একের পর এক রোগীর শরীরে ধরা পড়ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস! দ্রুত গাইডলাইন তৈরির পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার
বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাস। প্রত্যেকদিন প্রায় ১৯ হাজার মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হতে হচ্ছেন। কীভাবে এই সংক্রমণের চেন ভাঙা যায় সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের কাছে। যদিও বাংলাতে ১৪ দিনের কার্যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ক
বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাস। প্রত্যেকদিন প্রায় ১৯ হাজার মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হতে হচ্ছেন। কীভাবে এই সংক্রমণের চেন ভাঙা যায় সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের কাছে। যদিও বাংলাতে ১৪ দিনের কার্যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। করা হয়েছে কড়াকড়ি।
করোনা নিয়ে একদিকে যখন চিন্তা বাড়াচ্ছে অন্যদিকে তখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও কপালে ভাঁজ বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত আরও বেশ কয়েকজন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত পাঁচ
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বাংলাতেও। গত কয়েকদিন আগেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৫ জনের শরীরে এই ছত্রাকের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এরপরেই প্রত্যেক রাজ্যকে এই বিষয়ে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাসের মতোই এই তথ্য দিতে হবে। সেই মতো রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সমস্ত জেলাতে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তথ্য দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

গাইডলাইন তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য
পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দ্রুত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য। এ বিষয়ে বুধবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গে ৫ জন রোগীর শরীরে এই ছত্রাকের সংক্রমণের খবর জানার পরই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে , বৈঠকে বিভিন্ন জেলা থেকে সংক্রমণ সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তার ভিত্তিতে রাজ্যবাসীর জন্য ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা তৈরি করার কথা ভাবছে স্বাস্থ্য দফতর।

কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেই দেখা যায় এই রোগ
এই বিশেষ প্রজাতির ছত্রাক সংক্রমণ সাধারণ কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেই দেখা যায়। তবে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ৫ জনই করোনা রোগী নন। সূত্রের খবর, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে আর এক জন রোগী ভর্তি ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দিন পাঁচেক আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকলে এটিই হবে রাজ্যে এই বিশেষ ছত্রাক সংক্রমণে প্রথম মৃত্যু। তবে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের হাতে মিউকোরোমাইকোসিসের ওষুধ অ্যাম্ফোটেরাইসিন বি যথেষ্ট পরিমাণে মজুত আছে। তাই এই রোগের চিকিৎসায় অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরোমাইকোসিসের সংক্রমণকে ইতিমধ্যেই 'মহামারি' বলে ঘোষণা করেছে রাজস্থান এবং তেলঙ্গানা সরকার। মহারাষ্ট্রেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ইতিমধ্যেই ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় হাজার। আর এরপরেই গাইড লাইন তৈরির ভাবনা চিন্তা।

ওষুধ নিয়ে চিন্তায় মমতা
বৃহস্পতিবার করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। কিন্তু সেখানে কোনও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় মমতা বলেন, "কোথা থেকে একটা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এসেছে। ইতিমধ্যে রাজস্থান একে মহামারী ঘোষণা করেছে। আমাদের রাজ্যে চারজনের দেহে এই রোগের হদিশ মিলেছে। এগুলো নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ এ নিয়ে একটি কথাও বলতে দেওয়া হয়নি বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হলে যে ওষুধ দেওয়া হবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলি কেন্দ্রের ভান্ডারে থাকে। কেন্দ্রের এই ভূমিকা কোভিড পরিস্থিতিতে আরও সংকট তৈরি করছে বলে মত মমতার।












Click it and Unblock the Notifications