রাজ্যপালকে ‘বয়কট' করার পথে রাজ্য! জগদীপ ধনখড়ের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছেন মমতা
একাধিক ইস্যুতে বারবার রাজভবন-নবান্ন সংঘাত তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সহ একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কথায় কথায় টুইট করেছেন। রাজ্য প্রশাসনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
একাধিক ইস্যুতে বারবার রাজভবন-নবান্ন সংঘাত তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সহ একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কথায় কথায় টুইট করেছেন।
রাজ্য প্রশাসনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কিন্তু কখনও সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার সে পথেই হাঁটতে চলেছেন তিনি। এতদিন তৃণমূলের তরফে বারবার ধনখড়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এমনকি রাজ্যপালের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কড়া পথে হাঁটতে চলেছেন।
রাজ্যপাল পদে জগদীপ ধনখড়ের অপসারণ চেয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিতে চলেছেন তিনি। জানা যাচ্ছে। সমস্ত মাত্র ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর সে কারণে এবার কড়া চিঠি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিতে চলেছেন মমতা।
সুত্রের খবর, রাজ্যপালের অপসারণ বিষয়ে এবারে সত্যিই 'সিরিয়াস' মমতা। এমনকী প্রয়োজনে বিধানসভায় তাঁর অপসারণের দাবিতে প্রস্তাবও পেশ করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। জগদীপ ধনকড় এরাজ্যের রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই কার্যত সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
একেবারে শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা সরকারের বহু নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত বাংলায় পরিবর্তনেরও ডাক দেন তিনি। যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়।
এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ওনার তো কোনও কাজ নেই। কিছু তো করতে হবে। এই সব করুন। কার্যত কিছুটা ক্ষোভ এভাবেই প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এখানেও থামেননি তিনি।
কার্যত নজিরবিহীনভাবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথের দিনও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাঁকে খোঁচা দিয়েছেন ধনকড়। একই কাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন মন্ত্রীদের শপথের দিনও।
তবে, রাজ্যপালের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ চরমে উঠেছে দুটি ঘটনায়। প্রথমত, রাজ্য সরকারের অনুমতি না নিয়ে তিনি বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলেন 'ভোট পরবর্তী হিংসা' খতিয়ে দেখতে। এবং দ্বিতীয়ত তৃতীয় মন্ত্রিসভার শপথের ঠিক আগে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী এবং বিধায়কদের বিরুদ্ধে নারদ মামলায় পদক্ষেপ করার অনুমতি দিয়ে দেন।
যার জেরে রাজ্যের দুই মন্ত্রী, এক বিধায়ক ও এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। যদিও রাজ্যপালের তদন্তে সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার মতো এক্তিয়ার আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঃঠে। যেখানে বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার, স্পিকার রয়েছে। আর এই নিয়েই এখন আইনি লড়াই চলছে।
অন্্যদিকে, রাজ্যের দুই মন্ত্রী এবং এক বিধায়কের গ্রেফতারের পরেই উত্তেজনা ছড়ায়। সিবিআই দফতরের বাইরে ভিড় বাড়তে থাকে। যদিও তা একটা সময় ব্যাপক আকার নেয়। কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেই সময় রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল।
এমনকী, সিজিও কমপ্লেক্সে থাকাকালীনই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন বলে সূত্রের খবর। দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। সুত্রের খবর, এরপরই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে মুখ্যমন্ত্রীর। এবার রাজ্যপালকে অপসারণের ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি।
প্রথমে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখবেন। তারপর রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাবও পাশ করাবে তৃণমূল। এই রাজ্যপালকে 'বয়কট' করার ডাকও দেওয়া হতে পারে। এমনটাই বাংলা এক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications