ভোটব্যঙ্কে ধস নামার আতঙ্কে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেসও, সিএএ-এনআরসি শিকেয় উঠল একুশে
ভোটব্যঙ্কে ধস নামার আতঙ্কে বিজেপি-তৃণমূলও, সিএএ-এনআরসি শিকেয় উঠল একুশে
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিএএ ও এনআরসি ইস্যু হতে পারে এবার এমনই আবহ তৈরি হয়েছিল ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের পর। বিশেষ করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সিএএ আইন প্রণয়নের পর বাংলার ভোটে প্রচার যুদ্ধে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আবহে বাংলার ভোটের লড়াই মোড় নিয়েছে অন্য দিকে।

সিএএ বা এনআরসির মতো মারকাটারি ইস্যু উধাও
সিএএ বা এনআরসিকে সরিয়ে উন্নয়ন আর দুর্নীতিই মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে। তৃণমূল উন্নয়নের ডালি সাজিয়ে জনতার দরবারে যাচ্ছে আর বিজেপি তৃণমূলের দুর্নীতিকেই তুলে ধরছে। কিন্তু সিএএ বা এনআরসির মতো মারকাটারি ইস্যু কেন থমকে গেল। কেন বিজেপি বা তৃণমূল তা সামনে আনছে না? সম্প্রতি শান্তনু ঠাকুর এই প্রসঙ্গ তুলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

‘কোন মুখে মতুয়া গোষ্ঠীর কাছে গিয়ে ভোট চাইব’
শান্তনু ঠাকুর দাবি করেছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিএএ নিয়ে কোনও স্পষ্ট বিবৃতি দেননি। সিএএ লাগু না হলে কোন মুখে মতুয়া গোষ্ঠীর কাছে গিয়ে ভোট চাইব। তারা কেনই বা ভোট দেবে। কেননা ২০১৯-এ নাগরিকত্ব প্রদানের বার্তা দিয়েই ভোট চেয়েছিলেন শান্তনু। মতুয়ারা দু-হাত ভরে ভোট দিয়েছিল তাদের।

একুশের ভোটের আগে বা পরে লাগু হবে আইন, আশ্বাস
শান্তনু বেসুরো বাজতে শুরু করলেও বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বরফ গলিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা এই ধারণায় বিশ্বাসী করে তুলেছেন যে বিজেপি যেহেতু সিএএ প্রণয়ন করেছে, তা লাগুও করবে বিজেপি। করোনা পরিস্থিতির জন্য লাগু করতে বিলম্ব হয়েছে। একুশের ভোটের আগে না হলেও পরে লাগু হবে আইন।

মতুয়া অধ্যুষিত ও উদ্বাস্তু এলাকায় উঠবে সিএএ প্রসঙ্গ
ফলে সিএ-কে ঘুরিয়ে ইস্যু করবে বিজেপি। তার পাল্টাও দেবে তৃণমূল। এই ইস্যুতে প্রচার জমবে শুধুমাত্র মতুয়া অধ্যুষিত ও উদ্বাস্তু এলাকায়। বাকি বাংলায় সিএএ নিয়ে কোনও পক্ষই সুর চড়াবে বলে মনে হয় না। নাগরিকত্ব ইস্যুতে সেভাবে লাভ দেখছে না কেউই। কেননা বিজেপির আবার এনআরসি কাঁটা আছে। অসম-অস্ত্র তখন প্রয়োগ করবে তৃণমূল।

ভোটে সব ফেলে দুর্নীতিই মস্ত বড় ইস্যু বাংলায়
অনেক ভেবে-চিন্তেই সিএএ বা এনআরসি ইস্যু শিকেয় তুলে রাখছে বিজেপি। শুধু যেখানে না বললে নয়, সেখানে বুড়ি ছুঁয়ে যাবে তারা। এবার ভোটে সব ফেলে দুর্নীতিই মস্ত বড় ইস্যু হয়ে উঠছে। করোনার আবহে তৃণমূলের নেতাদের দুর্নীতিকে পাথেয় করে বিজেপি মাত দিতে চাইছে। আর বিজেপিকে আটকাতে উন্নয়নকেই ঢাল করেছে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications