শুভেন্দুর দলত্যাগ কি তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক, একুশের আগে সিঁদুরে মেঘ
শুভেন্দুর চলে যাওয়া কি তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক, একুশের আগে সিঁদুরে মেঘ
একুশের আগে সিঁদুরে মেঘ দেখা দিয়েছে তৃণমূলের আকাশে। তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দল ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসছে তৃণমূলে ইস্তফার। এই যে গণ ইস্তফার রেওয়াজ চলছে, তাতেই তৃণমূলে ভেসে যাবে না তো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন খাঁড়া করে দিয়েছে।

শুভেন্দু ছিলেন মমতার বিশ্বস্ত সেনাপতি
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের একটা স্তম্ভ ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিউক্লিয়াস হতে পারেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারবেন না। শুভেন্দু আদতে একজন জননেতা। আবার দক্ষ সংগঠকও। বিগত ৮-৯ বছরে, যখনই কোনও ক্রাইসিস পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সবথেকে গুণী সেনাপতিকে পাঠিয়েছেন অভিযানে

তৃণমূলের বিস্তারের পিছনে ছিল শুভেন্দুর হাত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি সাফল্যের সঙ্গে তা পালন করেছেন। মুর্শিদাবাদ বা মালদহে তৃণমূলের বিস্তারের পিছনে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একা কাঁধে পাঁচ পাঁচটি জেলার দায়িত্ব সামলেছেন। সংগঠন বাড়িয়ে তুলেছেন। এহেন শুভেন্দুর না থাকা একটা ফ্যাক্টর তো হবেই।

শুভেন্দুকে হারিয়ে মমতার দল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে
শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তা শুধু তাঁর খাসতালুক পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি আটটি জেলায় নিজেকে বিস্তার লাভ করিয়েছেন কম করে। স্বল্প প্রভাব রয়েছে অন্যান্য আরও ৮-১০টি জেলাতেও। ফলে মমতার দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে হারিয়ে।

শুভেন্দুকে নেতা মেনে ইস্তফার হিড়িকে বিপাকে তৃণমূল
শুভেন্দু যে একটা মস্তবড় ফ্যাক্টর হবেন, তার বড় প্রমাণ তিনি দল ছাড়ার পরই জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের ইস্তফা। শুধু জনপ্রতিনিধিরাই নন, সংগছনের অনেক নেতাও শুভেন্দুর সঙ্গে থাকার জন্য দল ছাড়ছেন। এমনকী তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুভেন্দুকে নেতা মেনে ইস্তফার হিড়িক তৃণমূলকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে একুশের আগে।

শুভেন্দুর দলত্যাগে আখেরে লাভ বিজেপিরই!
শুভেন্দু এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন। তিনি যদি এই মর্মে তৃণমূলকে ভাঙিয়ে আনতে পারেন, তবে তিনি যে দলেই নাম লেখান না কেন, সেই দল তো শক্তিশালী হবেই, উল্টে শসাকদল তৃণমূল শক্তি হারাবে। এই অবস্থায় আখেরে লাভ বিজেপিরই। শুভেন্দু দল ছাড়ায় লভ্যাংশ পেয়ে গিয়েছে। এবার দলে যোগদান করলে সেই লাভের গুড় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

শুভেন্দুর সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক!
শুভেন্দু দলত্যাগ করায় তৃণমূলের শক্তি অনেক কমে যাবে। অনেক বিশেষজ্ঞ তো মনে করছেন তৃণমূলের শক্তি না হাফ হয়ে যায়। তাহলে একুশে বিজেপির কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকে জয় পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে যাবে তৃণমূলের পক্ষে। বিজেপি এমনিতেই শক্তি বাড়িয়েছে বাংলায়। তারপর শুভেন্দু অধিকারী যে সিদ্ধান্ত নিলেন, তাতে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পজিশনে চলে গিয়েছে। ফলে শুভেন্দুর নয়া সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতেই পারে।












Click it and Unblock the Notifications