শুভেন্দু ঝড়ে মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন সংখ্যালঘু নেতারাও, রক্ষা হবে তৃণমূলের 'ভোটব্যাঙ্ক'?
২০২১-এর আগে একের পর এক ধাক্কা। এবার তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কবিরুল ইসলাম। এই মর্মে সেলের রাজ্য সভাপতি হাজি শেখ নুরুল ইসলামের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। পদত্যাগ করেই কবিরুলের স্পষ্ট বক্তব্য, 'আগামী দিনে আমি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে থাকব।'

আজ দল ছাড়েন শীলভদ্র দত্ত
শুভেন্দু-জিতেন্দ্রর পর আজ দল ছাড়েন শীলভদ্র দত্ত। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল ত্যাগের বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়ে দেন তিনি। ঠিক কী কারণে তিনি ঘাসফুল শিবির ছাড়লেন, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনও আলোকপাত করেননি শীলভদ্রবাবু। তবে প্রেসের মুখোমুখি হওয়ার সময় তাঁর পিছনে 'গেরুয়া' রেখা ছিল স্পষ্ট।

সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ
তৃণমূলের এই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই কবিরুল ইসলামের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে তৃণমূল। এদিন হাসনাবাদের ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টারও দল ও জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের পদ ছাড়েন। তিনিও বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের চিন্তা, অন্তত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কটা টিকে থাকবে তো?

বাংলার রাজনৈতিক পেক্ষাপটের পরিবর্তন
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলার রাজনৈতিক পেক্ষাপটের অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে৷ বাম-কংগ্রেস বারেবারেই অভিযোগ করে এসেছে, এরাজ্যের সংখ্যালঘুদের তোষণ করছে তৃণমূল৷ এই পরিস্থিতিতেই বাংলার মাটিতে উত্থান হয় মিমের৷ এরই মাঝে এবার পরপর সংখ্যালঘু নেতারাও শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপির পথে। যার জেরে চিন্তার রেখা দীর্ঘায়িত হয়েছে মমতার কপালে।

মুসলিমরা শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত
বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে মুসলিমরা শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত। তাঁদের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। এই আবহে এদিন দলের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কবিরুল ইসলাম। একের পর এক ইস্তফায় উদ্বেগ বাড়ছে শীর্ষ নেতৃত্বের। শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়িতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লিস্ট শেষ কোথায়?
বর্তমানে যা পরিস্থিতি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের কেউই জানেন না এই দলবদলের হিড়িক কোথায় গিয়ে শেষ হবে। এর আগে মমতা বলেছিলেন যে নেতা দিয়ে দল হয় না, কর্মী দিয়ে হয়। তবে শুভেন্দুর দলত্যাগের পরই যেভাবে কর্মীরা পর্যন্ত জনসমক্ষে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছাড়ছেন, তাতে তৃণমূলের অস্তিত্বই সংকটে পড়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications