এই কাঠেই তৈরি হয় মহাপ্রভুর রথ, পুরীর রথ তৈরির এই অজানা কাহিনী সম্পর্কে আপনার কি জানা?
হিন্দুধর্মে রথযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই দিনটি পালন করে থাকেন সকলে। এই দিনে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।
রথের দিন মহাপ্রভু জগন্নাথ, ভাই বলরাম, বোন সুভদ্রা রথে চড়ে মাসির বাড়ি গুন্ডিচায় যান। সেই যাত্রাকেই বলা হয় রথযাত্রা। যখন দেবতারা সাতদিন পরে আবার ফিরে আসেন। সেই ফিরতি যাত্রাকেই উল্টো রথ বলা হয়।

- কোন কাঠ ব্যবহার করে তৈরি হয় রথ
দেবতারা যে রথে ভ্রমন করেন সেই রথ কিন্তু নিম কাঠের তৈরি হয়। রথ তৈরি করার সময় কিন্তু কোনও পেরেক, কাটার ব্যবহার করা হয় না। নিশ্চয়ই ভাবছেন তা কি করে সম্ভব? ভগবান জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার জন্য তিনটি রথ তৈরি করা হয়।
- কোথা থেকে রথ তৈরির কাঠ
প্রতিবছর নয়াগড়ের দাস পাল্লা বন থেকে কাঠ আনা হয়। এই রথ তৈরি করতে একদিনে কিন্তু হয় না। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু হয় সেই রথ তৈরি করার প্রস্তুতি। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে রথযাত্রা পর্যন্ত অর্থাৎ এই দুই মাস কিন্তু নির্মাণ কাজ চলে। সাত ধরনের কারিগর থাকেন পুরীর রথ তৈরিতে।
- কারিগররা কী নিয়ম মানতে বাধ্য
রথ তৈরি করতে রথের কাঠ সোজা ও খাঁটি হতে হবে। তবেই কিন্তু রথ তৈরি করা যাবে। অনেক নিয়ম, বিধি মেনে তবেই কিন্তু এই রথ তৈরি করা যায়। যখন কারিগররা রথ তৈরি করেন তখন তারা একই সময় খান। হালকা খাবার খান। কারিগরদের ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। যদি সেই কারিগরের বাড়িতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে সেই কারিগরকে কিন্তু রথ তৈরি করার কাজ থেকে সরে যেতে হয়।
- মহাপ্রভুর রথের নাম কী
পুরীর জগন্নাথদেবের এই রথের নাম নন্দীঘোষ। রথের নাম দিয়েছিলেন ইন্দ্র। দারুক হল রথের সারথি। দেবতার রথে থাকে ১৬ টি চাকা। মহাপ্রভুর রথের চাকার পরিধি ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। ছোট, বড় মিলিয়ে মোট ৮৩২টি কাঠের টুকরো দিয়ে এই রথ নির্মাণ করা হয়। ভাই বলরামের রথকে বলা হয় তালধ্বজ। বোন সুভদ্রার রথের নাম পদ্মধ্বজ। যার উচ্চতা ৪৫ ফুট।
প্রতিবছর পুরীতে যে রথ তৈরি হয় তাঁর জন্য গাছের গুঁড়ি কাটতে সোনার কুড়ুল ব্যবহার করা হয়। কাটার আগে কুঠারটি প্রথমে ভগবান জগন্নাথের মূর্তিতে স্পর্শ করানো হয়। তারপরেই কিন্তু রথ তৈরি করার কাজ শুরু করা হয়।বলা হয়, জগন্নাথের রথ তৈরিতে নিম গাছ ছাড়াও হাসি গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়।
- কী করা হয় কাঠ
ভক্তদের কাছে রথের চাকা কিন্তু বিক্রি করা হয়। ভাই বলরামের রথে ১৪ টি চাকা, বোন সুভদ্রার রথে ১২ টি চাকা রয়েছে। যাত্রার পর জগন্নাথ মন্দিরে প্রতিদিনের প্রসাদ তৈরিতে রথের কাঠ জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই রথের চাকাগুলি ভক্তদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই বছরও আড়ম্বরের সঙ্গে এই বিশেষ দিনটি পালন করবেন মহাপ্রভুর ভক্তরা।












Click it and Unblock the Notifications