন, সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়েছেন পাঞ্জাবের প্রদেশ সভাপতি সুনীল জাখর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির সমালোচনা করায় শোকজ করা হয়েছিল তাঁকে। তারপর তিনি কংগ্রেস ছেড়ে দেন, যোগ দেন বিজেপিতে। এর আগে কংগ্রেস ছেড়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং নতুন দল গড়েছিলেন। তারপর হারাতে হয়েছে পাঞ্জাবের ক্ষমতা। সম্প্রতি প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোৎ সিধুকে ৩৫ বছরের পুরনো মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। এত কিছুর পরও কংগ্রেসে ভাঙন থামেনি।

মোদী-রাজ্য গুজরাতেও কংগ্রেসে দলত্যাগের রোগ
কংগ্রেস যখন মোদী-রাজ্য গুজরাতকে টার্গেট করেছে, তখন সেখানেও দলকে ধরে রাখতে পারছে না তারা। ২০১৭-র নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে জোর টক্কর দিয়েছিল বিজেপিকে। সেই লড়াইয়ে অন্যতম মুখ ছিলেন হার্দিক প্যাটেল। পতিদার এই নেতা কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি ছিলেন। তাঁকেও ধরে রাখতে পারেনি দল। অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও তিনি শোনেনি। যার ফলে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেঠেন।

কংগ্রেস ছেড়েই গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির পতনের ভবিষ্যদ্বাণী
এছাড়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী কুমার কংগ্রেস ছেড়েছেন। তিনি কংগ্রেস ছেড়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করে জানান শতাব্দী প্রাচীন গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি পতনের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আরও এক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরপিএন সিং কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। কেরল কংগ্রেসের নেতা কেভি ধামাসকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৯ পরবর্তী পর্যায়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, জিতিন প্রসাদের মতো শীর্ষ নেতারা কংগ্রেস ছেড়েছেন।

সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই দূরে থাক, দল ধরে রাখতেই ব্যর্থ
শুধু তাই নয়, কংগ্রেস ছেড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো, মুকুল সাংমা, মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সুস্মিতা দেব, অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বোরা প্রমুখ। এছাড়াও রাজ্য ও জেলাস্তরের বহু নেতা সরে গিয়েছেন কংগ্রেস থেকে। এই অবস্থায় কংগ্রেস কাদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে, সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে যখন সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের দরকার, তখন কংগ্রেসের এই গা ছাড়া মনোভাব বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে ২০২৪-এ। এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।












Click it and Unblock the Notifications