মুকুলের হাত ধরে এবার ভাঙন তৃণমূলে! ১৬ বছরের সম্পর্ক ছিন্নের পথে ছাত্রনেতা
মুকুলের হাত ধরে এবার ভাঙন তৃণমূলে! ১৬ বছরের সম্পর্ক ছিন্নের পথে ছাত্রনেতা
ফেসবুকে গেরুয়া রংয়ের পটভূমিকায় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তৃণমূলের ছাত্রনেতা। তখন থেকেই জল্পনা শুরু। শেষে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। বুধবারই বিজেপির নির্বাচনী দফতর হেস্টিংসে তৃণমূলের ছাত্রনেতা সুজিত শ্যাম যোগ দেবেন বিজেপিতে। ছিন্ন হবে ১৬ বছরের সম্পর্ক।

ফেসবুকে গেরুয়া রংয়ের স্ট্যাটাসে কী লিখলেন তৃণমূল নেতা
বাঁকুড়ার বাসিন্দা ছাত্রনেতা সুজিত শ্যাম ফেসবুকে গেরুয়া রংয়ে স্ট্যাটাসে লেখেন- ‘১৬ বছরের সম্পর্ক ভাঙা সহজ নয়। কিন্তু জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন সামনে তাকাতে হয়।' সুজিত ২০০৪ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বাঁকুড়ায় মুনমুন সেনকে জেতাতে বিশেষ ভূমিকাও পালন করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের মূলস্রোত থেকে হারিয়ে যেতে থাকেন।

মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই
সুজিতের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দল তা পালন করেনি। তিনি তৃণমূলে বিক্ষুব্ধ নেতার ভূমিকা পালন করছিলেন। আসলে তিনি ছিলেন মুকুল-ঘনিষ্ঠ। ফলস্বরূপ মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই সুজিত শ্যামকে নিয়ে আগ্রহ হারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেননি সুজিত শ্যাম
মুকুল রায় যখন তৃণমূলে বিক্ষুব্ধ ছিলেন, তখনও সুজিতকে বেশ কিছু কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছিল। তখন তৃণমূল মনে করেছিল সুজিতও মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেবেন। কিন্তু তিন বছর তিনি মুখ বুজে তৃণমূলেই থেকেছেন। এবার তিনি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মুকুলের হাত ধরে শেষ পাড়ি দিলেন পদ্মফুলে।

মুকুল বিজেপিতে যাওয়ার পরও সুজিতের সঙ্গে যোগাযোগ
মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পরও সুজিতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তবে সেই যোগযোগ ছিল ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে। এবার তা থেকে রাজনৈতিক যোগাযোগও তৈরি হওয়া চূড়ান্ত হয়ে গেল। সুজিত বলেন, মুকুলদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যে তৃণমূলকে দেখে রাজনীতিতে এসেছিলাম, সেই তৃণমূল এখন আর নেই। তাই দল ছাড়তেই হচ্ছে।

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভগ্নপ্রায় দশা নিয়ে সরব ছাত্র নেতা
সুজিতের কথায়, আমি একজন ছাত্র নেতা। একজন ছাত্রনেতা হয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভগ্নপ্রায় দশা দেখে কষ্ট হয়। বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ছানগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবার বুঝতে পারবেন, ছাত্র আন্দোলন কোথায় যাবে।












Click it and Unblock the Notifications