জিএসটি সংস্কারে ভর করে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলার অর্থনীতি! কলকাতায় এসে আশা অর্থমন্ত্রী নির্মলার গলায়
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এদিন বৃহস্পতিবার 'নেক্সট জেন জিএসটি' সংস্কারের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে নতুন কর কাঠামো ভারতের জনগণ, বিশেষ করে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, কৃষক, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের জন্য লাভজনক হবে।
সীতারমন জানিয়েছেন, নতুন জিএসটি হারগুলি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে লাগু হবে। ফলে বাংলার বৃহত্তম উৎসব দুর্গাপুজোর সময়ই নতুন দাম সামনে আসবে। কলকাতায় জিএসটি সম্পর্কিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলি করের হার কমানো, সম্মতি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসায়িক জটিলতা দূর করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "নতুন প্রজন্মের জিএসটি সংস্কারগুলি কয়েকটি মূল বিষয় মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের সাহায্য করা, কৃষকদের সমর্থন করা, MSME-কে সহায়তা করা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে প্রবৃদ্ধি চালনা করা।"
তিনি যোগ করেন যে, জিএসটির পর্যালোচনা সমস্ত রাজ্যের ব্যাপক পরামর্শ ও প্রচেষ্টার ফল। সেখানে জিএসটি কাউন্সিলের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। সীতারমন বলেন, "তবে, যদি আমি রাজ্যগুলিকে হার কমানোর প্রস্তাবে একত্রিত হওয়ার এবং সম্মত হওয়ার জন্য কৃতিত্ব না দিই, তবে ভুল হবে। আমি জিএসটি কাউন্সিলের অর্থমন্ত্রীদের কাছে ব্যক্তিগত চিঠি লিখেছিলাম। দল নির্বিশেষে, তাদের গঠনমূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে, কারণ ভারতের মানুষের এখন এই বদল প্রয়োজন।"
২২ সেপ্টেম্বর থেকে জিএসটি কার্যকর হবে। এটি দেবীপক্ষের প্রথম দিন। সীতারমনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাংলার একটি শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। বাংলার এই বার্তা দেশের বাকি অংশকে অনুপ্রাণিত করবে। যেমনটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় হয়েছিল। এবং যেভাবে বাংলা সবসময় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, "দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। এবং এই সময়ে রাজ্যের মানুষ প্রচুর কেনাকাটা করেন। এটি মাথায় রেখে, আমরা নতুন জিএসটি হার কার্যকর করার জন্য এই তারিখটি বেছে নিয়েছি।"
নতুন জিএসটি কাঠামো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর কর কমাবে এবং স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করবে। সীতারমন আরও জানান যে 'নকশি কাঁথা', মালদার আম, দার্জিলিং চা, পাটের ব্যাগ, হোসিয়ারি এবং রেডিমেড পোশাকের মতো পণ্যগুলি নতুন সংস্কার থেকে সরাসরি উপকৃত হবে। তাঁর আশা, এই পরিবর্তনগুলি রাজ্যের বিভিন্ন খাতে উন্নতি ঘটাবে। ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি পণ্য পর্যন্ত, নতুন জিএসটি কাঠামো বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করবে, যা রাজ্যের অর্থনীতিকেও সাহায্য করবে।












Click it and Unblock the Notifications