জানেন কি দুর্গার মূর্তি তৈরিতে কোন বিশেষ মাটি ব্যবহার করা হয়? কী বিশেষ উপাদান থাকে সেই মাটিতে
জানেন কি দুর্গার মূর্তি তৈরিতে কোন বিশেষ মাটি ব্যবহার করা হয়? কী বিশেষ উপাদান থাকে সেই মাটিতে
দুর্গাপুজোর আর এক মাস বাকি। তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে। কুমোরটুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। এই দুর্গা প্রতিমা তৈরি নিয়ে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। যা কমোররা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। বিশেষ মাটি দিয়েই তৈরি করতে হয় দুর্গা প্রতিমা। বলা হয় পতিতা পল্লির মাটি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়। কিন্তু বলা হয় শুধু পতিতা পল্লির মাটি হলেই হয় না সেই মাটিতে মেশাতে হয়একাধিক উপাদান। তবেই মাটির প্রতিমা মৃন্ময়ী হয়ে ওঠেন। কী সেই বিশেষ উপাদান জেনে নিন বিস্তারিত।

দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি
এসেগেল দুর্গাপুজো। অক্টোবরের মাঝামাঝি এবার পড়েছে পুজো। অগাস্ট মাস শেষ হয়ে এলো। সামনেই গণেশ পুজো। তারপরেই বিশ্বকর্মা পুজো। বিশ্বকর্মা পুজো শেষ হলেই হাজির হয়ে যাবে দুর্গাপুজো। মহালয়া পড়তেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়বে। তবে করোনার কারণে গতবার একেবারেই ম্লান ছিল দুর্গাপুজো। এবারও অক্চোবর মাসে থার্ড ওয়েভের শঙ্কা রয়েছে। কাজেই পুজোয় কতটা আনন্দ করা যাবে তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। করোনার কারণে আগের বারের মতোই ম্লান হতে পারে পুজো। একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে পারে। যদিও পুজো কমিটি গুলি করোনা বিধি মেনেই পুজো করার কথা বলেছেন। তার গাইডলাইনও তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা।

পতিতা পল্লির মাটিতে মূর্তি তৈরি
পুজোর তোরজোর চলছে কুমোরটুলিতে। মূর্তিগড়া অনেকটাই সারা। প্রায় শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে সেখানে। বৃষ্টি বাদলার দিনেও কাজের অবসর নেই শিল্পীদের। রথের দিনেই কাঠামোয় মাটি পড়ে। শোনা যায় পতিতা পল্লির মাটি দিয়েই প্রথম প্রতিমা তৈরি শুরু হয়। কিন্তু অনেকেই জানেননা শুধু পতিতা পল্লির মাটি নয় দুর্গা প্রতিমারমাটিতে লাগে আরও অনেক উপকরণ। গাভীর মূত্র, গোবর, ধানের শিস, পবিত্র গঙ্গার জল মেশানো হয় সেই মাটিেত। তাই দিয়েই তৈরি হয় দেবী মূর্তি। পতিতা পল্লির মাটিই কেন লাগে তার ব্যাখ্যা আছে অনেক, যাঁদের সমাজে একঘরে করে রাখা হয়। যাঁদের মনে করা হয় অসূচি। তাঁরাও েয নারী। সেকথা নবে করিয়ে দেয় এই নিয়ম।
পতিতালয়ে যখন কোনও পুরুষ যান তখন তিনি জীবনে সঞ্চিত সমস্ত পুণ্য সেখানেই ফেলে আসেন ৷ আর সংগ্রহ করেন পাপ ৷ সমাজকে শুদ্ধ করে এই পতিতা পল্লিই। সেকারণে পতিতা পল্লির মাটি সবচেয়ে পবিত্র। সেই মাটি দিয়েই তৈরি হয় দেবী মূর্তি।

দেবীর অকাল বোধন
বাসন্তী পুজোই হল মূল পুজো পুজো।তবে রামায়ণে লঙ্কাজয়ের জন্য শরৎকালে আরাধনা করেছিলেন রামচন্দ্র।তারপর থেকেই শরৎকালে দুর্গাপুজো হয়ে থাকে। মহামায়া ৯টি রূপে পুজো করা হন ৷ বাংলার বাইরে নবরাত্রি হিসেবে পালিত হয় এই কয়েকদিন। মহালয়া থেকে শুরু হয় দেবী পক্ষ শেষ হয় দশমীতে গিয়ে। কথিত আছে নবরাত্রির নবম রূপটিই আসলে পতিতালয়ের প্রতিনিধি ৷ মনে করা হয়, সে কারণেও এই রীতি পালন করা হয়ে থাকে। পতিতা পল্লির মাটির দিয়ে মূর্তিতৈরির রীতিটি সেখান থেকে এসেছে বলেও শোনা যায়।

মহিষাসুর বধের একাধিক কাহিনী
নবরাত্রিেত দেবীর নটি রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে। মহাষ্টমীেতই দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। যেই সময়ে মহিষাসুরকে বধকরা হয় তাকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ। পুরানেবর্ণিত হয়েছে একটি বিশেষ মুহূর্তেই কেবল নাত্র মহিষাসুরকে বধকরা যেত। সেটা না দিন না রাত্রি অর্থাৎ দুই সময়ের সন্ধিক্ষণ। কোনও পুরুষ তাঁকে বধ করতেপারতেন না বলেই মহামায়াকে পাঠানো হয়েছিল মহিষাসুর বধ করতে।












Click it and Unblock the Notifications